Saturday, January 17, 2026

এনআরএসের সাফল্য, অর্ধেক জিনের দৌলতে  অস্থি*মজ্জা প্রতিস্থাপনে জীবন ফিরে পেলে তরুণ

Date:

Share post:

ব্লাড ক্যানসার বা লিউকিমিয়া, লিমফোমা, মায়েলোমা, অ্যাপ্ল্যাসটিক অ্যানিমিয়া, থ্যালাসেমিয়া ইত্যাদি রোগের কথায় সাধারণ মানুষ মাত্রই ভয় পান, বেঁচে থাকার আশা ছেড়ে দেন। কিন্তু বহু ক্ষেত্রে এই সব রোগে আক্রান্ত মানুষটি ফিরে আসেন জীবনের স্বাভাবিক ছন্দে। কোনও ম্যাজিক নয়, তা সম্ভব হয় বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট (বিএমটি) বা অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে।

যদিও এর নেপথ্যে জিনের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ।বছর ছাব্বিশের পিন্টু মহন্ত মারণ লিউকোমিয়ায় আক্রান্ত হন। ভিন রাজ্যের নামী হাসপাতাল ঘুরেো সুরাহা হয়নি।একের পর এক কেমোথেরাপি, কড়া ওষুধ-ইঞ্জেকশন। কোনও কিছুই কাজ করছিল না।হতদরিদ্র পিন্টু সব শেষে এনআরএস হাসপাতালের হেমাটোলজি বিভাগে আসেন বাবা-ভাইয়ের সঙ্গে। কিন্তু ২৬ বছরের ছেলেটিকে দেখে চমকে যান বিশেষজ্ঞরা। ডা. সন্দীপ সাহা প্রথমে আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। তারপর চ্যালেঞ্জটা নিয়েই নেন। যদিও আদৌ সপল হবেন কিনা, তা নিয়ে ধন্দে ছিলেন।

শেষপর্যন্ত ৪০ দিনের মাথায় রীতিমতো সুস্থ হয়ে উঠেছেন পিন্টু। রবিবার যখন তার কাছে যাওয়া হয়, তখবন তিনি হাসপাতালের দূষণমুক্ত হেপাফিল্টার রুমে দুপুরে খেয়ে ভাতঘুম দিয়েছেন।চিকিৎসকরা জানান, রাতেও খাওয়া-দাওয়া করেছে সে। কয়েকদিন পর বাড়ি ফিরবে। আর এই কাজটা সম্ভব হয়েছে অর্ধেক জিনের দৌলতে। তাও আবার ভাইয়ের থেকে নেওয়া।

আসলে অর্ধেক জিন মিলে যাওয়াতে মৃত্যুর মুখ থেকে নতুন জীবন ফিরে পেয়েছেন এই যুবক।রক্তের ক্যানসারে হ্যাপ্লয়েড জিন থেরাপির এই সাফল্য সাড়া ফেলেছে দেশের তাবড় রক্ত বিশেষজ্ঞদের মধ্যে।এনআরএসের এই সাফল্যকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডাঃ তুফান দলুইয়ের কথায়, ‘‘দেশের কোনও সরকারি হাসপাতালে এমন পদ্ধতিতে সাফল্য এই প্রথম।’’ ডাঃ সন্দীপ সাহা এবং শুভ্রনীল বাউলের কথায়, ‘‘দেশের কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল চেষ্টা করছে এই থেরাপিতে রোগমুক্ত করতে। কিন্তু খরচ ৪০-৫০ লক্ষ টাকা। তাই অনেক পরিবার পিছিয়ে আসে। এই সাফল্য আমাদের আত্মবিশ্বাস অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে।’’

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে,তিনমাস আগে পিন্টু এনআরএস হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর কয়েকদিন অন্তর তাকে বেশ কয়েকটি কড়া ডোজের কেমো দেওয়া হয়। ডা. সন্দীপ সাহার জানিয়েছেন, ‘‘পিন্টুর শরীরে যত বিষ ছিল সব ধুয়ে সাফ-সুতরো করে ফেলা হয়। এরপর ওর বাবার জিন পরীক্ষা করে  কোনও মিল পাওয়া যায়নি। তখন ওর ভাইয়ের জিন পরীক্ষা করা হয়। অর্ধেক মিল পাওয়া যায়।’’ তিনি বলেন, ‘‘শুধুমাত্র ওই অস্ত্র নিয়ে দিনরাত এক করে শুরু হল এক নতুন লড়াই।’’ অর্ধেক জিনকে হাতিয়ার করে ভাইয়ের অস্থিমজ্জা বা বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা হয়।অস্বীকার করার উপায় নেই যে, এই চিকিৎসা যথেষ্ট ব্যয়বহুল। মরণাপন্ন মানুষকে এই প্রতিস্থাপন জীবনদান করে, সেটাও এখন প্রমাণিত।

 

spot_img

Related articles

রণসংকল্প যাত্রায় আজ বহরমপুরে অভিষেকের রোড শো 

কখনও তিনি র‍্যাম্পে 'ভূত'দের হাটাচ্ছেন, কখনও আবার রোড শোতে গাড়ির মাথায় উঠে আসন্ন নির্বাচনে বিজেপিকে ভোকাট্টা করার জোরালো...

আজ হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের স্থায়ী ভবন উদ্বোধন, অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী 

উত্তরবঙ্গ সফরে শুক্রবার মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস করার পর আজ কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের নয়া ভবনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে...

দুবছরের অপেক্ষার অবসান, বক্সায় ক্যামেরাবন্দি বাঘের ছবি

বক্সা টাইগার রিজার্ভ ফরেস্টে (Buxa Tiger Reserve) শেষবার ডোরাকাটার দর্শন মিলে ছিল ২০২৩ সালে। পরবর্তী দুই বছরে অপেক্ষায়...

কেমন যাবে আপনার আজকের দিনটি…

মেষ: কাজের সন্ধানে বিদেশ বা দূরস্থানে যোগাযোগের সম্ভাবনা। আর্থিক উন্নতি আশা। তবে দূরে যাতায়াতে সতর্ক থাকুন। বৃষ: সৃজনশীলদের জন্য...