Friday, March 27, 2026

দেশের জার্সিতে বিদেশে খেলার সুযোগ এলেও সুরজের বাধা আর্থিক প্রতিকূলতা

Date:

Share post:

“এ যেন পাঁকে ফুটেছে পদ্মফুল” বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর ব্লকের কুলুপুকুর গ্রামে দিন আনি দিন খাওয়া সংসারে মা বাবা বোনের সঙ্গে বেড়ে ওঠা দশম শ্রেণীর সুরজ সরেন(Suraj Soren) ছোট থেকেই স্বপ্ন দেখতো রোলান্ডোর মত একদিন ফুটবল খেলবে। দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করবে। তার এই অদম্য জেদ আর ফুটবলের প্রতি ভালবাসা রাজ্যের মুখ উজ্জ্বল করলো। স্কুলে পড়াশোনার ফাঁকে পাশের গ্রামে এক পরিচিতের কাছে ফুটবল প্রতিক্ষণ শুরু সুরজের(Suraj Soren)। অভাবের তাড়নায় বহুদিন তাকে খালি পায়েই খেলতে হয়। এখানেই তার খেলার ধরন পায়ের স্কিল দেখে তার কোচের মনে হয় ফুটবল নিয়ে এই ছেলের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল।

কয়েক মাস আগে সুরজের জন্য আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। তার কোচ জানতে পারে ১১ই মে মধ্যপ্রদেশে হতে চলেছে অনূর্ধ্ব ১৭ ও অনূর্ধ্ব ১৯ নাইন-এ-সাইড ফুটবল প্রতিযোগিতা। সময় বিলম্ব না করে সুরজকে(Suraj Soren) নিয়ে তার কোচ ছুটে যায় দীঘায় সিলেকশনে। সিলেকশন পর্ব শেষ করে সুরজ ফিরে আসে বাড়িতে। হঠাৎ করেই তার বাড়িতে আসে চিঠি ১১ই মে মধ্যপ্রদেশে বাংলার হয়ে অনূর্ধ্ব ১৭ ফুটবল খেলতে যেতে হবে তাকে।

চিঠি পাওয়া মাত্রই তড়িঘড়ি প্রস্তুত। ১১ই মে সুরজ পৌঁছোয় মধ্যপ্রদেশে একের পর এক রাজ্যকে হারিয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ে উঠে বাংলার অনূর্ধ্ব ১৭ ফুটবল দল। ‌ ফাইনালে মুখোমুখি হয় ঝাড়খণ্ডের। সেই ম্যাচেই ২-১ গোলে জয়লাভ করে বাংলার অনূর্ধ্ব ১৭ ফুটবল দল। এই প্রতিযোগিতায় অ্যাটাকিং মিডফিল্ড পজিশনে খেলা সুরজ মোট চারটি গোল করেন। দশটি গোল অ্যাসিস্ট করে, নজর কাড়ে বিচারকদের, বেস্ট গোল অ্যাটাকিং এর পুরস্কারের খেতাব ছিনিয়ে নেয় সুরজ সরেন। ‌সুরজ নজরে আসে বাংলার অনূর্ধ্ব ১৭ ফুটবল দলের চেয়ারপার্সন দীপ কুমার মাহাতোর। পুরস্কার হাতে নিয়ে সুরজ ফিরে আসে বাড়িতে। বাড়িতে শুভেচ্ছার ঢল। গ্রামবাসী থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতারা সকলেই তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে আসেন। হঠাৎ করেই পশ্চিমবঙ্গ অনূর্ধ্ব ১৭ ফুটবল একাডেমির পক্ষ থেকে জানানো হয় এবার সুরজ সরেনকে খেলতে হবে ভারতবর্ষের হয়ে।

আগামী সেপ্টেম্বরে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হতে চলেছে সাউথ এশিয়ান গেম। এখানেই ভারতীয় অনূর্ধ্ব ১৭ ফুটবল দলে(U-17 India Team) বাংলার থেকে সুযোগ পায় দুই ফুটবলার। তার মধ্যে একজন সুরজ সরেন।‌ সেই খবরেই খুশির হওয়া এলাকা জুড়ে। তবে এই খুশির মধ্যেই কপালে চিন্তার ভাঁজ। সিঁদুরে মেঘ দেখছে তার পরিবারের লোকজন। শ্রীলংকায় যেতে গেলে অনেক অর্থের প্রয়োজন, পাসপোর্ট তৈরি করতে হবে। কিন্তু এত টাকা তো তাদের কাছে নেই! বাবা মা লোকের দুয়ারে কাজ করে কোনমতে সংসার চালায়। ভাঙাচোরা ঘরে চারজন কোনমতে বসবাস করে। তার বাবার দাবি ঝড় বৃষ্টির সময় সে বাড়িতে একা থাকে প্রাণভয়ে  ছেলে মেয়েকে পাশের বাড়ি রেখে আসে । এই পরিস্থিতিতে সুরজ সরেন এবং তার পরিবার সরকারি সাহায্যের আর্জি জানাচ্ছে। এখন দেখার অভাব অনটনকে ঘুচিয়ে দেশের হয়ে ফুটবল খেলতে এবার বিদেশে পাড়ি দিতে পারে কিনা সুরজ সরেন সেটাই দেখার!

Related articles

ফের অতিসক্রিয় কমিশন! বদল আরও ১৪ রিটার্নিং অফিসার! সব মিলিয়ে রদবদল ৮৭ কেন্দ্রে

বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যে প্রশাসনিক স্তরে রদবদলের ধারা অব্যাহত রাখল নির্বাচন কমিশন। গত সোমবার ৭৩...

পশ্চিম এশিয়া সংঘাত! রাজ্যগুলির প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী

পশ্চিম এশিয়ায় ঘনিয়ে আসা যুদ্ধের কালো মেঘ এবং তার জেরে উদ্ভূত আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মোকাবিলায় কোমর বাঁধছে কেন্দ্র। উদ্ভূত...

মুখ্যমন্ত্রীকে কদর্য ভাষায় আক্রমণ! মদনমোহন জেনার বিরুদ্ধে শেক্সপিয়র সরণি থানায় নালিশ তৃণমূলের 

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কুরুচিকর এবং অবমাননাকর মন্তব্য করে সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও প্রচারের বিরুদ্ধে সরব হলো তৃণমূল কংগ্রেস।...

শুক্রবার দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি তালিকা, শুরু ট্রাইবুনাল গঠনের প্রক্রিয়াও 

ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনী প্রক্রিয়ায় ‘বিবেচনাধীন’ নামগুলির দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি তালিকা শুক্রবার প্রকাশিত হতে পারে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে...