Friday, June 26, 2026

‘শ্রমশ্রী’ প্রকল্প: বাংলায় ফিরে আসা পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

Date:

Share post:

বিজেপিশাসিত রাজ্যে আক্রমণের শিকার হচ্ছেন বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকরা। এর বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ইতিমধ্যে বাইরে কাজ করা শ্রমিকদের ফিরে আসার বার্তা দিয়েছেন তিনি। এবার বড় ঘোষণা করলেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। সোমবার, নবান্নে (Nabanna) মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরে ‘শ্রমশ্রী’ প্রকল্প ঘোষণা করেন মমতা।

এদিন মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, যে সব পরিযায়ী শ্রমিকরা (Migrant Labour) ফিরে আসতে চান তাঁদের ফেরানোর ব্যবস্থা করা হবে। বাংলায় তাঁদের জন্য ‘শ্রমশ্রী প্রকল্প’ চালু করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের অধীন ১ বছর পর্যন্ত যতদিন না কাজ পাচ্ছেন না, মাসে ৫ হাজার টাকা করে পাবেন পরিযায়ী শ্রমিক। এর পাশাপাশি কর্মশ্রী প্রকল্পের অধীনেও কাজ পাবেন তিনি। থাকার জায়গা না থাকলে শেড করে দেওয়া হবে। পাবেন খাদ্যসাথী-স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সুবিধা। ফিরে আসা পরিযায়ী শ্রমিকদের সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা করে দেবে রাজ্য সরকার।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, “মঙ্গলবার ক্যাবিনেট বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে ফিরে আসা পরিযায়ী শ্রমিকদের শ্রম দফতর থেকে প্রতিমাসে ৫০০০ টাকা, খাদ্য, সাথী কার্ড দেওয়া হবে।“ একবছর পর্যন্ত যতদিন না পর্যন্ত কাজ পাবেন, ততদিন পর্যন্ত এই ভাতা চলবে। ভিন রাজ্যে বাংলায় কথা বললেই এই রাজ্যের শ্রমিকরা হেনস্থার মুখে পড়েছেন। তাই এই নতুন প্রকল্প আনা হল। আপাতত এক বছর  ‘শ্রমশ্রী’ প্রকল্পের মাধ্যমে মাসে মাসে আর্থিক সাহায্য পাবেন বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকেরা। এককালীন তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হবে ৫ হাজার টাকা। যতদিন না কাজের ব্যবস্থা হচ্ছে তাঁদের, তত দিন সরকারের তরফে ওই সাহায্য দেওয়া হবে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, “২ হাজার ৭০০ পরিবার কিছু দিনের মধ্যে ফিরে এসেছেন, অত্যাচারিত হয়েছেন। ১০ হাজারের বেশি লোককে আমরা নিয়ে এসেছি। অনেকে নিজেরা ফিরে আসছেন। শ্রমশ্রী পোর্টাল তৈরি হবে এবং তাঁরা আই কার্ড পাবেন। ফিরে এসেছেন যাঁরা তাঁদের সন্তানদের স্কুলে ভর্তি করানোর ব্যবস্থা করা হবে। এর আগেও কোভিডের সময় পরিযায়ী শ্রমিকদের সাহায্য করা হয়েছে। আমরা বাইরের রাজ্যের মানুষকে এখানে সম্মানের সঙ্গে রাখি। কিন্তু বাংলার শ্রমিকদের বাইরে গিয়ে হেনস্থা হতে হচ্ছে। গতকাল শুনলাম, অন্ধ্রে একজনকে খুন করে তাঁর ডেড বডিটা পর্যন্ত নিতে দেওয়া হয়নি। এই কারণে আমরা প্রকল্প আনলাম। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য সাহায্য করব।“

এরপরেই বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে মমতা বলেন, “বিভিন্ন রাজ্যে যেখানে ডবল ইঞ্জিন সরকার আছে, সেখানে বাংলা ভাষা এবং বাঙালি পরিচয় পেলেই আক্রমণ চালানো হচ্ছে। কেউ বাংলায় কথা বললে তাঁকে অপরাধী হিসাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। কাউকে বাংলাদেশে ‘পুশ’ করে দেওয়া হচ্ছে, কোথাও জেলে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কোথাও থানায় নিয়ে গিয়ে হেনস্থা করা হচ্ছে।“ এবার বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের পাশে দাঁড়িয়ে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী।

Related articles

নবান্নে কাকলি-শতাব্দী-সুদীপ: শুভেন্দু-সাক্ষাতে কী কথা!

তৃণমূলে বিক্ষোভ দেখিয়ে কমপক্ষে ১৯জন সাংসদ নিয়ে এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন বর্ষীয়ান সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার (Kakoli Ghoshdastidar। জানিয়েছেন তাঁরা...

নেই হাজিরা, মামলা নিষ্পত্তিতে অনীহা, নতুন সরকারের আইনজীবী প্যানেল নিয়ে ক্ষুব্ধ হাইকোর্ট

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর এবার নতুন সরকারের সরকারি আইনজীবী প্যানেল নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতে...

ধান্দাবাজরা চলে গিয়েছে! আসল সম্পদ কর্মীরাই, তৃণমূলই থাকবে: বার্তা নেত্রীর

যারা চলে গিয়েছে যেতে দিন। নিজেকে আর পরিবার বাঁচাতে ধান্দাবাজরা বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। কিন্তু যাদের ঘাম-রক্ত-পরিশ্রম-আত্মত্যাগের বিনিময়ে...

দিদির সঙ্গেই আছি, থাকব! দুর্যোগ উড়িয়ে শপথ জেলা তৃণমূলের কর্মিসভায় 

বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বজ্রবিদ্যুৎ সহ প্রবল দুর্যোগ শহরজুড়ে। জল থইথই অবস্থা সর্বত্র। এই দুর্যোগের মধ্যেও ভিড়ে উপচে পড়ল...