হিংসার পাঠ দিয়েছেন বাবাই! বারুইপুর খু*নে চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি অভিযুক্ত পুত্রর

বারুইপুরের (Baruipur) নৌসেনা কর্মী খু*নের ঘটনায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। পাড়ার শিশুদের সঙ্গে পুত্র খেলতে গেলে কোনও কারণে তাদের মধ্যে মারপিট হলে বাবাই তাঁকে শেখাতেন কীভাবে কোথায় মারতে হয়। বৃহস্পতিবার বারুইপুরের ডিহি মদন মাল্লো এলাকার উজ্জ্বল চক্রবর্তীর (Ujjwal Chakraborty) হাত-পা কাটা দেহ উদ্ধার হয়। এরপরই নৌসেনার দেহাংশের খোঁজে তল্লাশি শুরু করে বারুইপুর থানার পুলিশ (Baruipur Police)। এদিকে মৃ*তের ছেলে জয় ও স্ত্রী শ্যামলী চক্রবর্তীকেও জেরা করতে শুরু করে তারা। বয়ানে অসঙ্গতি থাকায় দুজনকেই গ্রেফতার করা হয়। টানা জেরার মুখে ভেঙে পড়ে খু*নের কথা স্বীকার করেন শ্যামলী ও জয়। ধৃতদের এদিন বারুইপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে ১২ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

জেরায় ধৃতরা জানান, দিল্লির শ্রদ্ধা ওয়াকার খুনের ঘটনা দেখেই দেহ কাটার পরিকল্পনা করা হয়। জেরাতেই নিজেই একথা জানান মৃ*তের ছেলে জয়। শুক্রবার, দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পরেই খু*নের কারণ পরিষ্কার হয়ে যায় পুলিশের কাছে। জেরায় ওই সেনাকর্মীর ছেলে স্বীকার করে নেন, উজ্জ্বল চক্রবর্তীর খু*ন তাঁরাই করেছেন। শ্বাসরোধ করে খু*ন করা হয়। প্রথমে শ্বাসরোধ করে খু*ন করা হয় এবং তারপরে দেহের বিভিন্ন অংশ কাটা হয়। উজ্জ্বল চক্রবর্তীর দেহে আঘাতের চিহ্নও পাওয়া যায়।

উজ্জ্বল চক্রবর্তীর স্ত্রী জানিয়েছেন তিনি নেশা করতেন। তাঁদের উপরে অত্যাচার করতেন। ছেলে জানিয়েছেন, তাঁর পরীক্ষার খরচ দেওয়া নিয়ে বচসা হয়। এরপরে তিনি বাবাকে ধাক্কা দেন। বাবা পড়ে গেলে তাঁকে শ্বাসরোধ করে খু*ন করা হয়।

খু*নের পরেও দেহের এত টুকরো করা হয়েছে কেন? সেই সময়েই বিস্ফোরক তথ্য উঠে আসে। ধৃত জয় দাবি করেন, যে খুন হয়ে যাওয়ার পরে তাঁরা বুঝতে পারেননি কী করতে হবে। জয় তাঁর মাকে জানান, দিল্লির ঘটনার মতোই দেহের টুকরো করে সেগুলিকে বিভিন্ন জায়গায় ডিসপোজ করে দেওয়া হোক। উজ্জ্বল চক্রবর্তীর স্ত্রী ছেলেকে দেহ বাথরুমে কাটার কথা বলেন। যাতে সেখান থেকে র*ক্তের দাগ সরিয়ে ফেলা সহজ হয়। সেই বাথরুমেই দেহের ছয় টুকরো করা হয়। দুটি হাত এবং পা বাদে দেহের বাকি অংশ সাইকেলে করে মা এবং ছেলে মিলে পাশের পুকুর ফেলে দেন। পরবর্তী ক্ষেত্রে আরও দুবার ছেলে নিজেই সাইকেল চালিয়ে দেহের বাকি অংশ বিভিন্ন জায়গায় ফেলতে শুরু করে। ইতিমধ্যেই দেহাংশের কিছুটা উদ্ধার হয়েছে। ছোটবেলা থেকেই বাবা-মায়ের অশান্তি, বাবার দেওয়া হিংসার পাঠেই এই ভয়ঙ্কর পরিণতি বলে মনে করছেন মনরোগ বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন- “কলার ধরে দিলীপকে অ্যারেস্ট করুক সিবিআই”! কেশিয়ারির সভা থেকে বিজেপিকে ধুয়ে দিলেন কুণাল

 

 

Previous article“কলার ধরে দিলীপকে অ্যারেস্ট করুক সিবিআই”! কেশিয়ারির সভা থেকে বিজেপিকে ধুয়ে দিলেন কুণাল