ব্যবসায়ীদের ফাঁসানোর চাকরি, লক্ষ্যপূরণ না হলেই বৈদ্যুতিক শক! বিদেশে চাকরির ফাঁদে ভারতীয় যুবকরা

প্রথমে দুবাইতে ইন্টারভিউ। তারপর তাইল্যান্ডে আইটি সেক্টরে মোটা মাইনের চাকরি! এমনই ভুয়ো অফার দিয়েছিল এক প্রতারণা চক্র। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ফাঁদে ফেলা হত। তারপর মায়ানমারে নিয়ে গিয়ে আটকে রেখে বেআইনি কাজ করানো হত। পাসপোর্ট কেড়ে নিয়ে রীতিমতো দাস বানিয়ে রাখা হয়েছিল। কাজের টার্গেট পূরণে ব্যর্থ হলে জুটত ইলেকট্রিক শক!

গত ৫ সেপ্টেম্বর তাইল্যান্ড থেকে বিদেশ মন্ত্রালয়ের হস্তক্ষেপে ৪৫ জন নির্যাতিত যুবককে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া এক যুবকের কথায়, আইটি-তে চাকরির কথা বলে মায়ানমারের এক প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাঁদের। ডিজিটাল সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং এক্সিকিউটিভের ভুয়ো পদ দেওয়া হবে বলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু আদতে এগুলি কোনও আইটি সংস্থাই নয়। এই প্রতারণা চক্র কল সেন্টার ও ক্রিপ্টোকারেন্সি জালিয়াতির কাজ করত। কর্মক্ষেত্রে পৌঁছনোর আগেই কেড়ে নেওয়া হয়েছিল তাঁদের পাসপোর্ট। জোর করে সই করানো হয়েছিল চুক্তিপত্রে। চাকরির আশায় সেখানে গিয়ে ফেঁসে গিয়েছিলেন অল্পবয়সি কর্মীরা। প্রতিদিনের কাজের লক্ষ্য দেওয়া হত। আর সেই লক্ষ্য পূরণ না করলেই জুটত কড়া শাস্তি। রক্ষীদের সঙ্গে থাকত বিদ্যুতের ব্যাটন। অবাধ্য কর্মীদের শাস্তি দেওয়া হত সেই ব্যাটনের বৈদ্যুতিক শক দিয়ে। মানসিক অত্যাচারের পাশাপাশি নিরন্তর চলত শারীরিক নিগ্রহ।

গত ১৫ অগস্ট তাঁদের উদ্ধার করে মায়ানমার সেনা। কিন্তু তার পরও তাঁদের দুর্ভোগ শেষ হয়নি। ভারতীয় দূতাবাসের হস্তক্ষেপে ৯৬ দিন পর দেশে ফেরেন তারা। তবে ওই দিনগুলির দুঃস্বপ্ন এখনও তাড়া করে বেড়াচ্ছে তাঁদের।

আরও পড়ুন- ভাষা সন্ত্রাস! জোর করে হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টার তীব্র প্রতিবাদ সবমহলে

Previous articleপ্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে সিরিজ সমতায় টিম ইন্ডিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৭ উইকেটে হারাল ধাওয়ানরা