Friday, June 5, 2026

জয়েন্ট পরীক্ষার মাঝেই পড়ল ভোট, উদ্বেগ পরীক্ষার্থী- অভিভাবকদের

Date:

Share post:

লোকসভা নির্বাচনের (Loksabha Election) কারণে সমস্যায় পড়তে চলেছেন পড়ুয়ারা। এমনিতেই ভোট ঘোষণার আগেই যেভাবে রাজ্যে দফায় দফায় কেন্দ্রীয় বাহিনী (CRPF) পাঠিয়েছে দিল্লির সরকার তাতে ইতিমধ্যেই সংকটে পঠন পাঠন। এবার ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার পর দেখা গেল পরীক্ষার মাঝেই চলবে নির্বাচন। মাথায় হাত শিক্ষাবিদ- পড়ুয়া- অভিভাবকদের। ১৯ এপ্রিল থেকে ভোট শুরু আর ২৮ এপ্রিল রাজ্য জয়েন্ট পরীক্ষা (JEE)। আগেরবারের থেকে বেড়েছে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা। একদিকে স্কুল কলেজে কেন্দ্রীয় বাহিনীর থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যার জেরে কলকাতা সহ পশ্চিমবঙ্গের বড় বড় স্কুলের ক্লাস বাতিল করতে হয়েছে, অন্যদিকে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে ভোটগ্রহণ কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে, যে কারণে ভোটের আগে পরে বিশেষ নিরাপত্তার কড়াকড়ি থাকছে। এই অবস্থায় পরীক্ষা এবং ভোট যে একে অন্যের মুখোমুখি হয়ে সমস্যা বাড়াবে তা বেশ আঁচ করা যাচ্ছে।

বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC)তরফে বারবার এক দফা ভোট করার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু কেন্দ্রের কথা মেনে নির্বাচন কমিশন (National Election Commission) পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেছে। সাত দফা নির্বাচন চলবে প্রায় দেড় মাস ধরে। ইতিমধ্যেই ঘাসফুলের তরফে এই সিদ্ধান্তকে কটাক্ষ করা হয়েছে। রাজ্যের ৯২০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। প্রথম দফায় ১৫০ কোম্পানি আধা সামরিক বাহিনী আসায় স্কুল কলেজের পড়াশোনা বন্ধ করতে হয়েছে। বাকি জওয়ানরা এলে খুব স্বাভাবিকভাবেই তাঁদের থাকার জায়গা হবে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভবন। এই পরিস্থিতিতে ১ লক্ষ ৪২ হাজার ৬৯২ জনের জয়েন্ট পরীক্ষা নেওয়া সহজ কথা নয়। সূত্রের খবর সোমবার নবান্ন ও বিকাশ ভবনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলবে জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ড। স্কুলের প্রধান শিক্ষক থেকে কলেজ অধ্যক্ষ প্রত্যেককেই বলছেন শুধু ১৯ এপ্রিল ভোটের প্রথম দিন থেকে ৪ জুন ভোট ঘোষণা পর্যন্ত ধরলে হবে না, শনিবার অর্থাৎ নির্বাচনের দিন ঘোষণা থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত সময়টাকেও ধরতে হবে। তাহলে সব মিলিয়ে এই ভোট প্রক্রিয়া, তার যাবতীয় কাজকর্ম চলবে প্রায় ৮০ দিন ধরে। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকার জন্য স্কুল কলেজের রিকুইজিশন আসতে শুরু করেছে। মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সূচি অনুযায়ী বিভিন্ন স্কুলে পঞ্চম থেকে দশমের প্রথম সমিতির পরীক্ষা হবে ১ থেকে ৯ এপ্রিল। প্রায় ৭৫ লক্ষ ছাত্রছাত্রী পরীক্ষা দেবেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় বাহিনী স্কুলে এসে গেলে কী ভাবে পরীক্ষা হবে তা নিয়ে বাড়ছে ধোঁয়াশা। সবমিলিয়ে গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়া যে বাংলার পড়ুয়াদের পঠন-পাঠনকে ভয়ংকর সংকটের মধ্যে ফেলে দিল তা বলাই বাহুল্য।

Related articles

কর্মিসভা ডাকুন, বুঝবেন কত ধানে কত চাল: দিল্লিতে দলীয় সাংসদদের বার্তা কুণালের

রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের পরে যেভাবে বিধানসভায় নতুন রাজনৈতিক ছক প্রকাশ্যে, সেই একই খেলা দিল্লির সংসদেও খেলার চেষ্টা বিজেপির।...

টাকার বিনিময়ে হকারদের জায়গা দেওয়ার অভিযোগ! গাড়ি ফেলে বেপাত্তা কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ

ভিন রাজ্য থেকে গ্রেফতার কলকাতার ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ। তোলাবাজির অভিযোগে বেশ কয়েকদিন ধরে তাঁকে খুঁজছিল...

শনিতে মুখ্যমন্ত্রী-রেলমন্ত্রী বৈঠক, বাংলার আটকে থাকা রেল প্রকল্পগুলি নিয়ে উদ্যোগ কেন্দ্রের

রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে বাংলার প্রকল্পগুলির অনুমোদন দিচ্ছে না কেন্দ্রে- এই অভিযোগ সবসময়ই করতে বিগত তৃণমূল সরকার। সেই অভিযোগেই...

প্রকল্প অনুমোদনে গতি আনতে সিদ্ধান্ত, দফতরগুলির আর্থিক ক্ষমতা বাড়াল রাজ্য

উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অনুমোদন ও বাস্তবায়নের গতি আনতে প্রশাসনিক দফতরগুলির আর্থিক ক্ষমতা বৃদ্ধি করল রাজ্য সরকার (State Goverment)। অর্থ...