Friday, April 24, 2026

‘প্রতিহিংসার রাজনীতি’! সুকান্তর অভিযোগ পেয়েই মুখ্যসচিব, ডিজি-সহ ৩ আইপিএস অফিসারকে তলব সংসদীয় কমিটির

Date:

Share post:

লোকসভা ভোট (Loksabha Election) যত এগিয়ে আসছে কেন্দ্রের মোদি সরকারের (Modi Govt) রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ছবি প্রকাশ্যে আসছে। এবার রাজ্যের মুখ্যসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজির পাশাপাশি ৩ পদস্থ কর্তাকে দিল্লিতে ডেকে পাঠাল লোকসভার সংসদীয় স্বাধিকার রক্ষা কমিটি। সূত্রের খবর, বুধবার সন্দেশখালিতে (Sandeskhali) ‘নাটক’ করতে গেলে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumder)। পুলিশি নির্দেশ অগ্রাহ্য করেই অশান্তি পাকানোর লক্ষ্যে সন্দেশখালি পৌঁছে যাওয়ার চেষ্টা করলে সুকান্ত এবং তাঁর দলবলকে আটকায় পুলিশ। এরপরই অসুস্থ হওয়ার নাটক করে হাসপাতালে ভর্তি হন সুকান্ত। এরপরই রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে পাল্টা সংসদীয় কমিটির কাছে মেল করে অভিযোগ জানিয়েছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তারই প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার রাজ্যের মুখ্যসচিব ভগবতী প্রসাদ গোপালিকা, রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার সহ রাজ্য পুলিশের পাঁচজন আইপিএস অফিসারকে তলব করল সংসদীয় কমিটি। ১৯ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ সোমবার সকাল সাড়ে দশটায় তাঁদের হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মৌখিক বক্তব্য শোনা হবে বলে জানা গিয়েছে। তবে এদিন কেন্দ্রের গাজোয়ারি পদক্ষেপের এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরা। তাঁদের অভিযোগ, সুকান্ত মজুমদার কোনও দলের প্রতিনিধি হয়ে নয়, তিনি পুলিশি বাধা সত্ত্বেও বিক্ষোভ দেখাতে গিয়েছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই তাঁকে বাধা দিয়েছে পুলিশ। সুকান্ত সাংসদ পদের জেরেই এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন। কিন্ত আদৌ সংসদের স্বাধিকার রক্ষা কমিটির এই এক্তিয়ার আছে কী না তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। বিরোধীদের প্রশ্ন, সত্যি যদি সাংসদের হেনস্থার জন্য এই তলব হয় সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র বিজেপি কেন, অন্য সাংসদদের লাগাতার হেনস্থা, আক্রমণ করা হলেও কেন কোনও পদক্ষেপ নেয়না সংসদীয় কমিটি তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরা।

তবে শুধু রাজীব কুমার নন, তাঁর পাশাপাশি তলব করা হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক শরৎ কুমার দ্বিবেদী, বসিরহাটের এসপি হুসেন মেহেদি রহমান এবং উত্তর ২৪ পরগনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পার্থ ঘোষকে তলব করেছে সংসদীয় কমিটি।

বুধবার সকাল থেকেই টাকি থেকে সন্দেশখালি যাওয়ার পথে ১৪৪ ধারা জারি থাকা সত্ত্বেও গাজোয়ারি দেখাতে গিয়ে পুলিশি বাধার মুখে পড়েন বিজেপুর রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। ১৪৪ ধারা জারি থাকায় সেখানে তাঁদের যেতে দেওয়া হবে না বলে জানায় পুলিশ। এরপরই বিজেপি রাজ্য সভাপতি এবং বাকি কর্মীদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি শুরু হয় তাঁদের। তার মধ্যেই পুলিশের গাড়ির বনেটে উঠে যান সুকান্ত। এরপর ‘মহানাটক’ করে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। তারপরই পায়ের তলার মাটি হারিয়ে মিথ্যা পুলিশি হামলার অভিযোগ তলে স্পিকার ওম বিড়লাকে মেল করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। আর তাঁর চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই এবার রাজ্যের মুখ্যসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি-সহ ৩ আইপিএস অফিসারকে দিল্লিতে ডেকে পাঠাল সংসদের স্বাধিকার রক্ষা কমিটি।

 

 

 

 

Related articles

প্রথম দফায় বিক্ষিপ্ত অশান্তি রাজ্যে, রাত পর্যন্ত মোট গ্রেফতার ৪১ 

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় বিভিন্ন প্রান্তে অশান্তি ও গোলমাল পাকানোর অভিযোগে মোট ৪১ জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ।...

কুণালের সমর্থনে মেগা রোড-শো দেবের, জনপ্লাবনে ভাসল বেলেঘাটা

বেলেঘাটায় ভোটের প্রচারে অন্য প্রার্থীদের আগেই কয়েক যোজন পিছনে ফেলে দিয়েছিলেন কুণাল কুমার ঘোষ। প্রচারের শেষ লগ্নে এসে...

যত বেশি ভোট, তত বড় প্রত্যাবর্তন! প্রথম দফার শেষে আত্মবিশ্বাসের সুর তৃণমূল শিবিরে

যত বেশি হারে ভোট, তত জোরালো প্রত্যাবর্তন। বাংলার মানুষ বিজেপির কোমর ভেঙে দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতি জননেত্রী মমতা...

দুবরাজপুরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ‘আচরণে প্রশ্নের মুখে কমিশন

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফাতেই রণক্ষেত্র হয়ে উঠল বীরভূমের দুবরাজপুর। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটের নামে সাধারণ মানুষের ওপর...