ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নেবে দল: বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিতে আগ্রহীদের বার্তা কুণালের

নন্দীগ্রামে তৃণমূল (TMC) জাগছে। যাঁরা বিজেপিতে ছেড়ে তৃণমূলে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তাঁদের জন্য ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নেবে দল। বৃহস্পতিবার, নন্দীগ্রামে আদি বিজেপি নেতাদের এই বার্তা দিলেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের (Kunal Ghosh)। তিনি বলেন, এখন বিজেপিতে (BJP) থেকেই খবর দিন। পরে ধাপে ধাপে দলে নেব।

ইতিমধ্যেই নন্দীগ্রামের অনেক আদি বিজেপি নেতা-কর্মী তৃণমূলে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। যাঁরা বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। গত কয়েকদিন কথা বলার পর এদিনও দুপুরে ফোনে তাঁরা বিজেপি ছাড়ার কথা জানান। তাঁদের মতে, “আমাদের লড়াই তো শুভেন্দুর বিরুদ্ধেই। তখন তৃণমূলে থেকে ছড়ি ঘুরিয়েছে। এখন বিজেপিতে এসেও একই কাজ করছে।” ঘটনা হল, এদের অনেকেই এখনও শুভেন্দুর সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে থাকছেন। সেই ছবিও তাঁরা পাঠিয়েছেন। তবে, কুণাল ঘোষ তাঁদের বার্তা দেন, “এখুনি নয়। এখন বিজেপিতেই থাকুন। শুভেন্দুর সঙ্গেই থাকুন। ছবি তুলে পাঠান। ওদিককার খবরাখবর দিন। স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আমি কথা বলব। ধাপে ধাপে আপনাদের তৃণমূল কংগ্রেসে নেব”।

কুনাল ঘোষের এই বার্তা পরে নন্দীগ্রামে বিজেপিতে ধস নামা সময়ের অপেক্ষা বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। কুণালের কথায়, নন্দীগ্রামে দিদির দল আবার জাগছে। নতুন – পুরনোর মিশেলে ঐক্যবদ্ধ তৃণমূলের ছবি ধরা পড়ছে সর্বত্র। বৃহস্পতিবার দিনভর কর্মীদের নিয়ে সাংগঠনিক বৈঠক – জনসভা – জনসংযোগ করেন নন্দীগ্রাম জুড়ে। নন্দীগ্রাম ১ এর দলীয় কার্যালয়ে কর্মীদের নিয়ে বৈঠকে অতীত ভুলে সকলে একসঙ্গে মিলে কাজ করার বার্তা দেন।

বিকেলে দাউদপুরের জনসভাতেও বিজেপি ও ‘গদ্দার’ শুভেন্দু অধিকারীকে তুলোধনা করেন তিনি। ২০ নভেম্বর থেকে নন্দীগ্রাম ১ ও ২ এ গ্রামে গ্রামে চাটাই পেতে পল্লিবাসীকে সঙ্গে নিয়ে ছোট সভা করবেন দলীয় নেতৃত্ব। দলের নির্দেশ, কোনো বড় মঞ্চ বেঁধে বড় সভা নয়, একেবারে চাটাইয়ে বসে মুড়ি-বাদাম-চপ সহযোগে গ্রামের মানুষের সঙ্গে কথা বলতে হবে। তাঁদের অভাব ম-অভিযোগ শুনতে হবে। কেন্দ্রের জনবিরোধী নীতিগুলি তাঁদের কাছে তুলে ধরতে হবে। রাজ্য সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পগুলির সুফল বলতে বলতে হবে।

বৃহস্পতিবার, নন্দীগ্রাম ১ এর কর্মীদের নিয়ে বৈঠকে কুণাল ঘোষ সাফ জানিয়ে দেন, “অতীতে যা হওয়ার তা হয়ে গিয়েছে। সকলে মিলে একসঙ্গে কাজ করুন। কারও কোনও বক্তব্য থাকলে দলকে জানান, শুনব”। নন্দীগ্রাম ১ এর ব্লক সভাপতি বাপ্পাদিত্য গর্গ ছাড়াও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব।

এদিন দাউদপুরের সভাতেও ছিল উপচে পড়া ভিড়। সভায় কুণালের বার্তা, বিজেপি হিন্দু-মুসলমান করছে। আপনারা কোনও প্ররোচনায় পা দেবেন না। বিজেপির নেতা-কর্মীদের বলব, “শুভেন্দু তো ইডি- সিবিআই থেকে বাঁচতে বিজেপিতে গিয়েছেন। আপনারা ওই তোলাবাজ-গদ্দার-বেইমানের নামে জিন্দাবাদ বলবেন! দাউদপুরের সভায় অঞ্চল সভাপতি দুলালচন্দ্র দাস ছাড়াও ছিলেন শামসুর ইসলাম, শেখ আল রাজি প্রমুখ।

সন্ধেয় স্থানীয় ইসকন মন্দিরের উদ্বোধন করেন কুণাল ঘোষ। সেখানে আরতি করেন তিনি।

আরও পড়ুন:মাথা মুড়িয়ে শেষরক্ষা হল না, পুলিশের জালে রায়গঞ্জ গৃহবধূ খু*নে মূল অভিযুক্ত

 

 

Previous articleIran : হিজাব বিরোধী আন্দোলনে বন্দুকবাজের হামলা, শিশুসহ মৃ*ত ৯