দশ বছর পর বাড়তে চলেছে পিএফের মাস বেতনের ঊর্ধ্বসীমা ৷ ১৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত করা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। ২০১৪ সালে শেষবার বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছিল। সেবার সাড়ে ৬ হাজার টাকা থেকে মাসিক বেতন বেড়ে হয়েছিল ১৫ হাজার টাকা। এবার তা আরও বেড়ে ২৫ হাজার করা হতে পারে ৷ শ্রম মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, এই নিয়ে দফায় দফায় শীর্ষ স্তরে বৈঠক হয়েছে। তবে সরকারিভাবে এখনও কোনও ঘোষণা করা হয়নি।
চলতি মাসেই ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরের পূর্ণাঙ্গ সাধারণ বাজেট পেশ করবেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। শ্রমমন্ত্রকের শীর্ষ সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে, এবারের বাজেটেই এ সংক্রান্ত ঘোষণা করতে পারেন তিনি। এই মুহূর্তে সারা দেশে কর্মী পিএফের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় সাড়ে সাত কোটি। মাস বেতনের ঊর্ধ্বসীমা বৃদ্ধি করা হলে আরও অন্তত কয়েক কোটি নতুন গ্রাহক এই সামাজিক সুরক্ষা পরিষেবার আওতায় চলে আসবেন। আপাতত সেই হিসেব মেলাতেই ব্যস্ত মন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকরা।
দেশের যেসব বেসরকারি সংস্থা-প্রতিষ্ঠানে ন্যূনতম ২০ জন কর্মী থাকেন, সেইসব সংস্থা ইপিএফওর আওতাভুক্ত হয়। বর্তমানে ওইসব সংস্থার যে কর্মীরা মাসে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন পান, তাঁরা বাধ্যতামূলকভাবেই ইপিএফ পরিষেবা পান। একজন ইপিএফ গ্রাহক প্রতি মাসে ১২ শতাংশ অর্থ কন্ট্রিবিউশন হিসেবে নির্দিষ্ট খাতে জমা দেন। ওই গ্রাহকের হয়ে তাঁর নিয়োগকর্তা আরও ১২ শতাংশ অর্থ পিএফ খাতে জমা করেন। ওই প্রদেয় অর্থের ৮.৩৩ শতাংশ যায় গ্রাহকের এমপ্লয়িজ পেনশন স্কিমে (ইপিএস) এবং বাকি ৩.৬৭ শতাংশ যায় তাঁর ইপিএফ অ্যাকাউন্টে। ফলে মাস বেতনের ঊর্ধ্বসীমা বৃদ্ধি করলে স্বাভাবিক নিয়মেই আরও বেশি গ্রাহক ইপিএফ পরিষেবায় যুক্ত হবেন।
এখনও পর্যন্ত মোট ন’দফায় কর্মী পিএফের সর্বোচ্চ মাস বেতনের ঊর্ধ্বসীমা পরিবর্তন করা হয়েছে। শেষবার এটি করা হয়েছে ২০১৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর। সেসময় মাসে সর্বোচ্চ সাড়ে ছ’হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন পেলে বেসরকারি সংস্থা-প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা বাধ্যতামূলকভাবে ইপিএফের আওতায় থাকতেন। ২০১৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে তা বেড়ে হয় মাসে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। ১০ বছর পর সেই উর্ধ্বসীমার পরিমাণই এবার বাড়িয়ে মাসে ২৫ হাজার টাকা করার ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে চলেছে এনডিএ সরকার।









