রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রয়াত বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর (Budhadev Bhattachariya) মৃত্যুতে শোকের ছায়া রাজনৈতিক মহলে। তাঁর মৃত্যুতে বাংলার রাজনীতির একটি যুগের অবসান। দলমত নির্বিশেষে বুদ্ধবাবুর প্রয়াণে শোকজ্ঞাপন করেছেন রাজনৈতিক দলগুলির নতুন প্রজন্মের নেতা থেকে বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদরা। মতাদর্শ আলাদা হলেও রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ বিরোধী দলগুলির নেতারাও। স্মৃতিচারণা যেমন করেছেন, তেমনই এই কঠিন সময় বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর পরিবার, পরিজন, অনুগামীদের সমবেদনাও জানিয়েছেন সকলে।

আজ, বৃহস্পতিবার সকালে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর (Budhadev Bhattachariya) মৃত্যু সংবাদ পাওয়ার পর রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শোকজ্ঞাপন করেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিষেক লেখেন, “পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম একজন বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের প্রয়াণে আমির গভীরভাবে মর্মাহত। আমি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর বিদেহী আত্মার চিরশান্তি কামনা করে, তাঁর আত্মীয় পরিজন ও অনুরাগীদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।”

বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এক ভিডিও বার্তায় শোকপ্রকাশ করে জানিয়েছেন, “মাননীয় বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ ছিলেন। মতাদর্শ ভিন্ন হলেও ব্যক্তিগতভাবে আমি ওনাকে ভীষণ সম্মান করতাম। তাঁর পরিবারকে এই দুঃখের মুহূর্তে ঈশ্বর যেন শক্তি প্রদান করেন।”

কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা তথা পাম এভিনিউয়ে বুদ্ধবাবুর প্রতিবেশি প্রদীপ ভট্টাচার্য ছিলেন, “দীর্ঘদিন আমরা একসঙ্গেই ছিলাম, একই কমপ্লেক্সে বাস করছি। তিনি যখন মুখ্যমন্ত্রী, তার আগে যখন তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী ছিলেন, একসঙ্গে থেকেছি। এত দীর্ঘদিন একসঙ্গে থাকাতেও কোনও দিন বিরোধ হয়নি। আমি বাংলা বনধের ডাক দিয়েছি, তিনি বনধের বিরোধিতায়। কিন্তু রাজনীতি কখনও আমাদের বাসার জায়গায় আসেনি, কখনও সম্পর্কে তিক্ততা আসেনি। অত্যন্ত সৌজন্যের সাথে সবসময় কথা হতো।”


সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, “গোটা রাজ্যের শুভাকাঙ্খী মানুষের চেষ্টা ছিল, তাদের শুভেচ্ছা ছিল। তিনি এতদিন জীবন যুদ্ধে ছিলেন। কিন্তু শেষপর্যন্ত শেষরক্ষা করা যায়নি। তাঁর কাজকর্ম, তাঁর সততা, রাজনৈতির মন, প্রশাসক, জনপ্রতিনিধি হিসেবে, মানবদরদী, নিস্পাপ মানুষ হিসেবে তিনি আমাদের মধ্যে থেকে যাবেন।”

রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি নেতা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের প্রয়ানে এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের প্রয়াণের খবর পেয়ে আমি শোকাহত। তাঁর গুণগ্রাহী ও পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা জানাচ্ছি। কামনা করি তাঁর আত্মার শান্তি পাক। ওম শান্তি।”


কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা অধীর চৌধুরী বলেন, “বুদ্ধবাবুদের সঙ্গে আমাদের একটা সংঘাত ছিল। কিন্তু দিনের শেষে একটাকথা বলতে হবে আজকের রাজনীতিবিদদের জন্য, বিশেষ করে রাজনীতি আর দুর্নীতি যখন পরিপূরক হয়ে যাচ্ছে। ওঁর মত ব্যক্তিত্ব আগামী প্রজন্মের জন্য বড় আদর্শ হয়ে থাকবে। উনি সততার পথ ত্যাগ করেননি, নিষ্ঠার সঙ্গে পার্টি করেছেন। উনি ওঁর আদর্শের প্রতি অবিচল ছিলেন। বাংলার উন্নয়নের জন্য ভেবেছিলেন, ভুল হোক হোক বা ঠিক হোক। তাঁর ভাবনা সঠিক ছিল। সিঙ্গুর তার প্রমাণ। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হওয়া সত্বেও তাঁর যে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা তা আমরা দেখতে পেয়েছি।”


আরও পড়ুন: যে পথে যেতে হবে সে পথে তুমি একা: বুদ্ধদেবের প্রয়াণে স্মৃতিমেদুর মমতা











