Wednesday, April 8, 2026

টাকার বিনিময়ে নিউ ইয়র্ক টাইমসে কেজরির প্রশংসার অভিযোগ বিজেপির, পালটা তোপ সংবাদপত্রের

Date:

Share post:

দিল্লি শিক্ষামন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়ার(Manish Sisodia) দৌলতে দিল্লির(Delhi) শিক্ষা ব্যবস্থার প্রশংসা করে নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত হয়েছে প্রতিবেদন। এই ঘটনায় টাকা দিয়ে এই প্রতিবেদনকে ছাপানো হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ করেছে বিজেপি। এরপরই পালটা বিবৃতি এল খোদ নিউ ইয়র্ক টাইমস থেকে। তাদের তরফে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে নিরপেক্ষ এবং বাস্তবসম্মত গবেষণার ভিত্তিতেই দিল্লি সরকারের শিক্ষা মডেলের প্রশংসা করেছে তাঁরা।

গত শুক্রবার দিল্লির উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়ার বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। এর পর থেকে আম আদমি পার্টি ও বিজেপির সংঘাত চুড়ান্ত আকার ধারণ করেছে। এদিকে সেদিনই দিল্লি সরকারের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রশংসা করে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় নিউ ইয়র্ক টাইমসে। এই প্রেক্ষিতে আপ সুপ্রিমো তথা দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল দাবি করেন, শুক্রবারই দিল্লির শিক্ষা মডেলের প্রশংসা করে প্রতিবেদন পেশ করেছে নিউ ইয়র্ক টাইমস (New York Times)। বিশ্বের দরবারের ভারতের সম্মান বাড়িয়েছে দিল্লি। সেই সাফল্য সহ্য করতে না পেরেই ‘উপহার’ হিসাবে মণীশ সিসোদিয়ার বাড়িতে কেন্দ্রীয় এজেন্সি পাঠাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি (Narendra Modi)। পালটা দিল্লি সরকারের সমালোচনা করতে মাঠে নামতে দেখা যায় বিজেপির (BJP) আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্যকে।

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মালব্য জানান, কেজরিওয়াল সরকারি অর্থ খরচ করে নিজের বিজ্ঞাপন করছে। নিউ ইয়র্ক টাইমস যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, সেটি আসলে অর্থের বিনিময়ে করা বিজ্ঞাপন। দিল্লি বিজেপির প্রথম সারির নেতা মনোজ তিওয়ারিও একই দাবি করেন। এরপরই সংবাদসংস্থা পিটিআই নিউ ইয়র্ক টাইমসের সঙ্গে যোগাযোগ করে। সংবাদসংস্থার প্রশ্নের জবাবে নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়ে দেয়, “তাঁদের সাংবাদিকতা সবসময় নিরপেক্ষে এবং পক্ষপাতহীন। কোনওরকম বিজ্ঞাপনদাতাদের বা রাজনৈতিক চাপের মুখে কোনও প্রতিবেদন নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশ করা হয় না। এক্ষেত্রেও হয়নি।” এরপর শনিবার ফের বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হতে দেখা যায় আপকে। খোদ সিসোদিয়া এদিন দাবি করেছেন, “গতকাল আমার বাড়িতে সিবিআই আধিকারিকরা গিয়েছিলেন। তাদের ওপর আমার কোনও রাগ-ক্ষোভ নেই, তার ওপর মহলের নির্দেশ পালন করছিলেন। কিন্তু যে আবগারি নীতি নিয়ে এত জলঘোলা হচ্ছে, আমি এখনও বলছি, সেটা দেশের সেরা আবগারি নীতি এবং আমরা স্বচ্ছতার সঙ্গে সেই নীতি বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছি। দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নরের ষড়যন্ত্রের কারণে ওই নীতি যদি বদলে ফেলা না হত, তবে এই মুহূর্তে দিল্লির সরকারের ১০ হাজার কোটি টাকার মুনাফা হত। দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ভালো কাজ করেছেন তাঁকে জেলে পাঠানো হয়েছে। আমি শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে যা ভাল কাজ করেছি, সেই কারণে আমাকে জেলে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আমাকে দু-একদিনের মধ্যে গ্রেফতার করা হতে পারে।”

Related articles

রাজনৈতিক কাজে যুক্ত থাকলেই কড়া ব্যবস্থা, শাস্তির হুঁশিয়ারি মুখ্যসচিবের

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং সরকারি কর্মীদের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ করল রাজ্য প্রশাসন। সরকারি...

দাঁড়িয়ে থাকা বিমানে ধাক্কা গাড়ির! যাত্রী নিরাপত্তায় বড়সড় প্রশ্ন কলকাতা বিমানবন্দরে

অসামরিক বিমান পরিবহনের রাশ এখনও কতটা আলগা কেন্দ্রের বিমান মন্ত্রকের, ফের একবার প্রমাণ পাওয়া গেল। এবার বড়সড় দুর্ঘটনার...

পাত পেড়ে খেয়েছিলেন অমিত শাহ, এবার সেই বিশ্বাস পরিবার বাদ ভোটার তালিকা থেকে!

নির্বাচনে দিল্লি থেকে পরিযায়ী পাখির মতো আসেন বিজেপির নেতারা। চূড়ান্ত বাঙালি প্রেম দেখানোর খেলা চলে কয়েক মাস। আদতে...

চাপে পড়ে বিবৃতি! পাক-মন্ত্রীর হামলা হুমকি নিয়ে সাফাই পেশ রাজনাথের

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আচমকাই কলকাতা হামলার হুমকি দিলেন। বাংলায় নির্বাচন আবহে এই ধরনের উস্কানিমূলক কথায় বাংলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের...