Thursday, June 25, 2026

এড়িয়ে যাওয়া! রাজ্য কমিটি তৈরি হলেও জেলা কমিটি নিয়েই বেকায়দায় সিপিআইএম

Date:

Share post:

সাত তাড়াতাড়ি রাজ্য সম্মেলন করে রাজ্য কমিটি গঠন হয়ে গিয়েছে। অথচ এখনো মেটেনি জেলা কমিটি নিয়ে অসন্তোষ। বাংলায় জেলা, গ্রামস্তরে বামেদের সাধারণ মানুষের সমর্থন তো দূরের কথা, দলীয় কর্মীদের সঙ্গে কতটা দূরত্ব তা এই জেলা কমিটি (district committee) তৈরি নিয়ে ফের প্রকাশ্যে। একাধিক জেলার সিপিআইএম (CPIM) রাজ্য সম্পাদক নিয়ম ভেঙে নির্বাচিত হওয়ায় দলের ভিতরে অসন্তোষ এবার প্রকাশ্যে।

ক্ষমতায় থাকা থেকে ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার পরেও বারবার রাজ্যের মানুষের সমস্যা এড়িয়ে গিয়েছে। ২০১১ সালের পরেও রাজ্যের কোন সমস্যায় সমাধানের পথ দেখানো তো দূরের কথা, রাজ্য সরকারের বিরোধিতা করে নতুন সমস্যা বাড়িয়ে দিয়েছেন সিপিআইএম (CPIM) নেতারা। রাজ্যের মানুষের জন্য কেন্দ্রীয় বঞ্চনা থেকে মূল্য বৃদ্ধির মত জ্বলন্ত ইস্যুগুলি থেকে পিঠ বাঁচিয়ে রেখেছে বামেরা। একইভাবে জেলা কমিটি তৈরিতে দলীয় কর্মীদের প্রতিরোধের সম্মুখীন হলে সেখানেও সহজ সমাধান খুঁজেছিল রাজ্য নেতৃত্ব।

জেলা কমিটির নির্বাচনে এবার বিভিন্ন জেলায় প্রতিরোধের মুখে পড়ে সিপিআইএম রাজ্য নেতৃত্ব। দলের উপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া জেলা সম্পাদকদের মেনে নিতে চাইনি অনেক জেলাই। যার ফলে নিয়ম ভেঙে মালদহ, কোচবিহার, পূর্ব মেদিনীপুর ও বাঁকুড়ায় জেলা সম্পাদক নির্বাচন করে সিপিআইএম (CPIM)। কোচবিহারে (Coochbihar) বয়সের নিয়ম ভেঙে ফের সম্পাদক হন অনন্ত রায়। মালদহ (Maldah) ও পূর্ব মেদিনীপুরে (Purba Medinipur) তিনবারের সম্পাদক পদের মেয়াদ পেরিয়ে গেলেও চতুর্থ বার সম্পাদক করা হয় যথাক্রমে অম্বর মিত্র ও নিরঞ্জন শিহিকে। আবার একাধিক দলীয় পদে থাকার পরেও বাঁকুড়ার (Bankura) জেলা সম্পাদক করা হয় দেবলীনা হেমব্রমকে।

একমাত্র উত্তর ২৪ পরগনার (North 24 Parganas) ক্ষেত্রে দলীয় প্রতিরোধের মুখে জেলা সম্পাদক নির্বাচনে গা জোয়ারি করতে পারেনি রাজ্য নেতৃত্ব। সেখানে বদল হয়েছে জেলা সম্পাদক। নতুন সম্পাদক হয়েছেন পলাশ দাশ। কিন্তু কোচবিহার, মালদহ, পূর্ব মেদিনীপুর, বাঁকুড়ার ক্ষেত্রে প্রতিরোধ জোরালো না হওয়ায় রাজ্যের চাপিয়ে দেওয়া সম্পাদক গ্রহণ করেছে জেলাগুলি। কিন্তু নিয়ম ভাঙায় এবার প্রশ্নের মুখে রাজ্য কমিটি। ফলে দ্রুত এই জেলাগুলিতে ফের জেলা সম্পাদক বদল করার পথে সিপিআইএম।

সদ্য শেষ হয়েছে রাজ্য সম্মেলন। সর্বসম্মতিক্রমে রাজ্য সম্পাদক হয়েছেন মহম্মদ সেলিম (Mohammed Selim)। কিন্তু জেলাস্তরে কর্মীদের অসন্তোষ এড়িয়ে যাওয়া সিপিআইএম (CPIM) ব্যর্থ রাজ্য সম্মেলনের আগে জেলাগুলির প্রকৃত জেলা সম্পাদক খুঁজে পেতেই। সেখানেই প্রশ্ন, আর কতদিন শূন্যে নেমে যাওয়া নিজেদের দলের সমস্যাগুলিকে এড়িয়ে পার্টি লাইন চালাবেন।

Related articles

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার ‘সর্বজনীন’ নয়! বিধানসভায় স্পষ্ট স্বীকারোক্তি অর্থমন্ত্রীর

রাজ্য বিধানসভায় বাজেটের জবাবি ভাষণে এক তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, নতুন অন্নপূর্ণা...

মূল ষড়যন্ত্রকারী কে? কেতন খুনে ধন্দে পুলিশ

পুণের বিশিষ্ট ব্যবসায়ীর ছেলে কেতন আগারওয়াল (Ketan Agarwal Murder Case) খুনে মূল চক্রী কে, তাই নিয়ে ধন্ধে পুলিশ।...

ঋণমুক্তির কোনো রোডম্যাপ নেই বাজেটে! তোপ শোভনদেবের

রাজ্যের ঋণের বোঝা কমানোর কোনো সুস্পষ্ট রূপরেখা নেই বাজেটে। উল্টে বিরোধী আসনে থাকার সময় যে সব সামাজিক প্রকল্পের...

তারাতলার বিপর্যয়ে দোষী হলে প্রাক্তন মেয়রও গ্রেফতার হোন: দাবি তৃণমূল বিধায়কের

তারাতলার বিপর্যয় নিয়ে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (CM Suvendu Adhikari) দোষীদের গ্রেফতারের প্রস্তাবকে সমর্থন করলেন তৃণমূল (TMC) বিধায়ক...