ঘুরে দাঁড়াল বাংলার অর্থনীতি! দুর্গাপুজোকে সামনে রেখে ৫০ কোটির ব্যবসা রাজ্যে

গত দু’বছর করোনা মহামারী (Corona Pandemic) উৎসবের আনন্দ-উদযাপনকে ম্লান করে দিয়েছিল। কিন্তু চলতি বছর সেই আতঙ্ক অনেকটাই কেটেছে। যার প্রতিফলন দেখা গিয়েছে দুর্গাপুজোকে (Durga Pujo) কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের আনন্দ উদ্দীপনায়। প্রাণ খুলে উৎসবের আনন্দে গা ভাসিয়েছেন সকলেই। যতই হোক বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব বলে কথা। তা আবেভাবে তো একটু আলাদা হবেই। এবছর প্রায় ১ মাস আগে থেকে দুর্গাপুজোর ঢাকে কাঠি পড়েছে। ইউনেস্কোর (UNESCO Heritage) স্বীকৃতি পেয়েছে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব। মহালয়ার পর থেকেই কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় মানুষের ঢল নামে। এই উৎসব যেমন একদিকে মিলনক্ষেত্র, ঠিক তেমনই কেনাবেচার এক অফুরন্ত সম্ভার। রেড রোডে ইউনেস্কোকে সম্মান জানানোর মঞ্চ থেকে সেকথা নিজ মুখে স্বীকার করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তিনি বলেন, পুজোকে কেন্দ্র করেই কত ছোট-বড় ব্যবসায়ীরা প্রাণ পান। আর সেই কথাকে সত্যি করেই এবছরের পুজোয় বাণিজ্য ক্ষেত্রে (Business) মিলল সুখবর। আয়োজক সংস্থা ফোরাম ফর দুর্গোৎসবের (Forum For Durgotsav) তরফে তথ্য দিয়ে জানানো হয়েছে, এবছরের দুর্গাপুজোয় বাণিজ্যের অঙ্ক ছুঁয়েছে ৫০ হাজার কোটি, যা গত কয়েক বছরে রেকর্ড।

আরও পড়ুন:দুর্গাপুজোর কার্নিভালের বিশ্বায়ন, ঐতিহ্য-শিল্প-সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্যে বিস্মিত বিদেশীরাও 

আইআইটি খড়গপুর (IIT Kharagpur), ব্রিটিশ কাউন্সিল (British Council) ও ইংল্যান্ডের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের (Queen Mary University) যৌথ এক সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০১৯ সালের তুলনায় চলতি বছর ৫৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে অর্থনীতি (Economy)। আর তা এসেছে শুধুমাত্র বিজ্ঞাপন (Advertisemen) থেকেই। দুর্গাপুজোকে সামনে রেখে মণ্ডপ সজ্জা, প্রতিমা তৈরি, খাবার বিক্রি, বিজ্ঞাপন এসবের মাধ্যমেই আয় বাড়ে। দুর্গাপুজোকে সামনে রেখে ৫০ হাজার কোটি টাকা আয় হয়েছে এখনও পর্যন্ত। যে পরিসংখ্যান বেশ প্রশংসনীয় বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। পাশাপাশি হোটেল, রেস্তোরাঁ, আবগারি ক্ষেত্রেও প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে ব্যবসা।

ফোরাম ফর দুর্গোৎসবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য পার্থ ঘোষ (Partha Ghosh) জানিয়েছেন, এবছর দুর্গাপুজোকে ইউনেস্কোর তরফে কালচারাল হেরিটেজের বিশেষ স্বীকৃতি দানের জন্যই রাজ্যের কোষাগারে লক্ষ্মীলাভ। তাঁর কথায়, দুর্গাপুজোকে বিশ্বের দরবারে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য এবছরের কোনও ক্ষেত্রে ঘাটতি হয়নি কোনও। বিশেষত বিজ্ঞাপন সংস্থাগুলির কাছ থেকে বেশ সাহায্য পাওয়া গিয়েছে।

Previous articleবাবা হলেন নাদাল, পুত্রসন্তানের জন্ম দিলেন তাঁর স্ত্রী