Saturday, June 27, 2026

কেনেডির হত্যাকাণ্ডের নথি প্রকাশ ট্রাম্প প্রশাসনের, সিআইএ যোগ নিয়ে জল্পনা

Date:

Share post:

জন এফ কেনেডি হত্যাকাণ্ড মার্কিন মনে এক দগদগে ক্ষত হয়ে রয়ে গিয়েছে। ১৯৬৩ সালের ২২ নভেম্বর ডালাসের ডিলি প্লাজায় সেই ভয়াবহ কয়েক সেকেন্ড এক রহস্য রেখে গিয়েছে, যা এখনও সমাধান হয়নি। এমনকি সদ্য প্রকাশিত ৮০ হাজার নথির পরও সেই রহস্যের সমাধান হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে জন এফ কেনেডির হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত নথির প্রকাশ নতুন করে সেদিনের ঘটনাগুলো নিয়ে জল্পনা উসকে দিয়েছে।

এর আগে, ২০১৭ সালে ট্রাম্প অতিরিক্ত নথি প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। যদিও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে হাজারো নথির কিছু অংশ অবশ্য প্রকাশ করা হয়নি। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তিনি কেনেডি হত্যাকাণ্ড সম্পর্কিত বাকি সব নথি প্রকাশের নির্দেশ দেন।সর্বশেষ প্রকাশিত নথিপত্রের অংশ হিসেবে নতুনভাবে চিহ্নিত ১ হাজার ১২৩টি ফাইল প্রকাশ করা হয়েছে। গবেষক ও বিশ্লেষকেরা এখন এইসব নথি পর্যালোচনা করে নতুন তথ্য অনুসন্ধান করছেন।

জন এফ কেনেডি হত্যাকাণ্ডের রাতেই গোয়েন্দা আধিকারিক জে গ্যারেট আন্ডারহিল আতঙ্কিত অবস্থায় ওয়াশিংটন ছেড়ে পালিয়ে যান। তিনি নিউজার্সিতে এক বন্ধুর বাড়িতে আশ্রয় নেন। প্রকাশিত নথিতে পাওয়া এক মেমো অনুযায়ী আন্ডারহিল অভিযোগ করেন যে, সিআইএর ভেতরের একটি ‘ছোট গোষ্ঠী’ কেনেডি হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী।প্রকাশিত নথির তথ্য অনুসারে, আন্ডারহিল নাকি তার বন্ধু শার্লিন ফিটসিমন্সকে বলেছিলেন, জন এফ কেনেডি হত্যাকাণ্ডের পেছনে সিআইএ যুক্ত ছিল। তিনি বলেন, ‘(লি হার্ভে) অসওয়াল্ড স্রেফ বলির পাঁঠা।’ আন্ডারহিল দাবি করেন, প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারীরা ‘ভয়ংকর কিছু একটা করেছে’ এবং তারা অস্ত্র চোরাচালান, মাদক ব্যবসা ও অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল।

১৯৬৭ সালের ১৯ জুলাই তারিখের এক নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যেসব বন্ধুর কাছে আন্ডারহিল গিয়েছিলেন, তারা বলেছেন, তিনি তখন প্রবলভাবে আতঙ্কিত ছিলেন। তারা জানান, আন্ডারহিল দাবি করেছিলেন যে, অস্ত্র চোরাচালান, মাদক ব্যবসা এবং অন্যান্য অবৈধ কাজে জড়িত সিআইএর একটি চক্র, যারা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করছিল,তারাই কেনেডিকে হত্যা করেছে। নাকি কেনেডি এই অনিয়মের কথা জানতে পেরেছিলেন এবং এ সম্পর্কে প্রকাশ্যে বলার আগেই তাকে খুন করা হয়েছিল।

প্রাণের ভয়ে আন্ডারহিল কেনেডি হত্যাকাণ্ডের পরপরই ওয়াশিংটন ছেড়ে পালিয়ে যান। এর ছয় মাসেরও কম সময় পর ১৯৬৪ সালের ৮ মে আন্ডারহিলকে ওয়াশিংটনে তার নিজের অ্যাপার্টমেন্টে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তার মাথা গুলি করা হয়েছিল। সরকারিভাবে এটিকে আত্মহত্যা বলে ঘোষণা করা হলেও বেশ কিছু অসঙ্গতি নানা গুজবকে উসকে দিয়েছে। প্রকাশিত গোপন নথিতে বলা হয়েছে, ‘আন্ডারহিলের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে ঘোষণা হলেো, তা মোটেও বিশ্বাসযোগ্য নয়। তার দেহ আবিষ্কার করেন তার লেখালেখির সহযোগী দ্য নিউ রিপাবলিকের অ্যাশার ব্রাইনস।

নথিতে বলা হয়েছে, আন্ডারহিলের মাথার বাঁ কানের পেছনে গুলি লেগেছিল, আর একটি অটোমেটিক পিস্তল পাওয়া যায় তার শরীরের বাঁ পাশে। বিষয়টি অদ্ভুত। কারণ ব্রাইনস জানান, আন্ডারহিল ছিলেন ডানহাতি। ব্রাইনসের ধারণা, ওই পিস্তলে সাইলেন্সার লাগানো ছিল, কারণ ওই অ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দারা কোনও গুলির শব্দ শোনেননি। দেখা যাচ্ছে, আন্ডারহিল কয়েক দিন আগেই মারা গিয়েছিলেন।

