গরু পাচার মামলায় দিল্লি আদালতে মিলল না স্বস্তি। রাউস অ্যাভিনিউ কোর্টের নির্দেশের উপর স্থগিতাদেশের আবেদন মঞ্জুর করেননি বিচারপতি দীনেশকুমার শর্মা। শুক্রবার, দিল্লি আদালত প্রশ্ন তোলে একই আবেদন দুটি- কলকাতা ও দিল্লি হাই কোর্টে (Calcutta-Delhi High Court) কেন করা হয়েছে। এরপরেই এই বিষয়ে কোনও স্থগিতাদেশ না দিয়ে সেটি কলকাতা হাই কোর্টের সিদ্ধান্তের উপরই ছেড়ে দেয় দিল্লি হাই কোর্ট। এদিনে এই বর্ষীয়ান আইনজীবীর প্রয়াণে এদিন কলকাতা হাই কোর্টে এই আবেদনের শুনানি হয়নি। শনিবার, সকাল ১১টায় এই মামলার শুনানি হবে। ফলে এর মধ্যে বিশেষ কোনও কিছু না ঘটলে এই মুহূর্তে অনুব্রতকে দিল্লি নিয়ে গিয়ে জেরার ক্ষেত্রে কোনও বাধা নেই ইডির (ED)।

দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালতে অনুব্রত হাজিরা নিয়ে এদিন কলকাতা ও দিল্লি হাই কোর্টে আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা ছিল। তৃণমূল নেতার আইনজীবী সন্দীপন গঙ্গোপাধ্যায়কে উচ্চ আদালতের বিচারপতি বিবেক চৌধুরী মামলা দায়েরের অনুমতি দেন। এদিন বিকেল ৩টেয় শুনানির কথা থাকলেও বর্ষীয়ান আইনজীবীর মৃত্যু তা পিছিয়ে যায়। শনিবার, সকাল ১১টায় এই মামলার শুনানি হাই কোর্টে।

রাউস অ্যাভিনিউ কোর্টে হাজিরা ঠেকাতে কলকাতা হাই কোর্টের পাশাপাশি, দিল্লি হাই কোর্টেরও দ্বারস্থ হন অনুব্রত। তাঁর আইনজীবী কপিল সিব্বল প্রধান বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত শুনানির আর্জি জানান। প্রধান বিচারপতি সেই অনুমতি দেন। প্রধান বিচারপতি মামলাটি বিচারপতি শর্মার একক বেঞ্চে স্থানান্তরিত করেন। সেখানে বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ মামলাটি শুনানির জন্যে উঠলেও হাজির ছিলেন না অনুব্রতর আইনজীবী কপিল সিব্বল। বিকেলে ফের মামলার শুনানি শুরু হলে, দু জায়গায় আবেদন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি। নেতার বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি সত্ত্বেও তাঁকে কেন দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হয়নি? এদিন দিল্লি হাই কোর্টে অনুব্রত মণ্ডলের আইনজীবীকে এই প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। তা নিয়ে যুক্তি সঙ্গত কোনও জবাব দিতে পারেননি আইনজীবী। অনুব্রতকে দিল্লি নিয়ে যেতে ইডিকে বাধা দেয়নি দিল্লি হাই কোর্ট।

এদিকে, ফের জেল হেফাজতে বীরভূমের (Birbhum) তৃণমূলের (TMC) জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mandol)। তাঁকে নিয়ে সিবিআইয়ের দিল্লি যাওয়ার জল্পনার মধ্যেই শুক্রবার ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আসানসোলের (Asonsole) বিশেষ CBI আদালত। ১৭ মার্চ পরবর্তী শুনানি।

অনুব্রতর বিষয় নিয়ে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষের (Kunal Ghosh) প্রতিক্রিয়া, ”অনুব্রত মণ্ডলের বিষয়টি যা হচ্ছে, তা তো বিচারাধীন। তবে আমার মনে হয়, এটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সামনে পঞ্চায়েত ভোট। বাংলায় বিজেপি কিছু করতে না পেরে এভাবে আমাদের নেতাদের আটকে রেখে, এজেন্সি দিয়ে হেনস্থা করে, দিল্লিতে নিয়ে গিয়ে শক্তি রুখতে চাইছে। কিন্তু তাতে কিছু লাভ নেই।”









