হেরিটেজ ভবন ভাঙা নিয়ে চাপানউতোর, রবীন্দ্রভারতীর কার্যনির্বাহী কমিটি থেকে সাসপেন্ড ৩

তৃণমূল সুপ্রিমো একাধিকবার বলেছেন, যে কোনও বোআইনি কাজ বরদাস্ত করবে না দল। সাসপেন্ডের সিদ্ধান্তে তা ফের প্রমাণ হয়ে গেল।

রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের জোড়াসাঁকো ক্যাম্পাসে অবৈধ নির্মাণ নিয়ে চাপানউতোরের চলছে বেশ কয়েকদিন ধরে। বৃহস্পতিবার কড়া সিদ্ধান্ত নিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যনির্বাহী সমিতি।এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত শিক্ষাকর্মী ও তৃণমূল নেতা-সহ তিনজনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।তৃণমূল সুপ্রিমো একাধিকবার বলেছেন, যে কোনও বোআইনি কাজ বরদাস্ত করবে না দল। সাসপেন্ডের সিদ্ধান্তে তা ফের প্রমাণ হয়ে গেল।

যদিও ঘটনার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে মিছিল করল তৃণমূলের ছাত্র সংগঠন।বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যনির্বাহী সমিতি বাড়তি সতর্কতা হিসাবে ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করার ব্যবস্থা করেছিল।সিঁথি থানা সূত্রে জানা গিয়েছে, অশান্তির আশঙ্কা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি দিয়েছিলেন। সেইজন্যই পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল।

যদিও জোড়াসাঁকো ক্যাম্পাসে হেরিটেজ ভবন ভেঙে তৃণমূলের শিক্ষা সংগঠনের কার্যালয় তৈরির অভিযোগে ইতিমধ্যেই দায়ের হয়েছে মামলা। হেরিটেজ ভবন ভাঙায় স্থগিতাদেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ।এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যনির্বাহী সমিতি বৈঠক করে, তৃণমূল নেতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মী সুবোধ দত্ত অধিকারী, দেবপ্রসাদ ঘোষ এবং রাজকুমার ঝা-কে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেয়। পাশাপাশি অভিযোগ ওঠা, বিশ্বজিত্‍ দে কেও ক্যাম্পাসে ঢুকতে  নিষেধ করা হয়েছে।

রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সব্যসাচী বসু রায়চৌধুরী জানিয়েছেন,  সমিতির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। পুলিশের সঙ্গে কথা হয়েছে। ক্যাম্পাসে আগামীকাল থেকে পুলিশ আর থাকবে না। জোড়াসাঁকোর হেরিটেজ ভবনের অব্যবহৃত ঘর ভেঙে দেওয়ার অভিযোগে ৩ নভেম্বর হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা করেন স্বদেশ মজুমদার নামে এক ব্যক্তি।

সোমবার,  প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব এবং বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, জোড়াসাঁকো ক্যাম্পাসে হেরিটেজ ভবন আর ভাঙা যাবে না। বিস্তারিত জানতে চেয়ে রাজ্য সরকার ও রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়কে ২১ নভেম্বর রিপোর্ট দিতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

Previous articleসম্পর্ক জোরদার: আসামের ৩২ বিধায়ক এখন ঢাকায়