Saturday, January 17, 2026

দুর্গাপুজোর ভিড়ের ধরন বদলেছে, বেড়েছে দিন

Date:

Share post:

অরূপকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়, অফিসার ইন চার্জ, বউবাজার থানা
২৯ বছর কর্মজীবনের পরে এখন পুলিশ ফোর্সে যোগ দেওয়ার আগের জীবনটা কীরকম পূর্বজন্ম মনে হয়! সে সময় দুর্গাপুজো (Durga Puja) ছিল, পুজোয় ঘোরাঘুরি-আড্ডা সবই ছিল। কিন্তু এখন শুধুই ডিউটি। পুজোর সময় আরও সতর্কতা, বাড়তি নজরদারি। আগের সময়টা যে মিস করি না তা নয়। তবে এত বছর কর্মজীবন কাটিয়ে আসার পর এখন এটাতেই অভ্যস্ত হয়ে গেছি। বন্ধুবান্ধবরাও ডাকে না। আর আর পরিবারও জানে এটাই আমার ডিউটি, পুজোতে আমাকে পাওয়া যাবে না। তারা নিজেদের মতো আনন্দ করে।

যখন পুলিশ (Police) ফোর্সে জয়েন করি, তখন পুজোটা মোটামুটি শুরু হত ষষ্ঠী থেকে আস্তে আস্তে ভিড় বাড়ত। নবমী-দশমীতে উপচে পড়ত রাজপথ। আবার দশমী থেকে হালকা। বেশিরভাগ পুজোই তারপর ভাসান হয়ে যেত। যদিও একটা-দুটো থাকতো সেখানেও ঠাকুর দেখার ভিড় থাকত না। এখন পুজোর এই সময়টা অনেক বেড়ে গেছে। লোকে দ্বিতীয়া থেকেই ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে পড়ছে। ১০ এর পরেও চলছে প্যান্ডেল হপিং। আবার যাঁরা অফিস করেন, তাঁরা তৃতীয়-চতুর্থীতে শেষ অফিসের দিন বসের পারমিশন নিয়ে অর্ধেক অফিস করে বেরিয়ে পড়েন। কয়েকটা ঠাকুর দেখে খাওয়া-দাওয়া করে ফেরা। সমাজ বদলেছে আগের থেকে। আগে সপরিবারে ঠাকুর দেখার রেওয়াজ ছিল। সঙ্গে ছিল স্কুল বা কলেজের বন্ধুদের সঙ্গে বেরোনো। এখন কোচিং, অফিস, সোশ্যাল মিডিয়া বিভিন্ন সেক্টরের বন্ধুদের সঙ্গে সবাই ঠাকুর দেখতে বেরোচ্ছে।

এখন মোটামুটি আন্দাজ হয়ে গেছে। বুঝতে পারি কোন পুজোগুলোতে বেশি Foot Fall হবে। সেইগুলোতে বাড়তি ফোর্স ও নজরদারি থাকে। তবে তার মানে এই নয়, অন্যান্য পুজোগুলোতে নিরাপত্তা থাকে না। সব জায়গাকেই সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়। আর একটা জিনিস এই সময় মাথায় রাখতে হয়- এটা কিন্তু আনন্দের জমায়েত, কোন বিক্ষোভ সমাবেশ নয়। সুতরাং যাঁদের সঙ্গে কথা বলতে হবে বা যাঁদের নিয়ম মেনে এগিয়ে যেতে বলতে হবে তাঁরা সবাই আনন্দ করতেই রাস্তায় বেরিয়েছেন। সুতরাং সেভাবেই তাঁদের পথ দেখাতে হয়।

ভালো লাগে পুজোর ক’দিন এত মানুষ কলকাতায় আসেন। কলকাতা পুলিশের (Police) উপর ভরসা করেন। নির্বিঘ্নে নিরাপদে পুজো দেখে বাড়ি যান। এটা আমাদের কাছে সত্যিই একটা পুরস্কারের মতো। সবার উদ্দেশ্যে কলকাতা পুলিশের তরফ থেকে একটাই বার্তা, আনন্দ করুন- তবে সেটা নিয়ম মেনে, আইন মেনে। অযথা বিশৃঙ্খলা তৈরি করবেন না। আরও বেশি করে কলকাতায় আসুন। আরও বেশি করে কলকাতার ঠাকুর দেখুন। আমরা পাশে আছি।

spot_img

Related articles

রাজ্যের সিলিকন ভ্যালিতে জমি গ্রহণ ৪১ সংস্থার: ASSOCHAM-এ দাবি সচিব শুভাঞ্জনের

শিল্পের উপযুক্ত পরিকাঠামো তৈরি করে বাংলাকে শিল্পদ্যোগীদের গন্তব্যে পরিণত করার দিকে প্রতিদিন নতুন নতুন ধাপ ফেলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী...

মোদির সফরের আগেই মালদহে SIR-মৃত্যু: শুনানি আতঙ্কে মৃত আরও ২

চলতি এসআইআর প্রক্রিয়া রাজ্যের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের থেকে অনেক বেশি আদিবাসী বা মতুয়া রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে...

বেলডাঙায় আক্রান্ত সাংবাদিক সোমা: স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বকে পাশে থাকার নির্দেশ অভিষেকের, নিন্দা-বিবৃতি প্রেস ক্লাবের

বেলডাঙায় (Beldanga) খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলা শিকার জি২৪ ঘণ্টা-র (Zee 24 Ghanta) সাংবাদিক সোমা মাইতি (Soma Maity)।...

স্মৃতিমেদুর ব্রাত্য-সুবোধ: বাংলা আকাদেমিতে প্রকাশিত নাট্যকার ও কবির তিন বই

সম্প্রতি নন্দন প্রাঙ্গনে শেষ হয়েছে লিটল ম্যাগাজিন মেলা। সামনেই অপেক্ষা করছে কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা। প্রযুক্তির উদ্ভাবন যে আজও...