Saturday, May 30, 2026

‘ধূমকেতু’ শুধু সিনেমা নয় এটা ইমোশান, দেশু উন্মাদনায় শহর থেকে রাজ্য

Date:

Share post:

দুই প্রাক্তনের (DeSu) দূরত্ব ঘোচাতে সত্যিই কি সেতু হয়ে উঠল ‘ধূমকেতু’? আবেগের বিস্ফোরণ, উন্মাদনার জোয়ার, দশ বছর ধরে অনুরাগীদের অপেক্ষার প্রহর গোনা যেন সেই দিকেই ইঙ্গিত করছে। দিনটা ছিল ৪ অগাস্ট, সোমবার। সপ্তাহের প্রথম কর্মব্যস্ত দিন হওয়া সত্ত্বেও সকাল থেকে বারবার খবরে ভেসে উঠছিল রবীন্দ্র সরোবর, নজরুল মঞ্চ (Nazrul Mancha) চত্বর। পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের (Kaushik Ganguly) ছবি ‘ধূমকেতু’র গ্র্যান্ড ট্রেলার লঞ্চে নজরুল মঞ্চের প্রেক্ষাগৃহ কানায় কানায় পূর্ণ। অধীর আগ্রহ নিয়ে কাউন্ট-ডাউন শুরু। যাঁরা পৌঁছতে পারেননি তাঁদের চোখ লাইভে, কখন আসবে সেই শুভক্ষণ? আদৌ কি আসবে? আশঙ্কার মেঘ যেন তখনও কাটছে না। ‘ধূমকেতু’ (Dhumketu) শুরু থেকেই এমনই হাইপড। তার অন্যতম কারণ ‘দেশু’ অর্থাৎ টলিউডের দুই সুপারস্টার দেব (Dev) এবং শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় (Shubhashree Ganguly)। ‘দেশু’ হল ভালবেসে ভক্তদের দেওয়া নাম। ‘দেশু’ কি সত্যিই একসঙ্গে হাতে হাত ধরে চোখে চোখ রেখে দেখা দেবে? আসলে দিনটা ধার্য হয়েছিল শুধুই দেব-শুভশ্রীর ফ্যান ফলোয়ার্সদের জন্য। সেই কাঠ-কাঠ মিডিয়া সম্প্রচার তাঁরা চাননি। চেয়েছিলেন একটা সুন্দর জিনিসের সূচনাটা স্মরণীয় করে রাখতে আর তার সাক্ষী ভক্তরা ছাড়া আর কারাই বা হতে পারে! অবশেষ অপেক্ষার অবসান হল দেব, শুভশ্রী এলেন। একটা সময়ের সুপারহিট জুটি প্রায় একযুগ পার করে একসঙ্গে একমঞ্চে। তাঁদের রসায়ন,তাঁদের উপস্থিতি, তাঁদের ম্যাজিকে মুগ্ধ ভক্তকুল। সেদিন এ-বছরের অন্যতম সেরা ইভেন্টের সাক্ষী থাকল নজরুল মঞ্চ।

এই দিনটির জন্য এক নয়, দুই নয়, তিন নয় পাক্কা দশবছর অপেক্ষা করেছে সবাই। কিন্তু কী এমন রয়েছে এই ছবিতে যার জন্য এত উত্তেজনা, এত উন্মাদনা, কেন অনুরাগীরা এমন পাগলপারা! আসলে ‘ধূমকেতু’ একটা জার্নির নাম, একটা আবেগের নাম, যে আবেগের সঙ্গে মিশে গেছে ভক্তদের ভালবাসার এবং পছন্দের দুটো মানুষ। যার ফলে উন্মাদনার পারদ চড়েছিল এতটা। যাই হোক ‘সব ভাল তার শেষ ভাল যার’। ন’বছর পর আগামী ১৪ অগাস্ট সব প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে মুক্তি পাচ্ছে পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের এই ছবি। কেন এত হাইপড? ‘ধূমকেতু’ যে ন’বছর অতিক্রান্ত হবার পরেও জনমানসে এই ছবির জনপ্রিয়তা ম্লান হয়ে যায়নি। ছবির মুক্তির অপেক্ষায় তাঁরা দিন গুনেছেন। আর কেনই বা সেই মুক্তি আটকে ছিল এতগুলো বছর? এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খেয়েছে অনেকের মনেই।