নতুন প্রকাশিত নথিগুলি লি হার্ভে ওসওয়াল্ডের ভূমিকা নিয়ে আগের সন্দেহগুলোকেই আরও জোরদার করেছে। সরকারিভাবে বলা হয়, ওসওয়াল্ড একাই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিলেন। কিন্তু এই বক্তব্যেও অসঙ্গতি আছে। গুলির সময়কাল, বুলেটের গতিপথ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য থেকে দ্বিতীয় একজন বন্দুকধারীর সম্ভাবনার ইঙ্গিত মিলেছে।

সম্প্রতি নবগঠিত টাস্কফোর্স অন দ্য ডিক্লাসিফিকেশন অব ফেডারেল সিক্রেটসের প্রধান আনা পলিনা লুনা ‘দুজন বন্দুকধারী’ তত্ত্বকে সমর্থন করেছেন। তার এই অবস্থান বহুদিন ধরে প্রচলিত ওয়ারেন কমিশনের বক্তব্যকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।প্রকাশিত নথিপত্রে স্যামুয়েল জর্জ কামিংস নামে এক ব্যক্তির বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। কামিংস অস্ত্র ব্যবসায়ী ছিলেন এবং তার সঙ্গে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সংযোগ ছিল। তিনি সিআইএ-তে অস্ত্র বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেছেন এবং বিদেশি অস্ত্র কেনা ও বিতরণের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। নথিপত্রে উল্লেখ আছে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রসহ বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতেন, যার মধ্যে তৎকালীন পশ্চিম জার্মানির গোয়েন্দা সংস্থা বিএনডি অন্যতম। এমনকি তিনি কিউবা বিরোধী গোপন অস্ত্র চুক্তির সঙ্গেও যুক্ত থাকতে পারেন বলে ইঙ্গিত দেওয়া গিয়েছে।

আরেকটি দীর্ঘদিনের রহস্য হল কেন জ্যাক রুবি। তিনি ডালাসের এক নাইটক্লাব মালিক। তার সংগঠিত অপরাধচক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ছিল। কেনেডি হত্যার দুই দিন পর তিনি ওসওয়াল্ডকে গুলি করেছেন। যদিও রুবি দাবি করেছিলেন, তিনি শোকের বশে এটি করেছেন, তবে সন্দেহবাদীরা মনে করেন, তিনি ওসওয়াল্ডকে চুপ করিয়ে দিতে চেয়েছিলেন, যাতে সে আরও তথ্য প্রকাশ করতে না পারে।

জেএফকে হত্যাকাণ্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বস্তুগত প্রমাণ এখনও বিতর্কিত রয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে ‘ম্যাজিক বুলেট’ তত্ত্ব। যেখানে দাবি করা হয় যে, একটি মাত্র গুলি প্রেসিডেন্ট কেনেডি এবং টেক্সাসের গভর্নর জন কনেলিকে একসঙ্গে আঘাত করেছিল।এই ধারণাকে বহু বিশ্লেষক অবিশ্বাস্য বলে মনে করেন।আমেরিকান সংবাদমাধ্যমের একাংশই বলতে শুরু করেছে যে, ইজ়রায়েলের গুপ্তচর বাহিনীর সঙ্গে সিআইএ-র নানা ধরনের যোগসাজসের বহু পুরনো ঘটনা ফের সামনে চলে এসেছে। এই প্রসঙ্গে জেমস অ্যাঙ্গেলটন নামে সিআইএ-র এক প্রাক্তন অফিসারের নামও উঠে এসেছে।

 

Related articles

ফ্ল্যাট-বাড়ি পেলেও ক্ষতিপূরণ মিলবে দেরির জন্য! পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের 

ফ্ল্যাট বা বাড়ি হাতে পাওয়ার পরেও সংশ্লিষ্ট নির্মাণ সংস্থার বিরুদ্ধে গোটা প্রকল্পে অযৌক্তিক বিলম্বের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করতে...

ফের ভারতের আসতে পারেন মোদির ‘বন্ধু’ ট্রাম্প

আগামী ২০২৭ সালের শুরুতেই দ্বিপাক্ষিক সফরে ভারতে আসতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (American President Donald Trump)। শনিবার...

কুণাল-কল্যাণ-মহুয়াদের নীতিগত অবস্থানকে কুর্নিশ জহর সরকারের

দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ পদ ছাড়ছিলেন প্রাক্তন আমলা জহর সরকার (Jawhar Sarkar)। এবার বিধানসভা নির্বাচনের...

জন্মদিনে রুক্মিণীর জন্য কী বিশেষ বার্তা ‘বাইক অ্যাম্বুল্যান্স দাদা’র!

অভিনেত্রী রুক্মিণী মৈত্রর (Rukmini Maitra) জন্মদিনে সকাল থেকেই অনুগামীদের শুভেচ্ছা বার্তাই ভরে উঠে সোশ্যাল মিডিয়া (Social Media)। তবে...