Monday, April 6, 2026

বন সহায়ক পদে ২ হাজার জনের প্যানেল বাতিলের নির্দেশের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমতি হাই কোর্টের

Date:

Share post:

কিছুদিন আগে বন সহায়ক পদে নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁর কাছে খবর রয়েছে যে, বন সহায়কের প্যানেল তৈরি নিয়ে কারসাজি হয়েছে। সেই বিষয়টিই এবার পৌঁছল কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে। রাজ্যের বন সহায়ক পদে যে ২ হাজার জনের প্যানেল বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, সেই বিষয়ে মামলা করার অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। সোমবার মামলা করার অনুমতি দেন বিচারপতি বিবেক চৌধুরী এবং বিচারপতি বিশ্বরূপ চৌধুরীর অবকাশকালীন ডিভিশন বেঞ্চ। তবে দ্রুত শুনানির আর্জি মঞ্জুর করেনি উচ্চ আদালত। গ্রীষ্মাবকাশের পর হাই কোর্ট খুললে নির্দিষ্ট বেঞ্চেই এই মামলাটি শোনা হবে৷

গত সপ্তাহে এই মামলা থেকে সরে গিয়েছিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় এবং বিচারপতি পার্থসারথী চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ। তারা জানিয়েছিলে্ন, এই বেঞ্চ বন সহায়ক নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলায় কোনও নির্দেশ দেবে না। মামলাকারীরা চাইলে অন্য ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করতে পারেন। সেই নির্দেশ মেনে নতুন ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন জানান প্যানেলে থাকা ৫০ জন প্রার্থী। সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে যান তাঁরা৷

সেই মামলায় হাইকোর্টের একক বেঞ্চ, নতুন করে নিয়োগের নির্দেশ দেয়। পুরনো প্যানেল বাতিল করে নতুন প্যানেল তৈরির করার কথা বলে আদালত। আগামী দুমাসের মধ্যে এই কাজ করতে নির্দেশ দেয় আদালত।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালে বন সহায়ক পদে অস্থায়ী কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু গলদ সামনে আসে৷ মামলা হয় হাইকোর্টে। মামলাকারীদের দাবি ছিল, ত্রুটি সংশোধন না করেই বন সহায়ক পদে নিয়োগ করেছিল রাজ্য সরকার। এর আগে এই মামলায় বিচারপতি লপিতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিঙ্গেল বেঞ্চের পর্যবেক্ষণেও নিয়োগ প্রক্রিয়ার ত্রুটি ধরা পড়ে। নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশও দেন তিনি৷

আদালত জানায়, সব প্রার্থীকে নতুন করে ইন্টারভিউয়ে প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে হবে। আগামী দু’মাসের মধ্যেই পুরনো প্যানেল বাতিল করে নতুন প্যানেল তৈরি করতে হবে। নতুন প্যানেল থেকেই যোগ্য প্রার্থীদের চাকরি দেওয়া হবে। একই সঙ্গে হাই কোর্ট এও জানায়, নতুন তালিকায় যাঁদের নাম বাদ পড়বে, তাঁদের চাকরিও বাতিল হয়ে যাবে। সিঙ্গল বেঞ্চের ওই নির্দেশের জেরে চাকরি হারানোর মুখে পড়েন ২ হাজার প্রার্থী। সিঙ্গেল বেঞ্চের ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হন পুরনো প্যানেলের প্রার্থীদের একাংশ।

 

Related articles

ভোট-বৈতরণী পার হতে ‘সহজপাঠ’ হাতিয়ার সিপিএমের, নিন্দা তৃণমূলের

বাংলায় ৩৫ বছর ক্ষমতায় ছিল সিপিএম (CPIM)। কিন্তু বর্তমান রাজনীতির ময়দানে কার্যত শূন্য তারা। এবার অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে...

উত্তরপ্রদেশ থেকে ২০০ গাড়ি সেনা, ইভিএম মেশিনে চিপ! সতর্ক করলেন মমতা

নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে যে পদ্ধতিতে কারচুপি ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত কেন্দ্রের বিজেপি সরকার করে এসেছে, তার পর্দা...

বিয়ের প্রতিশ্রুতিতেও মুক্তি নয়, পকসো মামলায় কড়া বার্তা গুয়াহাটি আদালতের

প্রেমের সম্পর্কের কথা বলে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক করা যায় না। পকসো মামলার শুনানিতে এই মন্তব্য করল গুয়াহাটি হাইকোর্ট...

মানুষের কাজ যে করবে সেই প্রার্থী: নাম না করে তপন চট্টোপাধ্যায়কে নিশানা তৃণমূল সুপ্রিমোর

“কেউ কেউ আছে কাজ করবে না, কিন্তু সারাজীবন তাঁকেই প্রার্থী করতে হবে। না দল সেটা কোনওদিনই করবে না“।...