২০১৬-তে শ্যুটিং শুরু হয়েছিল ‘ধূমকেতু’র। এই ছবি শুরুর দিন থেকে আটকেছে নানা আইনি জটিলতায়। যাই হোক ধীরে ধীরে কেটেছে সেই আইনি জট। এটাই ছিল দেবের প্রোডাকশনের প্রথম ছবি। ফলে দেবের কাছেও এই ছবি অনেকটা। এই ছবির জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছিলেন তাঁরা। পাশাপাশি দেব-শুভশ্রীর বিচ্ছেদের পর এটাই ছিল তাঁদের প্রথম জুটি হিসেবে ছবি। সেই সঙ্গে ছবির পরিচালক আবার কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়। যাঁর ছবি দেখার জন্য দর্শক মুখিয়ে থাকেন ফলে ছবিটার ভার এমনিতেই অনেকটা বেশি। দিন পেরিয়েছে ঠিকই দেব-শুভশ্রী আর ‘ধূমকেতু’ প্রসঙ্গ কিন্তু চলতেই থেকেছে ফল্গু ধারার মতো। তাঁদেরকে ভোলেননি দর্শক। সবচেয়ে বড় এই ছবির পরিচালক, অভিনেতা-অভিনেত্রী, টেকনিশিয়ানরা বছরের পর বছর অধীর অপেক্ষায় থেকেছেন এই দিনটার জন্য। কাজেই ‘ধূমকেতু’ রিলিজ হওয়া সাফল্যের চেয়েও বেশি হল আবেগ। তাই বোধহয় দেব ‘ধূমকেতু’র ট্রেলার লঞ্চের দিন মঞ্চে বলেছিলেন, ‘ধূমকেতু আমাদের কাছে শুধুই একটা সিনেমা নয় এমন একটা ছবি যা আবেগ বা শব্দ দিয়ে বোঝানো সম্ভব নয়’।

অতীতে দেব-শুভশ্রী জুটি হিসেবে মাত্র পাঁচটা ছবিতে কাজ করেছেন। ‘ধূমকেতু’ ছয়। ছয়তেই ছক্কা হাঁকাল এই ছবি। মুক্তির আগেই সুপারহিট। এদিন দেব-শুভশ্রী মঞ্চে আসার আগে উপস্থিত হন পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি ছবি প্রসঙ্গে বললেন, ৪৭ বছরে ছবি বানিয়েছিলাম। ৫৭ বছর পূর্ণ হওয়ার ঠিক পরে সেই ছবির মুক্তি হচ্ছে। এমন উদ্‌যাপন ভাবতে পারছি না। বাংলা ছবির ইতিহাসে এমনটা বোধহয় নেই। এটুকুই বলতে চাই এই ছবির মাধ্যমে দেব-শুভশ্রীর অভিনয় সফরের নতুন যুগ শুরু হবে। এই ছবি আপনাদের এমন জায়গায় নিয়ে যাবে, আপনারা বুঝবেন ৯-১০ বছরের অপেক্ষা বৃথা নয়।”এদিন ছিল পরিচালকের জন্মদিনও।

