Monday, January 12, 2026

দেশের জার্সিতে বিদেশে খেলার সুযোগ এলেও সুরজের বাধা আর্থিক প্রতিকূলতা

Date:

Share post:

“এ যেন পাঁকে ফুটেছে পদ্মফুল” বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর ব্লকের কুলুপুকুর গ্রামে দিন আনি দিন খাওয়া সংসারে মা বাবা বোনের সঙ্গে বেড়ে ওঠা দশম শ্রেণীর সুরজ সরেন(Suraj Soren) ছোট থেকেই স্বপ্ন দেখতো রোলান্ডোর মত একদিন ফুটবল খেলবে। দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করবে। তার এই অদম্য জেদ আর ফুটবলের প্রতি ভালবাসা রাজ্যের মুখ উজ্জ্বল করলো। স্কুলে পড়াশোনার ফাঁকে পাশের গ্রামে এক পরিচিতের কাছে ফুটবল প্রতিক্ষণ শুরু সুরজের(Suraj Soren)। অভাবের তাড়নায় বহুদিন তাকে খালি পায়েই খেলতে হয়। এখানেই তার খেলার ধরন পায়ের স্কিল দেখে তার কোচের মনে হয় ফুটবল নিয়ে এই ছেলের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল।

কয়েক মাস আগে সুরজের জন্য আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। তার কোচ জানতে পারে ১১ই মে মধ্যপ্রদেশে হতে চলেছে অনূর্ধ্ব ১৭ ও অনূর্ধ্ব ১৯ নাইন-এ-সাইড ফুটবল প্রতিযোগিতা। সময় বিলম্ব না করে সুরজকে(Suraj Soren) নিয়ে তার কোচ ছুটে যায় দীঘায় সিলেকশনে। সিলেকশন পর্ব শেষ করে সুরজ ফিরে আসে বাড়িতে। হঠাৎ করেই তার বাড়িতে আসে চিঠি ১১ই মে মধ্যপ্রদেশে বাংলার হয়ে অনূর্ধ্ব ১৭ ফুটবল খেলতে যেতে হবে তাকে।

চিঠি পাওয়া মাত্রই তড়িঘড়ি প্রস্তুত। ১১ই মে সুরজ পৌঁছোয় মধ্যপ্রদেশে একের পর এক রাজ্যকে হারিয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ে উঠে বাংলার অনূর্ধ্ব ১৭ ফুটবল দল। ‌ ফাইনালে মুখোমুখি হয় ঝাড়খণ্ডের। সেই ম্যাচেই ২-১ গোলে জয়লাভ করে বাংলার অনূর্ধ্ব ১৭ ফুটবল দল। এই প্রতিযোগিতায় অ্যাটাকিং মিডফিল্ড পজিশনে খেলা সুরজ মোট চারটি গোল করেন। দশটি গোল অ্যাসিস্ট করে, নজর কাড়ে বিচারকদের, বেস্ট গোল অ্যাটাকিং এর পুরস্কারের খেতাব ছিনিয়ে নেয় সুরজ সরেন। ‌সুরজ নজরে আসে বাংলার অনূর্ধ্ব ১৭ ফুটবল দলের চেয়ারপার্সন দীপ কুমার মাহাতোর। পুরস্কার হাতে নিয়ে সুরজ ফিরে আসে বাড়িতে। বাড়িতে শুভেচ্ছার ঢল। গ্রামবাসী থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতারা সকলেই তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে আসেন। হঠাৎ করেই পশ্চিমবঙ্গ অনূর্ধ্ব ১৭ ফুটবল একাডেমির পক্ষ থেকে জানানো হয় এবার সুরজ সরেনকে খেলতে হবে ভারতবর্ষের হয়ে।

আগামী সেপ্টেম্বরে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হতে চলেছে সাউথ এশিয়ান গেম। এখানেই ভারতীয় অনূর্ধ্ব ১৭ ফুটবল দলে(U-17 India Team) বাংলার থেকে সুযোগ পায় দুই ফুটবলার। তার মধ্যে একজন সুরজ সরেন।‌ সেই খবরেই খুশির হওয়া এলাকা জুড়ে। তবে এই খুশির মধ্যেই কপালে চিন্তার ভাঁজ। সিঁদুরে মেঘ দেখছে তার পরিবারের লোকজন। শ্রীলংকায় যেতে গেলে অনেক অর্থের প্রয়োজন, পাসপোর্ট তৈরি করতে হবে। কিন্তু এত টাকা তো তাদের কাছে নেই! বাবা মা লোকের দুয়ারে কাজ করে কোনমতে সংসার চালায়। ভাঙাচোরা ঘরে চারজন কোনমতে বসবাস করে। তার বাবার দাবি ঝড় বৃষ্টির সময় সে বাড়িতে একা থাকে প্রাণভয়ে  ছেলে মেয়েকে পাশের বাড়ি রেখে আসে । এই পরিস্থিতিতে সুরজ সরেন এবং তার পরিবার সরকারি সাহায্যের আর্জি জানাচ্ছে। এখন দেখার অভাব অনটনকে ঘুচিয়ে দেশের হয়ে ফুটবল খেলতে এবার বিদেশে পাড়ি দিতে পারে কিনা সুরজ সরেন সেটাই দেখার!

spot_img

Related articles

শীতলতম কল্যাণী: চলতি সপ্তাহে কলকাতায় পারদ ছোঁবে ১২ ডিগ্রি

শুধু শীতের আমেজ নয়, গোটা বাংলা এ বছরের শীতে হাড় কাঁপানো ঠাণ্ডাতেই অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। সেই অভ্যাসে নতুন...

স্বামী বিবেকানন্দের জন্মজয়ন্তীতে কাজের মধ্যেই শ্রদ্ধা: সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী

তিনিই বলেছিলেন গীতাপাঠের চেয়ে ফুটবল খেলা ভালো। যার অন্তর্নিহিত অর্থ কর্মই অনেক বেশি কাঙ্খিত, ধর্মের আলোচনার থেকে। আর...

ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প: ট্রুথ হ্যান্ডেলে ঘোষণা করে দিলেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি!

জোর করে দেশে ঢুকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়েছেন দেশের রাষ্ট্রপতিকে। তার জন্য নিজের দেশের কংগ্রেসে প্রবল সমালোচিত। কংগ্রেস...

সাত সকালে আগুন: বাঘাযতীন স্টেশন লাগোয়া আগুনে সাময়িক বিপর্যস্ত ট্রেন পরিষেবা

শীতের সকালে ফের আগুন আতঙ্ক শহরের রেলস্টেশন লাগোয়া এলাকায়। শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার বাঘাযতীন স্টেশন লাগোয়া দোকানগুলিতে আগুন (shop...