সৌদি আরবের হিন্দু সভ্যতার খোঁজ, মিললো পুরনো মন্দির-বেদি

বিগত কয়েক দশক ধরেই প্রত্নতাত্ত্বিকদের কাছে প্রবল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে আল ফাও। দীর্ঘ সময় ধরেই এখানে গবেষণা চালিয়ে একের পর এক ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করছেন ভূতাত্ত্বিকরা। তাঁদের মতে সৌদি আরবের এই রাজধানী শহরেই এখনও প্রাচিন সভ্যতার অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথি লুকিয়ে রয়েছে।

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াধে (Riyadh) এবার মিললো হিন্দু সভ্যতার অস্তিত্ব। সম্প্রতি রিয়াধের দক্ষিণ পশ্চিমে ৮ হাজার বছরেরও পুরনো একটি মন্দিরের (Temple) হদিশ পেয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিক (Archaeology Department) বিভাগ। তবে শুধু মন্দির বললে ভুল হবে সন্ধান মিলেছে একটি পুরনো যজ্ঞবেদিরও। আর এই সমস্ত ধ্বংসাবশেষের চিহ্ন মিলতেই প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা এক সময় সৌদি আরবের (Saudi Arabia) মতো জায়গাতেও হিন্দু সভ্যতার অস্তিত্ব ছিল। পাশাপাশি এমন আরও অনেক ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গিয়েছে, যার উপর দেবতাদেরও ছবি দেখতে পাওয়া গিয়েছে। মনে করা হচ্ছে, আল ফাওয়ের বাসিন্দারা এখানে এসে নিয়মিত দেবদেবীদের উপাসনা করতেন। সম্প্রতি সৌদি আরব ও ফ্রান্সের প্রত্নতাত্ত্বিকদের সংগঠন সৌদি আরবীয় হেরিটেজ কমিশন এই খনন কাজ করে। তারপরই সন্ধান মেলে মন্দির ও বেদির।

সৌদি আরবীয় হেরিটেজ কমিশনের (Saudi Arabia Heritage Commission) প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এখানে মানব-বসতির ধ্বংসাবশেষ ও ১ হাজার ৮০৭টি কবর পাওয়া গিয়েছে। ধ্বংসাবশেষগুলি থেকে বোঝা যায়, এখানে একসময় মানুষ বসবাস করত। মন্দির এবং যজ্ঞবেদি হিন্দু সভ্যতার প্রমাণ দেয়। শুধু আল-ফাও-তে পাওয়া ধ্বংসাবশেষই নয়, কিছু শিলালিপি (Stone Inscription) থেকে বোঝা গিয়েছে, তখনকার মানুষ কতটা ধর্মপ্রাণ ছিলেন।

পাশাপাশি কমিশন তাদের রিপোর্টে উল্লেখ করেছে সেই সভ্যতায় সেচ ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত জটিল। খাল, জলাশয় ছাড়াও প্রচুর গর্ত খনন করা হতো সেই সময়। আর সেখান থেকেই বৃষ্টির জল খেত মানুষ। এছাড়া মরুভূমিতেও জল সংরক্ষণের জন্য মানুষকে কঠোর পরিশ্রম করতে হতো। এছাড়া আল-ফাওয়ের পূর্বে অবস্থিত তুওয়াইক পর্বতের পাশেও একটি পাথুরে মন্দিরের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছে। পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ৮ হাজার বছর নিওলিথিক যুগের বসতির ধ্বংসাবশেষও মিলেছে। বিভিন্ন সময়কালের ২ হাজার ৮০৭টি কবরও সেখানে খুঁজে পাওয়া গিয়েছে। তবে ধ্বংসাবশেষের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিলালিপি উদ্ধার হয়েছে, যেখানে আল ফাওয়ের সাধারণ মানুষ কাহাল নামে এক ঈশ্বরের উপাসনা করতেন বলে খবর। এছাড়া সন্ধান পাওয়া গিয়েছে বহু অট্টালিকা, মিনার ও মুক্ত উদ্যানের।

বিগত কয়েক দশক ধরেই প্রত্নতাত্ত্বিকদের কাছে প্রবল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে আল ফাও। দীর্ঘ সময় ধরেই এখানে গবেষণা চালিয়ে একের পর এক ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করছেন ভূতাত্ত্বিকরা। তাঁদের মতে সৌদি আরবের এই রাজধানী শহরেই এখনও প্রাচিন সভ্যতার অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথি লুকিয়ে রয়েছে।

Previous articleরাম-বামের বিক্ষোভে জেরবার, অব্যহতি চেয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি রবীন্দ্রভারতীর উপাচার্যের