নিট(NEET) প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে এবার মধ্যপ্রদেশের নবগঠিত জেলা মৌগঞ্জের বাসিন্দা এক ছাত্রী আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ। জানা গিয়েছে মৃত ছাত্রীর নাম আকাঙ্ক্ষা চতুর্বেদী। সিলিং ফ্যানে ঝুলে আত্মহত্যা করেছেন তিনি এবং তাঁর মৃত্যুর জন্য নিটের প্রশ্নফাঁস দায়ী বলে অভিযোগ করছেন পরিবারের লোকজন।

এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই কেন্দ্রের চরম গাফিলতির দিকে আঙ্গুল তুলেছেন রাহুল গান্ধী(Rahul Gandhi )। বলেন, ”তিনি ডাক্তার হয়ে দেশ ও সমাজের সেবা করতে চেয়েছিলেন। তাঁর বাবা একজন কৃষক। মেয়ের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে তিনি কিষাণ ক্রেডিট কার্ড থেকে ৩ লক্ষ টাকার ঋণ নেন। আর তিনি নাগপুরে একজন বাবুর্চির চাকরি নেন, যাতে তাঁর মেয়ে সেখানে কোচিংয়ে যেতে পারে। একজন বাবা সাধ্যমত সবকিছুই করেছিলেন। তারপর, নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে গেল। পরীক্ষা বাতিল হয়ে গেল। সেই অনিশ্চয়তার মাঝে এই ছাত্রী আমাদের চিরদিনের জন্য ছেড়ে চলে গেলেন। এটাই প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বাধীন একটি দুর্নীতিগ্রস্ত ও ভেঙে পড়া ব্যবস্থার মর্মান্তিক পরিণতি।”

সূত্রের খবর, নিট পরীক্ষার ভালোই প্রস্তুতি নিয়ে আকাঙ্ক্ষা পরীক্ষায় বসেন। তিনি ৬৫০ নম্বর পাবেন বলে আশা করেছিলেন। কিন্তু প্রশ্নফাঁসের জন্য সেই পরীক্ষা বাতিল করে দেওয়া হলে তারপর থেকেই তিনি অবসাদে ভুগছিলেন। অবশেষে নতুন করে প্রস্তুতি নেওয়ার সাহস দেখাতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন তিনি।

তাঁর বাবা কৃষ্ণ কুমার চতুর্বেদী একজন কৃষক। নিজের সন্তানকে ডাক্তার করার স্বপ্ন নিয়ে রান্নার কাজ শুরু করেন তিনি। মেয়েকে নাগপুরের বড় কোচিং সেন্টারে ভর্তি করেন তিনি। নিট পরীক্ষায় মায়ের ভাল ফল হবে সেই আশা করেছিলেন সকলেই। কিন্তু পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়ে যায় এবং পরীক্ষা বাতিল হয়ে যাওয়ায় অবসাদে ভুগছিলেন আকাঙ্ক্ষা। ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট পেয়েছে পুলিশ। লেখা রয়েছে, ‘সরি, মা-বাবা, তোমরা ভেবেছিলে তোমাদের মেয়ে ডাক্তার হবে। কিন্তু আমার আর নতুন করে নিট দেওয়ার সাহস নেই। আমি তোমাদের দুইজনের জীবন নষ্ট করে দিয়েছি। কোনও গ্য়ারান্টি নেই যে আমি আবার এটা করতে পারব।’

এই প্রসঙ্গ তুলেই শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে নিশানা করে সোশ্যাল হ্যান্ডেলে রাহুল গান্ধী বলেন, “আর মিস্টার ধর্মেন্দ্র প্রধান? তিনি আজও তাঁর পদে বসে আছেন। সেই একই পুরোনো কমিটি। সেই পুরোনো বদলি। সেই একই পুরোনো তদন্ত। কোনো সংস্কার নেই; কোনো ন্যায়বিচার নেই।” মোদিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ”ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয় – আসে এবং যায়। কিন্তু গত ১২ বছরে আপনি শিক্ষা ব্যবস্থাকে যে পরিমাণে ধ্বংস করেছেন, তার মূল্য এখন ভারতের যুব সমাজের একটি গোটা প্রজন্মকে দিতে হচ্ছে।”

প্রসঙ্গত, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের জেরে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA) কর্তৃক ৩ মে অনুষ্ঠিত NEET (UG) ২০২৬ পরীক্ষাটি ১২ মে বাতিল করা হয়, যার তদন্ত এখন সিবিআই করছে। আগামী ২১ জুন ফের NEET-UG পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছে।

–

–
–
–
–
–
