Thursday, May 14, 2026

SIR-এর ছদ্মবেশে NRC! বৈধ ভোটারের ভোটাধিকার কাড়ার বিরুদ্ধে গর্জে উঠে গণমঞ্চ

Date:

Share post:

রাজ্যে এসআইআর ঘোষণার পর থেকেই টানা আত্মহত্যার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ দেশ বাঁচাও গণমঞ্চের। সেখানেই কেন্দ্রের সরকারের এসআইআর (SIR) নিয়ে দুরভিসন্ধিকে তোপ সংগঠনের সদস্যদের। এসআইআর লাগু করে কেন্দ্রের বিজেপির সরকার যে আদতে এনআরসি (NRC) লাগু করার পথে হাঁটছে, তা নিয়েই বিজেপি ও তাঁদের পরিচালিত নির্বাচন কমিশনকে তোপ দাগলেন তাঁরা। একদিকে বাংলার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক, অন্যদিকে ম্যাপিং করে উঁচু নিচু, ধর্মীয় শ্রেণিবিভাজনের মাধ্যমে আরএসএস-এর মনুবাদকে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে, বলে দাবি গণমঞ্চের (Desh Banchao Ganmancho) সদস্যদের।

প্রেসক্লাবে একটি সাংবাদিক বৈঠক করে দেশ বাঁচাও গণমঞ্চের সদস্যরা প্রথমেই তুলে ধরেন অসমের পরিস্থিতি, যেখানে এনআরসি করার মাধ্যমে হিন্দু ভোটাদেরও দেশের নাগরিক তালিকার বাইরে করে দেওয়া হয়েছে। বিজেপির নেতারা বাংলাদেশি (Bangladeshi) মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষকে অবৈধ নাগরিক চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া দাবি করলেও আদতে যে এসআইআর-এর মাধ্যমে হিন্দু নাগরিকদেরও বৈধ নাগরিক তালিকা থেকে বাইরে করার প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে, তার উদাহরণ হিসাবে অসমের পরিস্থিতির কথা তুলে ধরা হয়। প্রশ্ন তোলা হয়, বিজেপি যদি সত্যিই সিএএ (CAA) নিয়ে সিরিয়াস হয়, বাঙালি উদ্বাস্তুদের জন্য কিছু করতে চায়, তাহলে অসমের (Assam) বাঙালি হিন্দু উদ্বাস্তুদের জন্য সিএএ চালু করছে না কেন?

নির্বাচন কমিশনের আগের কারচুপি তুলে ধরে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়, ডুপ্লিকেট এপিক কার্ড তৈরি করে এখানে ভিন রাজ্যের মানুষদের ভোটার তালিকায় (voter list) ঢোকানোর চেষ্টা আগে দেখা গিয়েছে। সেভাবেই ফের কারচুপি করে তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। তুলে ধরা হয়, একাধিক জেলায় কীভাবে ভৌগোলিক কারণে বিপর্যস্ত মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার কাজ চালাচ্ছে নির্বাচন কমিশন।

বিজেপি ও কমিশন যেখানে নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়াকে এনআরসি-র সঙ্গে যুক্ত করছে না, সেখানে কেন বাংলার জেলায় জেলায় সিএএ ক্যাম্প (CAA camp) খোলা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে গণমঞ্চ। দাবি করা হয়, নাগরিকত্ব দেওয়ার অধিকারী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। সেখানে বিজেপি নেতারা কেন নাগরিকত্ব দিচ্ছেন। তাঁদের সেই অধিকার কে দিয়েছে। সেই সঙ্গে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনের পক্ষ থেকে এখন ম্যাপিং (mapping) শব্দটা ব্যবহার করছে। তাদের আদর্শগত জায়গা এবং মনুবাদী দর্শন থেকে জনগোষ্ঠীর মধ্যে দলিত, নমঃশূদ্র, মুসলিমরা কোথায় কোথায় আছে, তা চিহ্নিত করে রাখছে। ২০২৬-এর ভোটার লিস্টে নাম থেকে গেলেও পরবর্তীকালে তারা ম্যাপিং করবে এবং দলিত, মুসলিমদের বাদ দিয়ে দেবে।

আরও পড়ুন: বাংলাকে কালি মাথাতে গিয়ে পোল খুলল বেহাল আমেদাবাদের: ডিলিট BJP-র পোস্ট!

নির্বাচন কমিশনের এই চক্রান্ত সাধারণ মানুষ ধরে ফেলাতেই তৈরি হয়েছে আতঙ্কের পরিবেশ। একের পর এক আতঙ্কিত মানুষের আত্মহত্যা বা আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে। সেখানেই গণমঞ্চের স্পষ্ট দাবি, পশ্চিমবাংলার ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের ভোটাধিকার রক্ষার স্বার্থে পরিচালিত করতে হবে। কোনও জনগোষ্ঠী যা একাংশের ভোটারদের বাদ দেওয়ার লক্ষ্যে নয়। এসআইআর ঘোষণা হওয়ার পর সকল ভোটারের এনিউমারেশন ফর্ম ভরতে সাহায্যের হার বাড়িয়ে দিতে হবে। রবিবার এই সংক্রান্ত আলোচনায় প্রেসক্লাবে অংশগ্রহণ করেন পূর্ণেন্দু বসু, রন্তিদেব ভট্টাচার্য, সৈয়দ তানভির, শীতব্রত দাসসহ সংগঠনের সদস্যরা।

Related articles

জ্বালানি বাঁচাতে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’! সোমবার আমলাদের মেট্রো সফরের নির্দেশ রেখা গুপ্তার 

মধ্য এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কোমর বেঁধে নামল দিল্লি সরকার। বৃহস্পতিবার জ্বালানি...

মনোবল শক্ত রাখুন, লড়াই চলবে: কালীঘাটের বৈঠক থেকে সতীর্থদের বার্তা নেত্রীর 

মনোবল ভাঙলে চলবে না, বরং হারানো জমি পুনরুদ্ধারে দ্বিগুণ শক্তিতে রাস্তায় নামতে হবে— বৃহস্পতিবার কালীঘাটের বাসভবনে দলীয় সাংসদদের...

“১ টাকায় মনোরঞ্জনকে সই করান”, প্রয়াত টুটুকে নিয়ে অজানা কথা শোনালেন দেবাশিস

সদ্য প্রয়াত হয়েছেন মোহনবাগান ক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি টুটু বোস(Tutu Bose)। সাড়ে তিন দশকের বেশি সময় ধরে মোহনবাগান ক্লাবকে...

২১ মে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ ঘিরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা

ফল প্রকাশের পরেও রাজ্যে একটি বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচন। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ঘেরাটোপে ২১ মে ফলতা (Falta) বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট।...