Friday, June 26, 2026

রাণাঘাটে বিজেপির দলীয় কোন্দল, বিক্ষুব্ধদের রাস্তায় ফেলে মা.র অন্য গোষ্ঠীর

Date:

Share post:

রাজ্যে বিজেপির(BJP) সংগঠনের বেহাল দশা, তার উপরে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব(Inner Clash)। সেই ছবি এবার দেখা গেল নদিয়া জেলার রাণাঘাটে(Ranaghat)। বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর ৪ নেতাকে রাস্তায় ফেলে ব্যাপক মারধোরের অভিযোগ উঠল জেলা সভাপতির(District President) লোকজনের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। পাশাপাশি দলের অন্দরে সংঘাত যে চরম আকার নিয়েছে তা মেনে নিচ্ছে গেরুয়া শিবির।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সন্ধেবেলা রানাঘাট কলেজের পাশে বিবেকানন্দ মূর্তির সামনে থেকে বিজেপির বিক্ষুব্ধ জনা পঞ্চাশ নেতা-কর্মী দলীয় পতাকা ও প্ল্যাকার্ড হাতে মিছিল শুরু করেন। প্ল্যাকার্ডে লেখা ‘রানাঘাটের সাংসদ জগন্নাথ সরকার ও নদিয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়কে অবিলম্বে দল থেকে অপসারিত করতে হবে।’ অভিযোগ, মিছিলটি ওল্ড বহরমপুর রোড ধরে জেলা পার্টি অফিসের দিকে কিছুটা এগোতেই বাসস্ট্যান্ডের কাছে মিছিলের উপর লাঠিসোটা নিয়ে আক্রমণ করে বিজেপির অপর গোষ্ঠী। তুমুল সংঘর্ষে জখম হন বেশ কয়েকজন (BJP leaders fighting)। তাদের মধ্যে চারজনের আঘাত গুরুতর। বিজেপি সূত্রে জানা যাচ্ছে, ওইদিন বিকেলে নদিয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলা পার্টি অফিসে ৯টি সাংগঠনিক জেলার নেতাদের বৈঠক চলছিল। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা প্ল্যাকার্ড হাতে পার্টি অফিসে জমায়েত করতে চায়। মিছিলটি যাতে পার্টি অফিস পর্যন্ত পৌঁছতে না পারে তাই রাস্তাতেই হামলা চালায় জেলা সভাপতি পার্থসারথির শিবিরের লোকজন।

নিজের দলের গুণ্ডাবাহিনীর হাতে আক্রান্ত রানাঘাট সাংগঠনিক জেলায় বিজেপির প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, “গত লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে জেলার দক্ষিণে আমাদের ফল ভালো হয়েছিল। কিন্তু পঞ্চায়েত নির্বাচনে দলের জেলা নেতৃত্ব আমাদের সঙ্গে বৈষম্য মূলক আচরণ করেছে। তৃণমূলের সঙ্গে আঁতাত করার কারণেই দলের ফল খারাপ হয়েছে। তাই আমরা রানাঘাটের (Ranaghat) সাংসদ জগন্নাথ সরকার ও দলের জেলা সভাপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের অপসারণ চেয়ে এ দিন শান্তিপূর্ণ মিছিল করছিলাম। বর্তমানে যারা বিজেপির পদে রয়েছেন, তাদের একটা অংশ আমাদের উপর হামলা চালায়। আমাদেরকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে।” অন্যদিকে বিজেপির জেলা সভাপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায় বলেন, “দলের অভ্যন্তরে ক্ষোভ বিক্ষোভ থাকতেই পারে। সেটা জেলা সভাপতি হিসেবে আমাকে জানানোর জন্য দরজা খোলা রয়েছে। তাই বলে রাস্তায় নেমে মিছিল করতে হবে, প্রতিবাদ জানাতে হবে! বিষয়টিকে দল সমর্থন করে না।” তা বলে দলের নেতাকর্মীদের রাস্তার উপর ফেলে মারধোর করা হবে? এর কোনও জবাব নেই জেলা সভাপতির কাছে।

Related articles

নবান্নে কাকলি-শতাব্দী-সুদীপ: শুভেন্দু-সাক্ষাতে কী কথা!

তৃণমূলে বিক্ষোভ দেখিয়ে কমপক্ষে ১৯জন সাংসদ নিয়ে এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন বর্ষীয়ান সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার (Kakoli Ghoshdastidar। জানিয়েছেন তাঁরা...

নেই হাজিরা, মামলা নিষ্পত্তিতে অনীহা, নতুন সরকারের আইনজীবী প্যানেল নিয়ে ক্ষুব্ধ হাইকোর্ট

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর এবার নতুন সরকারের সরকারি আইনজীবী প্যানেল নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতে...

ধান্দাবাজরা চলে গিয়েছে! আসল সম্পদ কর্মীরাই, তৃণমূলই থাকবে: বার্তা নেত্রীর

যারা চলে গিয়েছে যেতে দিন। নিজেকে আর পরিবার বাঁচাতে ধান্দাবাজরা বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। কিন্তু যাদের ঘাম-রক্ত-পরিশ্রম-আত্মত্যাগের বিনিময়ে...

দিদির সঙ্গেই আছি, থাকব! দুর্যোগ উড়িয়ে শপথ জেলা তৃণমূলের কর্মিসভায় 

বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বজ্রবিদ্যুৎ সহ প্রবল দুর্যোগ শহরজুড়ে। জল থইথই অবস্থা সর্বত্র। এই দুর্যোগের মধ্যেও ভিড়ে উপচে পড়ল...