Saturday, June 13, 2026

সাংসদ তহবিলের বরাদ্দ পরিবর্তন করা যায় না: শুভেন্দুর জমির নথি যাচাইয়ের দাবি কুণালের

Date:

Share post:

শহিদ স্মরণে হাসপাতাল করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া জমিতে দলবদল করার পরেই মন্দির করার হুঙ্কার বিজেপি (BJP) বিধায়ক তথা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Shubhendu Adhikari)। আর সেই বিষয় নিয়ে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ তৃণমূলের (TMC) রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের (Kunal Ghosh)। প্রাক্তন সাংসদ স্পষ্ট জানান, সাংসদ তহবিলে বরাদ্দ টাকা বা জমি অন্য খাতে ব্যবহার করা যায় না। বিরোধী দলনেতার জমির সরকারি নথি জেলাশাসক যাচাই করুন-চাইছেন কুণাল।

২৩ জানুয়ারি নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে নন্দীগ্রাম ১ ব্লকের সোনাচূড়ায় রামমন্দির তৈরির ঘোষণা করেন শুভেন্দু। বলেন, “সোনাচূড়ায় আমার আড়াই বিঘা জমি কেনা আছে। ওই জমিতেই রামমন্দির তৈরি করা হবে। রামনবমীর দিন হবে ভিতপুজো।“ এর পাল্টা অভিযোগ করে তৃণমূলের নেতৃত্ব। তাঁদের কথায়,  তৃণমূল সাংসদ থাকাকালীন ২০০৯ সালে ওই এলাকায় ‘শহিদ স্মৃতি হাসপাতাল’ করবেন বলে প্রায় চার বিঘা জমি কেনেন শুভেন্দু। ‘২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত সাংসদ শুভেন্দু অধিকারীর উন্নয়নের খতিয়ান’ নামক পুস্তিকার ১৩৩ নম্বর পৃষ্ঠায় উন্নয়নমূলক কাজের তালিকায় ১৪ লক্ষ টাকায় ওই জমি কেনার উল্লেখও আছে। তৃণমূলের অভিযোগ, হাসপাতাল হবে বলে তৎকালীন বাজারমূল্যের থেকে অনেক কম দামে জমি কেনেন শুভেন্দু। সোনাচূড়া অঞ্চল তৃণমূলের তৎকালীন সভাপতি রাধাকৃষ্ণ মণ্ডলের অভিযোগ, “আমরাই তখন একাধিক জমির মালিককে বুঝিয়ে অনেক কম দামে জমি সংগ্রহ করে দিয়েছিলাম। পরে, উনি নিজের নামে জমি রেজিস্ট্রি করায় প্রতিবাদ হয়। তখন তিনি বলেন, এলাকায় ট্রাস্ট গড়ে ওই জমি দান করে দেবেন। এখন সেখানেই মন্দির করবেন বলছেন।“

এই বিষয়টি লন্ডন থেকে ভিডিও বার্তায় কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) বলেন, সাংসদ থাকাকালীন নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলনের শহিদদের স্মরণে হাসপাতাল করার প্রতিশ্রুত দিয়েছিলেন শুভেন্দু। সাংসদ হিসেবে তাঁর উন্নয়নমূলক কাজে খতিয়ান দেওয়া পুস্তিকার পাতাতেও সেই কথা লেখা আছে। কুণালের কথায়, নিজের ব্যক্তিগত মালিকাধীন জমিতে যে কেউ যা খুশি করতে পারেন-মন্দির, মসজিদ, চার্চ। কিন্তু এমপি ল্যান্ডের যার জন্য বরাদ্দ জমিতে অন্য কিছু করা যায় না- মত প্রাক্তন সাংসদের। কিন্তু তৃণমূল সাংসদ থাকাকালীন তিনি যে জমিতে হাসপাপাতল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেটা এখন অন্য কাজে ব্যবহার করতে চাইছেন। ওই পুস্তিকার সত্যতা যাচাই করা হোক। একই সঙ্গে সরকারি নথি দেখা হোক- দাবি জানান কুণাল। জেলাশাসক খতিয়ে দেখুন রেকর্ডে কী আছে – মন্তব্য তৃণমূল নেতার।
আরও খবররবীন্দ্রভারতীতে তিনদিন ধরে বিক্ষোভ চলছে, পুলিশি পাহারায় বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য

Related articles

যুব তৃণমূল সভানেত্রীর পদ থেকে সায়নীর বিদায়: গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে কুণাল

নতুন করে সংগঠনকে সাজিয়ে তুলছেন নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই পথে একগুচ্ছ সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। শনিবার নেত্রীর বাসভবনে...

স্মার্ট মিটার বাধ্যতামূলক! রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় সরব যৌথ মঞ্চের নেতা ভাস্কর

সরকারি কর্মীদের বাড়িতে স্মার্ট মিটার বাধ্যতামূলক! রাজ্যের তহবিল থেকে যাঁরা বেতন, সাম্মানিক বা পারিশ্রমিক পান— সেই সমস্ত শিক্ষক,...

ঈদে ‘না’, যোগ দিবসে সেই রেড রোড আটকেই প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠান!

সাধারণ মানুষের অসুবিধা করে কোনও ধর্মীয় অনুষ্ঠান করা যাবে না। বাংলায় ক্ষমতা দখলের পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে...

নতুন সরকারের ‘অনভিজ্ঞতা’ ঢাকতে তৎপর নবান্ন, মন্ত্রীদের জন্য এটিআই-এ ‘ক্র্যাশ কোর্স’

ক্ষমতায় এসেছে নতুন সরকার। কিন্তু মন্ত্রিসভার একটি বড় অংশেরই নেই কোনও পূর্বতন প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা। এই পরিস্থিতিতে নতুন মন্ত্রীদের...