Tuesday, February 24, 2026

কলেজ স্ট্রিটে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢোকার মূহুর্তে টিএমসিপির বিক্ষোভের সামনে রাজ্যপাল

Date:

Share post:

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢোকার মূহুর্তে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ-এর বিক্ষোভের সামনে পড়লেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। বৃহস্পতিবার কলেজ স্ট্রিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে রাজ্যপালের গাড়ি যখন ঢুকছে, সেই সময় রাস্তার দু’ধার থেকে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান তুললেন টিএমসিপি সদস্যরা। রাজ্যপালকে কালো পতাকাও দেখানো হয়। বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, রাজ্যপাল বেআইনিভাবে এক জন উপাচার্যকে বিশ্ববিদ্যালয়ে বসিয়ে রেখেছেন।

বৃহস্পতিবার পিএইচডি ডিগ্রি প্রাপকদের হাতে মানপত্র তুলে দেওয়ার অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন রাজ্যপাল।পদাধিকার বলে রাজ্যপাল রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির আচার্যও বটে। বিক্ষোভরত টিএমসিপি কর্মীদের দাবি, পূর্ণ সময়ের উপাচার্য না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ে বার্ষিক সমাবর্তন অনুষ্ঠান করা যাচ্ছে না। তাই মানপত্র তুলে দেওয়ার অনুষ্ঠানের নামে ঘুরপথে সমাবর্তন অনুষ্ঠান করা হচ্ছে। মুষ্টিমেয় কয়েক জন অধ্যাপককে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হলেও, বাকিদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতর ঢোকার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না বলেও তারা অভিযোগ করেছেন। প্রসঙ্গত, বুধবারই এই বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল রাজ্যের শাসকদলের ছাত্র সংগঠন।

বর্তমানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য হিসাবে রয়েছেন শান্তা দত্ত। সার্চ কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ করা হয়ে থাকে। তা নিয়ে আগেই বিবাদ তৈরি হয়েছিল রাজভবন ও রাজ্য সরকারের মধ্যে। গত ৮ জুলাই সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, তিন মাসের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগের প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। শীর্ষ আদালতের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইউইউ ললিতের নেতৃত্বে তিন সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করতে হবে। কমিটির চেয়ারম্যান হিসাবে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ললিত সব ক’টি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি কমিটি গঠন করতে পারেন। আবার আলাদা আলাদা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আলাদা আলাদা কমিটিও গঠন করা যেতে পারে। কমিটিতে প্রয়োজনে আরও চার বিশেষজ্ঞকে রাখতে পারেন চেয়ারম্যান।

শুধুমাত্র তাই নয়, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদের জন্য তিনটি করে নাম বাছাই করবে সার্চ কমিটি। সেই তিনটি নাম তারা মুখ্যমন্ত্রীকে পাঠাবেন। মুখ্যমন্ত্রী ওই তিনটি নামের মধ্যে থেকে একটি নাম বাছবেন। সেই নাম তিনি রাজভবনে পাঠাবেন। তাঁকে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসাবে নিয়োগ করবেন রাজ্যপাল। তিনিই রাজ্যের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য। তবে সার্চ কমিটির বাছাই করা নাম যদি মুখ্যমন্ত্রীর পছন্দ না হয়, তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে পারেন। আবার সার্চ কমিটি প্রস্তাবিত তিনটি নামের মধ্যে থেকে মুখ্যমন্ত্রী যাকে বাছবেন, রাজ্যপালের যদি তাকে পছন্দ না হয়, তিনিও শীর্ষ আদালতে যেতে পারেন।

টিএমসিপির বক্তব্য, শুধু যাঁরা বেআইনি উপাচার্যের দলদাস হয়ে কাজ করে, চাটুকারিতা করে তাদের কেবল ঢুকতে দেওয়া হয়েছে। আর সেই কারণেই আচার্য সিভি আনন্দ বোসকে কালো পতাকা দেখিয়ে প্রতিবাদ করছি।









spot_img

Related articles

ভোটের মুখে বড় ভাঙন পদ্ম শিবিরে, গোজিনায় তৃণমূলে যোগ দিলেন বিজেপি পঞ্চায়েত প্রধান-সহ ৫০০

বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নায় রাজনৈতিক সমীকরণ ওলটপালট হতে শুরু করেছে। বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য...

মৃত সরকারি কর্মীর বকেয়া টাকা পাবেন বিবাহিত ও বিবাহবিচ্ছিন্ন কন্যারাও, নিয়মে বড় বদল নবান্নের

কর্মরত অবস্থায় কোনও রাজ্য সরকারি কর্মীর মৃত্যু হলে তাঁর প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা কাটাল...

ফের বিদেশে ভারতের প্রতিনিধিত্ব সাংসদ অভিষেকের, একটি সংসদীয় দলের নেতৃত্বে লোকসভার দলনেতা

ফের বিশ্বের দরবারে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন তৃণমূল সাংসদ তথা লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। ৬০-এর বেশি দেশের...

ঝাড়খণ্ডের কাসারিয়ার কাছে ভেঙে পড়ল এয়ার অ্যাম্বুলেন্স: ৭ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা

ফের এক বিমান দুর্ঘটনা যেখানে সাতজনের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। এবার মাঝ আকাশ থেকে ভেঙে পড়ল একটি এয়ার...