Friday, June 26, 2026

পর্যটনে বাংলার বিপ্লব! মুখ্যমন্ত্রীর পরিকল্পনাতেই বিশ্ব মানচিত্রে উজ্জ্বল পশ্চিমবঙ্গ

Date:

Share post:

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দূরদৃষ্টিসম্পন্ন পরিকল্পনা ও ধারাবাহিক উদ্যোগে অভাবনীয় উত্থান ঘটেছে বাংলার পর্যটন ক্ষেত্রে। বৈচিত্র্যে ভরা বাংলার পাহাড়, সমুদ্র, বনাঞ্চল থেকে শুরু করে উৎসব— সবই এখন আন্তর্জাতিক পর্যটকদের অন্যতম গন্তব্য হয়ে উঠেছে। ২০২৩-২৪ সালে বাংলায় বিদেশি পর্যটকের আগমন যেমন রেকর্ড ছুঁয়েছে, তেমনই রাজ্যের অর্থনীতিতে তার ইতিবাচক প্রভাবও পড়েছে স্পষ্টভাবে।

পর্যটন দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ সালে বাংলায় বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩২ লক্ষে, যা ভারতের মোট বিদেশি পর্যটকের প্রায় ১৪.৮ শতাংশ। গত অর্থবছর ২০২২-২৩ সালে সেই সংখ্যা ছিল ২৭.১ লক্ষ এবং ২০২১-২২ সালে মাত্র ১০.৪ লক্ষ। এই প্রবণতা স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিচ্ছে, পর্যটন ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের এগিয়ে যাওয়ার গতি কতটা দ্রুত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির পিছনে অন্যতম কারণ হল দুর্গাপুজোর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। পুজোর সময়, বিশেষ করে মহালয়া থেকে দীপাবলি পর্যন্ত সময়কালে, বাংলায় ভিড় জমিয়েছিলেন পাঁচ লক্ষেরও বেশি বিদেশি পর্যটক। শুধুমাত্র পুজোর পাঁচ দিনে কলকাতাতেই দেখা গেছে প্রায় ২০ হাজার আন্তর্জাতিক পর্যটক।

শুধু উৎসব পর্যটন নয়, দার্জিলিং, কার্শিয়াং-এর মত পাহাড়ি শহর, পুরুলিয়ার ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র এবং দিঘার ধর্মীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে নবনির্মিত জগন্নাথধাম এই বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা নিয়েছে। ইকো-ট্যুরিজমে আগ্রহ এতটাই বেড়েছে যে পুরুলিয়ায় ইতিমধ্যেই ৮৭ শতাংশ বুকিং পূর্ণ।

২০২৩ সালে মোট ১৪.৫ কোটি পর্যটক বাংলায় এসেছিলেন। ২০২২ সালে সেই সংখ্যা ছিল ৮.৪ কোটি। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা পৌঁছে গিয়েছে ১৮.৫ কোটিতে, জানিয়েছেন পর্যটনমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। দেশীয় পর্যটকদের সঙ্গেও যদি বিদেশিদের সংখ্যা যোগ করা হয়, তাহলে বাংলার পর্যটনে আগমনের পরিসংখ্যান ছুঁয়েছে প্রায় ২০ কোটির গণ্ডি। পর্যটন পরিকাঠামোর উন্নয়ন, নতুন পর্যটন হাব তৈরি, আন্তর্জাতিক গাইড সংখ্যা বৃদ্ধি— সব মিলিয়ে বাংলা এখন দেশের মধ্যে সেরা তিন পর্যটন রাজ্যের তালিকায় উঠে এসেছে। এছাড়া, বাংলায় বর্তমানে রয়েছে দেশের মধ্যে সর্বাধিক ১,০২২ জন স্বীকৃত পর্যটন গাইড। ইউরোপ, রাশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া থেকে এসেছে ২৭ লক্ষের বেশি পর্যটক, যা অতীতের যেকোনও সময়ের থেকে অনেকগুণ বেশি। রাজ্য সরকারের দাবি, এই অভাবনীয় সাফল্যের মূল কৃতিত্ব মুখ্যমন্ত্রীর পরিকাঠামোগত পরিকল্পনা ও সাংস্কৃতিক ব্র্যান্ডিং। পর্যটনে বাংলার এই নবজাগরণ ইতিমধ্যেই জাতীয় স্তর পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশংসিত হতে শুরু করেছে।

আরও পড়ুন – সৌরভকে কোচ হিসাবে দেখতে চান ক্রীড়ামন্ত্রী, জমকালো উদ্বোধন প্রশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বইয়ের

_

 

_

 

_

 

_

 

_

 

_

 

_

 

_

 

_

Related articles

নেই হাজিরা, মামলা নিষ্পত্তিতে অনীহা, নতুন সরকারের আইনজীবী প্যানেল নিয়ে ক্ষুব্ধ হাইকোর্ট

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর এবার নতুন সরকারের সরকারি আইনজীবী প্যানেল নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতে...

ধান্দাবাজরা চলে গিয়েছে! আসল সম্পদ কর্মীরাই, তৃণমূলই থাকবে: বার্তা নেত্রীর

যারা চলে গিয়েছে যেতে দিন। নিজেকে আর পরিবার বাঁচাতে ধান্দাবাজরা বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। কিন্তু যাদের ঘাম-রক্ত-পরিশ্রম-আত্মত্যাগের বিনিময়ে...

দিদির সঙ্গেই আছি, থাকব! দুর্যোগ উড়িয়ে শপথ জেলা তৃণমূলের কর্মিসভায় 

বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বজ্রবিদ্যুৎ সহ প্রবল দুর্যোগ শহরজুড়ে। জল থইথই অবস্থা সর্বত্র। এই দুর্যোগের মধ্যেও ভিড়ে উপচে পড়ল...

এবার কি বাংলাতেও ইউসিসি? চলতি অধিবেশনেই বিধানসভায় আসতে পারে বিল

উত্তরাখণ্ড, গুজরাত এবং অসমের পথ ধরে এবার পশ্চিমবঙ্গেও অভিন্ন দেওয়ানি আইন বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি) কার্যকর করার...