মূল্যবৃদ্ধি সহ একাধিক ইস্যুতে দিল্লিতে বিক্ষোভ কংগ্রেসের, বিজয় চকে আটক রাহুল

কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) সহ একাধিক কংগ্রেস সাংসদকে (Congress MP) আটক করল দিল্লি পুলিশ (Delhi Police)। মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব এবং একাধিক পণ্যের উপর জিএসটি বসানোর প্রতিবাদে শুক্রবার রাজধানী শহরে তুমুল বিক্ষোভ (Protest) আন্দোলন শুরু করেছে কংগ্রেস (Congress)। আর সেই কারণেই এদিন একটি মিছিল নিয়ে সংসদ থেকে রাষ্ট্রপতি ভবনের (President Bhawan) দিকে যাচ্ছিলেন রাহুল। তবে বিজয় চক পৌঁছনোর আগেই তাঁকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। পাশাপাশি এদিন রাহুল সহ একাধিক কংগ্রেস সাংসদকে মারধর ও টেনে হিঁচড়ে বাসে তোলার অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর (Central Force) বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে উত্তাল সংসদ চত্বর। এদিন কংগ্রেস সাংসদদের সবাইকে কালো পোশাক পরে বিক্ষোভে সামিল হতে দেখা যায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখানোর কথা ছিল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের। তবে পুলিশি বাধার মুখে পড়ে এদিন রাস্তায় বসে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন সাংসদরা।
রাহুল গান্ধী জানিয়েছেন, এদিন কংগ্রেস সাংসদরা মিছিল করে রাষ্ট্রপতি ভবনের দিকে যাচ্ছিলেন। কিন্তু রাষ্ট্রপতি ভবনে পৌঁছনোর আগেই সাংসদের বাধা দেয় পুলিশ। পাশাপাশি পুলিশের বিরুদ্ধে কয়েকজন সাংসদকে মারধরেরও অভিযোগ তুলেছেন রাহুল।
শুক্রবার সকালেই সাংবাদিক সম্মেলন (Press Conference) করেন রাহুল গান্ধী। নাম না করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে হিটলারের সঙ্গে তুলনা করেন কংগ্রেস নেতা। রাহুল বলেন, হিটলারও ভোটে জিততেন। কিন্তু কীভাবে জিততেন? জার্মানির সমস্ত প্রতিষ্ঠানকে নিজের দখলে রাখতেন। আমায় সমস্ত প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ দিলে আমিও দেখিয়ে দেব, কীভাবে ভোটে জিততে হয়! আমার কাজ হল আরএসএসের মতবাদকে প্রতিহত করা। আমি তাই করে যাচ্ছি। আমি যত বেশি এমনটা করব, আমাকে তত বেশি আক্রমণ করা হবে। তবে আমাকে কেউ আক্রমণ করলে খুশি হই। আক্রমণ থেকে শিক্ষা নিই।
তবে এখানেই থেমে থাকেননি রাহুল। এদিন মোদি-শাহকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করে তিনি। রাহুল বলেন, ওরা ভেবেছে, আমরা ভয়ে চুপ করে যাব। নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহের এটাই কাজ। জেনে রাখুন, আমি মোদিকে ভয় পাই না। দেশে গণতন্ত্র আজ সংকটের মুখে। সেই গণতন্ত্রকে বাঁচানো এবং রক্ষা করার জন্য কংগ্রেস লড়াই চালিয়ে যাবে। বিজেপির বিরুদ্ধে কংগ্রেসের লড়াই জারি থাকবে।
অন্যদিকে ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলায় এবার ইডির প্রশ্নের মুখে পড়েন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা তথা সাংসদ মল্লিকার্জুন খাড়গে। বৃহস্পতিবার তাঁকে বেআইনি আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত মামলায় সাত ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করে ইডি। মল্লিকার্জুন খাড়গে ইয়ং ইন্ডিয়ার প্রতিনিধি হওয়ায়, বৃহস্পতিবার তাঁকে ডেকে পাঠায় ইডি। টানা সাত ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে সওয়াল জবাব। এরপর রাত ৯টা নাগাদ প্রবীণ কংগ্রেস নেতাকে ইডি দফতর থেকে বেরতে দেখা যায়।

 

Previous articleসময়ের আগেই বাদল অধিবেশন শেষ করার পরিকল্পনা! প্রতিবাদে সরব তৃণমূল