অবশেষে অনেক বিদ্রোহ-বিপ্লবের পর তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ পদ ছাড়লেন সুখেন্দু শেখর রায়। তৃণমূলের এই কঠিন সময়ে সাংসদ পদ ছাড়ার কারণে দলীয় মহলে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে স্বাভাবিকভাবেই।

আরজিকর ঘটনার সময়ে সুখেন্দু (Sukhendu Sekhar Ray) দলের মধ্যেই বিদ্রোহ করে চলে গিয়েছিলেন ধরনা মঞ্চে। পছন্দ হয়নি দলের অবস্থান। খোলা মঞ্চে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, আমিও মেয়ের বাবা। বিবেকের তাড়নায় এখানে এসেছি। তৃণমূল কংগ্রেস সুখেন্দুর সেই তাড়নাকে মর্যাদা দিয়েছিল। একটি শব্দও প্রকাশ্যে বলা হয়নি। শুধু দলের মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছিল, দলের নীতি-কাজ পছন্দ না হলে সাংসদ পদ (MP post) ছেড়ে দিন। কিন্তু সুখেন্দু সে সব না করে গোটা ঘটনার জন্য নেত্রীর কাছে ক্ষমা চেয়ে ফের দলের মূল স্রোতে ফিরে আসেন।

আরও পড়ুন : আজ দিল্লিতে বৈঠকে ইন্ডিয়া জোট: আলোচনায় নাগরিক থেকে জাতীয় স্বার্থ

বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের হারের পর ফের উলটো সুর। বিদ্রোহীদের পাশে থেকে দল ভাঙায় মদত। সাংবাদিকরা তাঁকে দিল্লির কোয়ার্টারেও পাচ্ছিলেন না। এই অবস্থায় সোমবার সকালে সাংসদ পদ থেকে পদত্যাগ। এর পরেই দলের অভ্যন্তরে প্রশ্ন তুলেছেন সুখেন্দুর সহকর্মীরাই। তাঁদের বক্তব্য, আরজিকরের ঘটনার সময়েই ওনার (Sukhendu Sekhar Ray) পদত্যাগ করা উচিত ছিল, যেমন জহর সরকার পদত্যাগ করেছিলেন। কেন তখন তিনি সাংসদ পদ (MP post) ছাড়লেন না? দলের সেই সিনিয়র নেতাটির বক্তব্য, আসলে আরজি করের সময়ে সুখেন্দু শেখর জানতেন, তিনি সরে গেলে নেত্রী বিকল্প লোককে সাংসদ করে নিয়ে আসবেন। তাই সেই সুযোগটা দিতে চাননি। আর এখন কেন পদত্যাগ করলেন। কারণ, তিনি জানেন দলীয় কোন্দলে বিদীর্ণ এবং ভেঙে যাওয়া তৃণমূলের পক্ষে তাঁর জায়গায় বিকল্প সাংসদকে আর জিতিয়ে আনা সম্ভব নয়। এটা আসলে বিজেপিকে সুযোগ করে দেওয়া। আসলে বিজেপির হাতে তামাক খাওয়ার পর ওনার অন্য আর কিছু করার ছিল না।

–

–

–

–
–
–
