বিনিয়োগের সেরা ঠিকানা এখন বাংলা। বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনের (BGBS) মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) উদ্যোগ নিয়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহই তার প্রমাণ। আর এবার সেই সব বিনিয়োগ প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ চলা শুরু। সেই উদ্দেশে নেদারল্যান্ডসের (Netherlands) বিনিয়োগের মাধ্যমে রাজ্যে বাড়তে চলেছে মুরগির মাংসের (chicken) উৎপাদন। আর তাতে সরাসরি লাভবান হবেন রাজ্যের মুরগি প্রতিপালনের সঙ্গে যুক্ত চাষীরা।

২০২০-২১ সালের বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনে রাজ্য প্রাণীসম্পদ উন্নয়ন দপ্তর (Animal Husbandry Department) এবং নেদারল্যান্ডসের শিল্প সংস্থাগুলির মধ্যে একটি ‘মউ’ (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এই প্রকল্পের মাধ্যমে চাষীদের সহযোগিতা নিয়ে ব্রয়লার মুরগি (broiler chicken) চাষ করা হচ্ছে। চাষীদের মুরগির বাচ্চা, টিকা, ওষুধপত্র সমস্তটাই জোগান দিচ্ছে সরকার। বড় হলেই সেই মুরগি চলে যাচ্ছে সরকারি প্লান্টে। চাষীরা শুধুমাত্র সরকারের হয়ে তাঁর নিজের ফার্মে (farm) মুরগি প্রতিপালন করছেন। তার বিনিময়ে সরকারের কাছ থেকে নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক পান চাষীরা। এর ফলে একদিকে যেমন প্রান্তিক চাষীরা মুরগি প্রতিপালন করে অর্থ রোজগার করছেন, তেমনই সামান্য বিনিয়োগ করে রাজ্যে ব্রয়লার মুরগির উৎপাদন বাড়াতে পারছে সরকার। রাজ্যে এখনও পর্যন্ত মোট ১৪টি জেলায় এই প্রকল্প চালু হয়েছে।
এবার সেই প্রকল্পেই হচ্ছে নতুন সংযোজন। মানের উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র তৈরি করা হচ্ছে নদিয়ার কল্যাণীতে। নেদারল্যান্ডস (Netherlands) থেকে আনা যন্ত্রপাতিতে সুসজ্জিত প্রায় ৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে এই নতুন প্রক্রিয়াকরণ (processing) কেন্দ্র হবে। ২০২৫ সালের জুন মাসের মধ্যেই এই কারখানা তৈরি হয়ে যাবে, জানাচ্ছে প্রাণিসম্পদ বিকাশ দফতর। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা হরিণঘাটা মিটের (Haringhata meat) বিপণি থেকে উন্নত গুণমানের এই মাংস বিক্রি করা হবে।

বর্তমানে রাজ্য সরকারের হাতে মোট দু’টি মুরগির মাংস প্রক্রিয়াকরণের (processing) কেন্দ্র রয়েছে। প্রতিটিতে রোজ গড়ে ১৫ হাজার মুরগির মাংস প্রক্রিয়াজাত করে বিক্রির জন্য তৈরি করা হয়। সেখানে নতুন কেন্দ্রটি তৈরি হলে সেখানে প্রতিদিন গড়ে ৩০ হাজার মুরগির মাংস প্রক্রিয়াকরণ করা যাবে। এর ফলে রাজ্যে মুরগির মাংসের (chicken) জোগান অনেকটাই বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

–

–

–

–
–
–
–
