Wednesday, May 27, 2026

৯ জুলাই বামেদের ধর্মঘট: রাজ্য সরকারি কর্মীদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক

Date:

Share post:

৩৬ বছরের বাম আমলে কাজের থেকে বেশি ধর্মঘট। বিরোধী আসনে আসার পরেও সেই কর্মনাশা ধর্মঘট জারি রেখে রাজ্যের কাজের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা চালিয়েছিল বামেরা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) কাজের সময় নষ্ট করে ধর্মঘটের রীতি রাজ্যে বন্ধ করে রাজ্যকে শিল্পবান্ধব করে তুলেছেন। গোটা রাজ্যে সব রকম জমি হারানো বামেরা সেই ধর্মঘটে (strike) ভর করেই নতুন করে অক্সিজেন পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। ৯ জুলাই যে সারা ভারত ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বাম শ্রমিক সংগঠন, সেই দিন রাজ্য সরকারের সব ধরনের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক বলে নির্দেশিকা জারি রাজ্য অর্থ দফতরের।

কেন্দ্র সরকারের ভ্রান্ত শ্রমনীতি নিয়ে দিল্লি বা সংসদে সরব হতে দেখা যায় না বাম প্রতিনিধিদের। এবার সেই বামেরাই কেন্দ্রের শিল্পনীতির প্রতিবাদে দেশ জুড়ে ধর্মঘটের পথে। প্রভাব ফেলার চেষ্টা এই বাংলাতেও। আর সেখানেই কড়া বাংলার প্রশাসন। সরকারের তরফে সোমবার বিজ্ঞপ্তি (notification) জারি করে জানানো হয়, ঘোষিত ধর্মঘটের (strike) দিন সব সরকারি ও সরকার পোষিত প্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে। সব কর্মীদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে ওইদিন।

অর্থ দফতরের বিজ্ঞপ্তিতে (notification) জানানো হয়েছে ৯ জুলাই বাম শ্রমিক সংগঠনের ডাকা ধর্মঘটের দিন কোনও ছুটি গ্রাহ্য হবে না, প্রথমার্ধ বা দ্বিতীয়ার্ধে ছুটিও গ্রাহ্য হবে না। সেক্ষেত্রে আবশ্যিক গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে ছাড় দেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মী যদি হাসপাতালে ভর্তি বা তাঁর পরিবারে কোনও দুর্ঘটনা ঘটে যায়, গুরুতর অসুস্থতায় তিনি যদি ৮ জুলাইয়ের আগে থেকেই ছুটিতে থাকেন বা চাইল্ড কেয়ার লিভ (Child Care Leave), মাতৃত্বকালীন ছুটি (maternity leave), অসুস্থতার জন্য ৮ জুলাইয়ের এর আগে থেকেই মেডিক্যাল লিভ বা ই-এল নেওয়া থাকে তবে সেই ছুটি গ্রাহ্য হবে।

আরও পড়ুন: বেড়ে যাচ্ছে গরিব: অভিষেকের পথেই কেন্দ্রে আর্থিক নীতির সমালোচনায় বিজেপির গড়করি!

বাম শ্রমিক সংগঠনগুলি মূলত কেন্দ্রের শিল্প নীতির বিরোধিতায় সারাদেশ জুড়ে ধর্মঘট করতে চলেছে, যা কার্যত বাংলার সঙ্গে সম্পর্কিতই নয়। ফলে সেই ধর্মঘটে সরকারি কর্মীরা বিনা নোটিশে অনুপস্থিত থাকলে প্রথমেই তাঁর সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে শো-কজ করা হবে। যদি তাঁর ব্যাখ্যা যুক্তিসঙ্গত না হয় তবে সরকারি নিয়মে তাঁর বিরুদ্ধে ডায়েজ-নন (dies-non) প্রয়োগ হবে। সেক্ষেত্রে একদিনের বেতন কাটা যাবে ওই কর্মীর। শো-কজের জবাব না দেওয়া হলে তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে রাজ্য সরকার।

Related articles

অবমাননা ও উস্কানির অভিযোগ: গতবছরের ঈদের বক্তব্যে মমতার বিরুদ্ধে থানায় আইনজীবী

ঈদে রেড রোডের নামাজের অনুষ্ঠানে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষের বিরুদ্ধে অবমাননা ও উস্কানির অভিযোগ তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata...

হুমকি দিয়ে ফতোয়া জারি করে হাওড়ার মঙ্গলাহাট দখল বিজেপির

চিত্রনাট্য তৈরি ছিল আগেই। লোক দেখানো প্রশাসনিক বৈঠক করে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল ব্যবসায়ীদের। কিন্তু অবশেষে নিজেদের...

পরিষেবা দিয়ে যান: মেয়র ও পারিষদদের বৈঠকে নির্দেশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

কলকাতা পুরসভার নির্বাচিত সদস্যদের মেয়াদ শেষের আগেই নজিরবিহীন অচলাবস্থা। ঘোষিত কর্মসূচি বাতিল করে দিচ্ছেন আধিকারিকরা। কিন্তু এই পরিস্থিতির...

লালবাজারে মুখ্যমন্ত্রী: সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবারের ঈদের নামাজ নিয়ে

রেড রোডে যে ঈদের নামাজ হবে না, আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছিল কলকাতা পুলিশ। এবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডেই যে...