আজ জার্মানির তুরুপের তাস মিডফিল্ডার জামাল মুসিয়ালা !

ফ্ল্যাশ ব্যাক । আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় লাইপজিগের বিপক্ষে জার্মান বুন্দেশলিগার ম্যাচটিতে বায়ার্ন মিউনিখ তখন ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে। ম্যাচের বয়স তখন ২৫ মিনিট। বায়ার্ন কোচ ফ্লিক মার্তিনেজকে তুলেই নিলেন। কিন্তু বদলি হিসেবে যাঁকে নামালেন, তাঁকে দেখতে টিভি পর্দার কেউই প্রস্তুত ছিলেন না। টিভিতে কেন? মহামারি করোনার প্রাদুর্ভাবে ম্যাচটা যে হয়েছিল রুদ্ধদ্বার স্টেডিয়ামে!

আলিয়াঞ্জ অ্যারেনার ঘোষক স্টেফান লেহমান তাঁকে পরিচয় করিয়ে দিলেন এভাবে, ‘বেশি নয়, মার্তিনেজের চেয়ে মাত্র ১৫ বছরের ছোট।’ তরুণ সেই খেলোয়াড় দৌড়ে মাঠে ঢুকে পজিশনে দাঁড়িয়ে গেলেন। এর কিছুক্ষণ পরই এল জাদুকরি মুহূর্ত।

বদলি নামার পাঁচ মিনিটের মধ্যে লাইপজিগের চার ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোল! সমতায় বায়ার্ন। চার মিনিট পর তো এগিয়েই গেল বাভারিয়ানরা। কিংসলে কোমানের পাসে থমাস মুলার যে গোলটি করলেন, সেই বলটিও বানিয়ে দেন ওই তরুণ। ঘোষক লেহমান মাইক্রোফোনে হাসতে হাসতে বলতে লাগলেন, ‘এ আমি বিশ্বাস করি না।’

কে সেই তরুণ, যাঁকে নিয়ে এত শোরগোল? তিনি জামাল মুসিয়ালা। এবারের বিশ্বকাপে উদীয়মান সেরার দৌড়ে যাঁকে এগিয়ে রেখেছে ফুটবল বিশেষজ্ঞরা।১৯ বছর বয়সী মিডফিল্ডারকে নিয়ে জার্মানিও দেখছে অনেক বড় স্বপ্ন।

মায়ের দেশ জার্মানিতে জন্ম হলেও বাবা নাইজেরিয়ান। বেড়ে উঠেছেন ইংল্যান্ডে। লন্ডনের ক্লাব চেলসির একাডেমিতে ছিলেন আট বছর। বয়সভিত্তিক পর্যায়ে ইংল্যান্ড-জার্মানি দুই দলের হয়েই খেলেছেন। চাইলে খেলতে পারতেন বাবার দেশ নাইজেরিয়ার হয়েও। সে পথে না হেঁটে অবশ্য ভালোই করেছেন। সিদ্ধান্তটা নিয়ে ফেললে কি আর কাতারে যেতে পারতেন?

নাইজেরিয়া যে এবার বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতাই অর্জন করতে পারেনি! অনেক ভেবেচিন্তে মুসিয়ালা গত বছর জন্মভূমি জার্মানিকেই শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবলে প্রতিনিধিত্ব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ডাই মানশাফটদের হয়ে এরই মধ্যে ১৭ ম্যাচ খেলে ফেলেছেন মুসিয়ালা। দোহার খলিফা ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে আজ জাপানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপে অভিষেক হতে পারে তাঁর। যাঁকে জার্মানির আগামী দিনের তারকা মনে করা হচ্ছে, তাঁর দিকে তো তাই আজ আলাদা করে
নজর থাকবে ফুটবলপ্রেমীদের।

Previous articleমমতা-গোপালকৃষ্ণের উপস্থিতিতে রাজ্যপাল পদে শপথ আনন্দ বোসের