Monday, April 27, 2026

বড় সিদ্ধান্ত, এবার আর্থিকভাবে দুর্বল অংশের মানুষদের জমি-বাড়ি দেবে রাজ্য

Date:

Share post:

লোকসভা নির্বাচনের আগে বড় সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের। রাজ্যের সব পুরসভা, শহর, শহরতলি ও মফস্বল এলাকায় বসবাস করা আর্থিকভাবে দুর্বল অংশের মানুষদের মুখে হাসি ফোটাতে এবার তাঁদের ‘নিজ ভূমি নিজ গৃহ’ প্রকল্প আনছে রাজ্য সরকার। এই সব মানুষদের মধ্যে যাদের নিজেদের বাড়ি নেই তাঁদের হয় রাজ্য সরকার জমি দেবে বাড়ি নির্মাণের জন্য অথবা তাঁদের হাতে সরাসরি বাড়ির চাবি তুলে দেবে। তবে আর্থিকভাবে দুর্বল অংশের মানুষ বলতে এক্ষেত্রে চিহ্নিত হবেন তাঁরাই যারা সরকারের কাছে খাতায় কলমে ইকোনমিকালি উইকার সেকশন বা ই ডব্লিউ এস তালিকাভুক্ত হয়ে আছেন। এদেরই মাথার ওপর পাকা ছাদের পাকাপাকি বন্দোবস্ত করে দেওয়া হবে পুরোপুরি রাজ্য সরকারের টাকাতেই। সরকারি খাস জমি কিংবা বিভিন্ন দফতরের হাতে থাকা জায়গা তুলে দেওয়া হবে ওই ভূমিহীনদের হাতে। কোথাও তেমন সুযোগ না থাকলে বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা করবে রাজ্য সরকার।

নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, ই ডব্লিউ এস তালিকাভুক্তদের মধ্যে যাদের নিজেদের বাড়ি নেই তাঁদের মাথার ওপর পাকা ও নিজস্ব ছাদ করে দিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই তাঁর নির্দেশেই এই প্রকল্পটির বাস্তবায়নে একটি মন্ত্রিগোষ্ঠী তৈরি করা হয়েছে। সেই মন্ত্রিগোষ্ঠীতে রয়েছেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, রাজ্যের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, বিদ্যুৎমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং আইনমন্ত্রী মলয় ঘটক। সেই মন্ত্রিগোষ্ঠীই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ বাস্তবায়িত করতে রাজ্যের সব পুর এলাকায় ভূমিহীন মানুষদের জমি দেবে সরকার। আর যেখানে জমির দাম বেশি কিংবা একলপ্তে বড় এলাকা পাওয়া মুশকিল, সেখানে গড়ে দেওয়া হবে আবাসন। কলকাতা, হাওড়া, বিধাননগর সহ একাধিক জায়গায় নিজস্ব খরচে বহুতল গড়ে দেবে রাজ্য সরকার। উত্তরবঙ্গ, দক্ষিণবঙ্গ ও জঙ্গলমহল এলাকায় সরকারি জমি তুলে দেওয়া হবে ভূমিহীনদের হাতে। তার জন্য জেলাশাসকের অধীনে থাকা ভূমি বণ্টন কমিটি প্রতিটি জেলায় এমন জমি চিহ্নিত করবে। সেব্যাপারে যাবতীয় তথ্য দেওয়া হবে প্রশাসনকে।

নবান্নের আধিকারিকদের দাবি, ভূমি ও ভূমি রাজস্ব আইনে আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া অংশের মানুষরাই এই জমি কিংবা বাড়ি দেওয়া হবে। সরকারের কাছে এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য জেলাস্তরে আবেদন করতে হবে তাদের। তারপর সেই আবেদন খতিয়ে দেখবে জেলার স্ক্রিনিং কমিটি। এরপরে বিভিন্ন ধাপে যাচাই করার পর গৃহীত হবে সেই আর্জি। খাস কিংবা বিভিন্ন দফতরের হাতে থাকা জমির পাট্টা-অধিকার ভূমিহীন মানুষদের হাতে তুলে দেবে রাজ্য। তবে কোথাও তেমনটা সম্ভব না হলে থাকবে ফ্ল্যাটের বন্দোবস্ত, যার ন্যূনতম মূল্য ধার্য হয়েছে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা। সেটির মালিকানা তুলে দেওয়া হবে আবেদনকারীর হাতে। ভূমিহীন মানুষদের দিয়ে সার্বিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ। এটি আগামী দিনে বাংলাকে দেশের মধ্যে মডেল হিসেবে তুলে ধরবে।

আরও পড়ুন- একশো দিনের কাজের টাকা মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু রাজ্যের

 

Related articles

বিজেপি-র ‘মানি পাওয়ার’ রুখতে মমতার হাত শক্ত করার ডাক, চন্দ্রিমার সমর্থনে সুর চড়ালেন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী

বাংলার ভোটযুদ্ধে এবার তৃণমূলের পক্ষে ব্যাট ধরলেন পড়শি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। রবিবার দমদম (উত্তর) বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী...

ভবানীপুরে বহিরাগত কাদের মদতে: পদযাত্রা থেকে জনসংযোগে সতর্ক করলেন মমতা

বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দিতে পুলিশ প্রশাসনে বড়সড় রদবদল প্রায় প্রতিদিনই চলছে। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে কমিশনের সবথেকে বড় টার্গেট...

IPL: ব্যাটিং ব্যর্থতা, বিতর্ক শেষে সুপার জয়, টিকে থাকল নাইটদের প্লে অফের আশা

আইপিএলে(IPL) জয়ের ধারা অব্যাহত রাখল কেকেআর(KKR)। সুপার ওভারে লখনউ সুপার জায়ান্টসকে(LSG) হারাল নাইট ব্রিগেড। ব্যাটিং, ব্যর্থতা বিতর্ক পেরিয়ে...

তালিকায় অনুপ্রবেশকারী কারা: কমিশন খোঁজ দিতে না পারলেও ডেডলাইন বাঁধলেন মোদি!

বাংলার এসআইআর করা হচ্ছে রাজ্যের অনুপ্রবেশকারীদের খুঁজে খুঁজে বের করার জন্য। অথচ নির্বাচনের প্রথম দফা শেষ হয়ে যাওয়ার...