অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে কমলেও এদেশে বাড়ছে কেন ?

আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড বা অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম গত দু’তিনমাস ধরে অস্বাভাবিক কম হলেও ভারতে কিন্তু চলতি মাসে পেট্রল ও ডিজেল রেকর্ড দামে বিক্রি হচ্ছে।সরকার নিয়ন্ত্রিত অয়েল মার্কেটিং কোম্পানিগুলো (ওএমসি) জুলাই মাসেই একাধিকবার পেট্রল ও ডিজেলের দাম বাড়িয়েছে।যার ফলে বিভিন্ন রাজ্যের বাসিন্দারা প্রতি লিটার ১০০ টাকার বেশি দাম দিয়ে পেট্রল ও ডিজেল দুটোই কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।মুম্বাই বা ভোপালে পেট্রলের দাম প্রায় ৯৫ টাকা লিটারে পৌঁছে গেছে।

পেট্রল ও ডিজেলের ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে কংগ্রেস সারা দেশ জুড়ে তুমুল বিক্ষোভ দেখিয়েছে।পথে নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসও।  কংগ্রেসের বক্তব্য, এই বছর দুয়েক ধরে মহামারিতে দেশ এমনিতেই সঙ্কটে।  জ্বালানি তেলের এই বর্ধিত দাম অবিলম্বে প্রত্যাহার করা উচিত।”সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে জোর করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায় করছে” বলেও অভিযোগ করেছে কংগ্রেস।এদেশে পেট্রল পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেলের দাম কত হবে, সেটা আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওপর সরাসরি নির্ভর করবে (‘লিঙ্কড’) – কেন্দ্রীয় সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ২০১৪ সালেই।

আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল ক্রুডের দাম এখন চল্লিশ ডলারের আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে। মার্চের মাঝামাঝি থেকে মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত তা বিশ থেকে তিরিশ ডলারের মধ্যেই ছিল।ক্রুড বা অপরিশোধিত তেলের দাম এত কম হওয়া সত্ত্বেও এদেশের ক্রেতাদের পাম্পে জ্বালানি তেলের জন্য এত বেশি দাম দিতে হচ্ছে কেন, সে প্রশ্ন তাই সঙ্গত কারণেই উঠছে।

আসলে আমরা যে দামে পাম্প থেকে জ্বালানি তেল কিনি, তার মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশই বিভিন্ন ধরনের সরকারি ট্যাক্স ও এক্সাইজ ডিউটি।কেন্দ্র ও বিভিন্ন রাজ্যের সরকার তেলের দামে এই ট্যাক্স বসিয়ে থাকে।গত ১৪ মার্চ কেন্দ্রীয় সরকার পেট্রল ও ডিজেলের দামে প্রতি লিটারে ৩ টাকা করে এক্সাইজ ডিউটি বাড়িয়ে দেয়।এরপর ৫ মে প্রতি লিটার পেট্রলে আরও ১০ টাকা ও প্রতি লিটার ডিজেলে আরও ১৩ টাকা এক্সাইজ ডিউটি বসানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

এই দুই দফা বাড়তি শুল্ক বসানোর মাধ্যমে সরকার ২ লক্ষ কোটি টাকা অতিরিক্ত কর আদায়ের পরিকল্পনা নিয়েছিল।ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও ভীষণভাবে কমে যাওয়ায় সেই সিদ্ধান্ত রূপায়নে তেল কোম্পানিগুলির খুব সুবিধে হয়েছিল।কিন্তু জুনের প্রথম সপ্তাহে ব্যারেল প্রতি ক্রুডের দাম ফের চল্লিশ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছতেই ভারতে তেলের দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায় – যা থামার কোনও লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না।

এরই পাশাপাশি ” করোনা মহামারির জন্য ভারত-সহ সারা বিশ্বের অর্থনীতিই এক অত্যন্ত কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এপ্রিল-মে মাসে ভারতে পেট্রলের চাহিদা প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কমে গেছে, অর্থনীতিতে যার মারাত্মক প্রভাব পড়েছে!”দাম কমানোর ব্যাপারে সরাসরি কোনও আশ্বাস না-দিলেও কেন্দ্র জানিয়েছে, “এখন আবার ধীরে ধীরে চাহিদা বাড়ছে। তেলের দাম নিয়ে কোনও পূর্বাভাস করা যায় না।তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম একটু স্থিতিশীল হলে ভারতেও পেট্রল-ডিজেলের দাম স্থিতিশীল হয়ে যাবে বলে সরকার আশা করছে।”

 

 

 

Previous articleঝাড়খণ্ডের ৩ বিধায়ক কেন যাচ্ছিলেন মন্দারমণি? নজরে বঙ্গ বিজেপির নেতা ও তাঁর ভাই