বাংলা সিনেমার জন্য হল: ফলপ্রসূ অরূপ-টলিউড বৈঠক, খুশি দেব-ঋতুপর্ণা-কৌশিকরা

যাই হোক নতুন করে আবার দেব-শুভশ্রী জ্বরে আক্রান্ত হল গোটা বাংলা। ‘এক অসমাপ্ত প্রেম কাহিনি’ ‘ধূমকেতু’র এই ক্যাচ লাইন যেন এবার সত্যি পূর্ণতা পেল। সত্যি কী এমন আছে এই ছবিতে? ছবিতে প্রস্থেটিক মেকাপে দেখা দেবেন দেব। যে মেকাপে তাঁকে চেনা দায়। ছবির মধ্যে অনেক রহস্য লুকিয়ে রয়েছে। টিজার ইতিমধ্যেই ভাইরাল। যেখানে দেব বলছেন, ‘গত নয় বছর ধরে শুধু পালিয়ে বেড়াচ্ছি ৷ আমি কোনও দোষ না করেও মৃত্যু আমাকে ঘরছাড়া করে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে ৷ আমি আর মৃত্যুকে ভয়ই পাই না। এরপর এল টান-টান ট্রেলার। সিনেমা গল্প বলে কিন্তু হয়তো “ধূমকেতু” তার গল্পে জীবনকে বলেছে। এই কারণেই ‘ধূমকেতু’ আর দ্বিতীয় হবে না। ছবির গানগুলো ইতিমধ্যেই হিট। ট্রেলার লঞ্চের দিন গায়ক অনুপম রায় এসে সবচেয়ে চর্চিত গানটি গাইলেন। তার কথায়, “প্রায় দশ বছর আগে এই ছবির গান রেকর্ড করা হয়। আমি যে রেকর্ডিং স্টুডিওতে এই গানগুলো রেকর্ড করেছিলাম, সেই স্টুডিওটাই উঠে গিয়েছে! বহু বছর পর ছবির প্রযোজক রানা সরকার ও দেবের থেকে ফোন আসে যে ছবিটি মুক্তি পাবে, তখন খুঁজতে বসি সেই হার্ড ডিস্ক।”এই ছবির একটি গান গেয়েছিলেন শ্রেয়া ঘোষাল ও অরিজিৎ সিং।ছবির গল্প উত্তর সিকিমের একটা টি এস্টেটের ম্যানেজারকে নিয়ে। সে বিবাহিত। হঠাৎই একদিন তাঁর চাকরি চলে যায়। এরপর শুরু হয় তার জীবন সংগ্রাম। কী সেই সংগ্রাম? কী হয় তারপর? রোম্যান্টিক থ্রিলার ‘ধূমকেতু’র গল্প নাকি এক সত্য ঘটনার ওপর আধারিত। না ‘ধূমকেতু’ সম্পর্কে এর চেয়ে বেশি কিছু বলার নেই। বাকিটা ১৪ তারিখের জন্যই তোলা থাক। সেই রহস্যের উন্মোচন হোক দর্শকের চোখে। দাগ ক্রিয়েটিভ মিডিয়া ও দেব এন্টারটেইনমেন্ট ভেনচারের ব্যানারে ছবির প্রযোজনা করেছেন রানা সরকার এবং দেব। ছবির অন্যান্য ভূমিকায় রয়েছেন চিরঞ্জিত চক্রবর্তী, রুদ্রনীল ঘোষ, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ। ছবির সিনেমাটোগ্রাফি করেছেন সৌমিক হালদার।

 

 

Related articles

SEZ-এর আধুনিকীকরণে নজর:  শিল্প নিয়ে পরিকল্পনা জানালেন শমীক

রাজ্যে শিল্পায়নের বার্তা দিয়ে বাংলায় ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। একাধিক দফতরের মন্ত্রিত্ব বন্টন হলেও শিল্প মন্ত্রী এখনও নির্ধারিত হয়নি।...

IPL: শুভমানের শতরানে ফাইনালে গুজরাট, রেকর্ড গড়েও ট্র্যাজিক নায়ক বৈভব

শুভমান গিলের দুরন্ত শতরান, রাজস্থান রয়্যালসকে ৭ উইকেটে হারিয়ে IPL ফাইনালে গুজরাট টাইটন্স (Gujarat Titans )। বৈভব সূর্যবংশী...

‘সুন্দরী’কে আর রিল বানাবে না সায়নী! উদ্ধার ঝুলন্ত দেহ

ত্রিবেণীর (Triveni) পরিচিত সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ভ্লগার (Social Media Content Creator and Vlogger) পশপ্রেমী সায়নী চক্রবর্তীর...

সোমে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ: নজরে অর্থ ও স্বরাষ্ট্র দফতর

বাংলায় প্রথমবার ক্ষমতা দখল করলেও রাজ্যে মন্ত্রিসভা গঠনে হিমসিম বিজেপির সরকার। মাত্র পাঁচ মন্ত্রী এখনও পর্যন্ত শপথ নিয়েছেন।...