Wednesday, April 15, 2026

প্রাকৃতিক বিপর্যয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনীতি! কড়া জবাব মুখ্যমন্ত্রীর

Date:

Share post:

উত্তরবঙ্গের ভয়াবহ বিপর্যয়ে নতুন রাজনীতির রসদ খুঁজছে বিজেপি। সারা বছর যারা মানুষের পাশে থাকেন না, বিপর্যয়ের ইস্যুকে ধরে তারাই উত্তরবঙ্গের মানুষকে বিভ্রান্ত করার রাজনীতি করতে চাইলে বিক্ষোভের মুখে বিজেপির বিধায়করা। তবে স্থানীয়দের হামলায় আহত বিজেপির সাংসদ বিধায়কদের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী (Chief Minister)। মানুষকে সংযত থাকার বার্তা দিয়েছেন। এরপরেও এই ইস্যুকে ধরেই বিজেপির বিভ্রান্তিমূলক প্রচার শুরু হয়েছে। মাঠে নেমেছেন প্রধানমন্ত্রী (Prime Minister) নরেন্দ্র মোদিও! তবে প্রধানমন্ত্রীর প্রচারের কড়া জবাব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দাবি করেছেন তাঁর দুই সহকর্মী আহত হওয়ার ঘটনা তৃণমূলের অসংবেদনশীল মানসিকতার পরিচয়। পাল্টা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জবাব, এটা খুবই দুর্ভাগ্যের এবং গভীর উদ্বেগের বিষয় যে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী একটি প্রাকৃতিক বিপর্যয় নিয়ে রাজনীতি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, কোনো উপযুক্ত অনুসন্ধানের জন্য অপেক্ষা না করেই – তা-ও আবার যখন উত্তরবঙ্গের মানুষ ভয়াবহ বন্যা ও ধসের সঙ্গে যুঝছেন।

গোটা ঘটনার ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, যখন সমগ্র স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ ত্রাণ ও উদ্ধারের কাজে ব্যস্ত হয়ে আছে, তখন বিজেপি নেতারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়েছিলেন বিপুল সংখ্যক গাড়ির কনভয় নিয়ে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা নিয়ে এবং স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনকে কোনো খবর না দিয়ে। রাজ্য প্রশাসন, স্থানীয় পুলিশ বা তৃণমূল কংগ্রেসকে কীভাবে এই ঘটনার জন্য দায়ী করা যাবে?

নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে তোলা প্রশ্নের পাল্টা প্রশ্ন বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর (Chief Minister)। তাঁর প্রশ্ন, প্রধানমন্ত্রী (Prime Minister) তৃণমূল কংগ্রেস এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ওপর দোষারোপ করেছেন কিছুমাত্র প্রমাণ ছাড়া, আইনানুগ কোনো তদন্ত ছাড়া এবং কোনো প্রশাসনিক রিপোর্ট ছাড়া। এটা শুধু রাজনৈতিক নিম্নতা স্পর্শ করল না, যে সাংবিধানিক নৈতিকতা তুলে ধরতে প্রধানমন্ত্রী শপথ নিয়েছেন, সেই নৈতিকতারও লঙ্ঘন হল। যে কোনো গণতন্ত্রে আইন তার নিজস্ব পথ নেয় এবং কোনো ঘটনার দায় নির্ধারিত হয় যথাযথ প্রক্রিয়ায় – কোনো রাজনৈতিক বেদীর উচ্চতা থেকে করা একটি ট্যুইটের মাধ্যমে নয়। সংশ্লিষ্ট ঘটনা ঘটেছিল একটি কেন্দ্রে, যেখানে মানুষ নিজেরাই বিজেপির একজন বিধায়ককে নির্বাচন করেছেন। তথাপি এই ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের তথাকথিত ‘শক্তিমত্তা’ দেখায় প্রধানমন্ত্রী দ্বিচারিতা অনুভব করলেন না। এই ধরনের অসার এবং অতি- সরলীকৃত সাধারণীকরণ শুধু অপরিণতই নয়, তা দেশের সর্বোচ্চ পদের সঙ্গে মানানসইও নয়।

এই প্রসঙ্গেই বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মুখোশ খুলতে তুলে ধরেন মনিপুর প্রসঙ্গ। তাঁর প্রশ্ন, যে প্রধানমন্ত্রী মণিপুরে জাতি-হিংসা শুরু হবার ৯৬৪ দিন পরে সেখানে যাওয়ার অবকাশ পেয়েছিলেন, তাঁর কাছ থেকে বাংলার জন্য এই সহসা উদ্বেগ কোনো সমবেদনার পরিচয় নয়। বরঞ্চ, এটাকে সুবিধাবাদী রাজনৈতিক নাট্যের মতো মনে হচ্ছে।

সেই সঙ্গে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, হ্যাঁ, আমরা সবাই দ্বিধাহীনভাবে হিংসার নিন্দা করি। কিন্তু এটা রাজনৈতিক বুক-চাপড়ানোর সময় নয়। এটা সহায়তা ও নিরাময়ের সময়। এটাও স্পষ্ট যে, বিজেপি সেই ক্লান্তিকর উত্তরবঙ্গ বনাম দক্ষিণবঙ্গের উপাখ্যানে ফিরতে চায়, ভোটের আগে মেরুকরণের আশায়। স্পষ্ট হয়ে যাক: বাংলা এক – আবেগে, সংস্কৃতিতে, রাজনীতিতে।

পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী যোগ করেন, প্রধানমন্ত্রীকে বলি: নির্বাচিত রাজ্য সরকারের কথা শুনুন, শুধু নিজের দলের লোকের কথা শুনবেন না। আপনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী, কেবল বিজেপির নন। আপনার দায়িত্ব দেশ-নির্মাণ, কাহিনি নির্মাণ নয়।

প্রধানমন্ত্রী-সহ বিজেপির নেতাদের প্রতি বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর আবেদন, সঙ্কটের এই মুহূর্তে,আমরা যেন বিভাজন না বাড়াই। আমাদের একত্রিত হতে হবে, দলীয় লাইনের ঊর্ধ্বে মানুষের সেবায় – যে মানুষ এখন আমাদের সেবা সবচেয়ে বেশি চাইছে। রাজনীতি আরেকদিন হোক।

Related articles

বাংলা দিবসের অভিনন্দন জানিয়ে সমাজমাধ্যমে পোস্ট, নববর্ষে সম্প্রীতির বার্তা অভিষেকের 

পয়লা বৈশাখ মানেই নতুন স্বপ্ন আর আশা নিয়ে বাঙালির নববর্ষের (Bengali New Year Day) পথ চলা শুরু। রাজ্যের...

বৈশাখী সূচনায় বৃষ্টির পূর্বাভাস, বুধে ভিজবে পশ্চিমের জেলা!

গরমের তীব্র দাবদাহের মাঝে নববর্ষে (Bengali New Year Day) সুখবর শোনালো আলিপুর আবহাওয়া দফতর (Alipore Weather Department) ।...

নিজের লেখা গান পোস্ট করে নববর্ষের শুভেচ্ছা মমতার

১৪৩২-কে বিদায় জানিয়ে এল নতুন বছর ১৪৩৩। নববর্ষ (Bengali new year day)উপলক্ষ্যে নিজের লেখা ও সুর করা গানে...

গণতান্ত্রিক উপায়ে অত্যাচারের বদলা নেবে বাংলা, নববর্ষে সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে কেন্দ্রকে নিশানা মমতার 

পায়ে পায়ে ১৪৩৩! নববর্ষের সকালে ভিডিয়োবার্তায় শুভেচ্ছাবার্তার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বঞ্চনার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।...