Thursday, April 23, 2026

আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই মহুয়া মৈত্রর সাংসদ পদ খারিজ

Date:

Share post:

মহুয়ার সাংসদ পদ খারিজ করে দেওয়া হল।লোকসভার স্পিকার এই বিষয়ে ভোটাভুটির মাধ্যমে প্রস্তাব পাশ করান লোকসভায়। বহিষ্কারের পর সংসদের বাইরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন মহুয়া মৈত্র।বলেন,নারীবিদ্বেষী মনোভাবের প্রকাশ বিজপি সরকারের। কোনও  কথা বলার সুযোগ না দিয়েই একতরফা বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত।কালই হয়তো বাড়িতে সিবিআই যাবে, আশঙ্কা মহুয়ার।

এদিন দুপুর ১২টায় তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে রিপোর্ট পেশ করেন লোকসভার এথিক্স কমিটির প্রধান তথা বিজেপি (BJP) সাংসদ বিজয় সোনকার। জল্পনা মতোই ওই রিপোর্টে মহুয়ার সাংসদ পদ খারিজ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। যদিও রিপোর্টটি পেশের পরই চূড়ান্ত হট্টগোল শুরু হয়ে যায়। যার জেরে অধিবেশন দুপুর দুটো পর্যন্ত মূলতুবি করে দিতে হয়। তবে অধিবেশন ফের শুরু হতেই মহুয়া ইস্যুতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্পিকার। বলে দেন, সংসদের মর্যাদাহানি হোক, এমন কোনও বিষয়ই মেনে নেওয়া হবে না। প্রয়োজনে অনেক কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়। একইসঙ্গে এনিয়ে আলোচনার জন্য আধঘণ্টা সময় বেধে দেন ওম বিড়লা।

মহুয়া মৈত্রকে বলার সুযোগ দিলেন না স্পিকার ওম বিড়লা। তিনি জানান, মহুয়া আগে নিজের বক্তব্য জানানোর সুযোগ পেয়েছিলেন। তাই আবার তাঁকে সুযোগ দেওয়া হবে না। পুরনো উদাহরণ টেনে এই যুক্তি দিয়েছেন স্পিকার। মহুয়া বলার জন্য একাধিক বার উঠে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু তাঁকে বসিয়ে দেওয়া হয়।

বিজেপির তরফে সাংসদ অপরাজিতা সরঙ্গি বলেন, ‘‘মহুয়াকে বলার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তিনি সুযোগ পেলেও তখন কিছু বলেননি। ওয়াক আউট করে গিয়েছিলেন।’’

তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তৃণমূলের তরফে তিনি কথা বলবেন না। কথা বলবেন মহুয়া নিজে।কিন্তু স্পিকার সেই কথায় কর্ণপাত করেননি।সুদীপ দুদিন সময় চান রিপোর্ট পড়ার জন্য। কারণ, তার যুক্তি ৪৫৫ পাতার রিপোর্ট আধ ঘণ্টার মধ্যে পড়ে ফেলা সম্ভব নয়। যদিও বিজেপি সাংসদ হীনা গাবিত জানান, তিনি দু’ঘণ্টাতেই এথিক্স কমিটির রিপোর্ট পড়ে ফেলেছেন। এ বিষয়ে লোকসভার অতীতের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি জানান, আগেও লোকসভা থেকে ঘুষ নেওয়ার অপরাধে সদস্যকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

কংগ্রেস সাংসদ মনীশ তিওয়ারি বলেন, ‘‘১২টায় রিপোর্ট পেশ করে ২টোয় তা নিয়ে আলোচনা স্বাভাবিক নয়। তিন-চার দিন রিপোর্ট পড়ার জন্য সময় দিলে পৃথিবী উল্টে যাবে না। বিচারব্যবস্থার সাধারণ নিয়ম এখানে মানা হচ্ছে না। যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাঁকে কথাই বলতে দেওয়া হচ্ছে না। তা ছাড়া, এথিক্স কমিটি শুধু সুপারিশ করতে পারে। কী সাজা হবে, তা তারা ঠিক করে দিতে পারে না।’’

লোকসভায় স্পিকারের উদ্দেশে কংগ্রেসের অধীর চৌধুরী বলেন, ‘‘এত বড় চিঠি এত কম সময়ে পড়া সম্ভব নয়। ভাল করে পড়ে এটা নিয়ে চর্চা করা উচিত। আদালতেও কারও সাজা হলে বিচারক আসামির বক্তব্য শোনেন। কারও বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ থাকলে, তাঁকে বলার সুযোগ দেওয়া উচিত।

Related articles

নির্বাচনী প্রচারে আজ ভবানীপুর-যাদবপুরে মমতা, মেটিয়াবুরুজে জনসভা অভিষেকের

আজ বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় সকাল থেকে চলছে ভোটগ্রহণ পর্ব। একদিকে যেমন ১৫২ টি কেন্দ্রের দিকে নজর...

বোমাবাজিতে আক্রান্ত তৃণমূল প্রার্থী, ভোটে অশান্ত মুর্শিদাবাদ! EVM বিভ্রাটে বিক্ষোভ মালদহে

গণতন্ত্রের উৎসবে উত্তপ্ত মুর্শিদাবাদ(Murshidabad Violence)। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে উত্তেজনা ডোমকলে। কোথাও বিভ্রাট, কোথাও আবার আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে ভয় পাওয়ারর...

প্রথম দফা নির্বাচনে আজ একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ, বিশেষ নজর নন্দীগ্রামে 

বাংলায় শুরু হল বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম পর্ব (first phase of West Bengal assembly election)। বৃহস্পতিবার সকাল ৭ টা...

বিধানসভা নির্বাচনী ময়দানে বিজয়ের দল, আজ তামিলনাড়ুতে ভোটের লড়াই ত্রিমুখী

ছাব্বিশের নির্বাচনে তামিলভূমে ডিএমকে (DMK) বনাম এডিএমকে (All India Anna Dravida Munnetra Kazhagam) লড়াই নয়, বরং এবার জুড়েছে...