Friday, January 30, 2026

মনরেগার পরিবর্তে ‘জিরামজি’ বিল পাশ লোকসভায়! উত্তাল লোকসভা

Date:

Share post:

বিরোধীদের প্রবল আপত্তি ও বিক্ষোভ সত্ত্বেও লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে MGNREGA-র নাম বদল বিল লোকসভায় পাশ করাল মোদি সরকার। বৃহস্পতিবার লোকসভায় ধ্বনিভোটে ‘বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’ অর্থাৎ G Ram G বিল পাশ হয়। বুধবার লোকসভায় শাসক ও বিরোধী মিলিয়ে মোট ৯৮ জন সাংসদ বিল বদল বিতর্কে অংশ নেন। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে মধ্যরাত অবধি চলে বিতর্ক। শেষ পর্যন্ত রাত ১টা ৩৫ মিনিটে অধিবেশন মুলতুবি ঘোষণা করেন স্পিকার ওম বিড়লা।

বিলের মূল প্রস্তাব অনুযায়ী, মহাত্মা গান্ধী ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি অ্যাক্ট, ২০০৫ (MGNREGA বা মনরেগা) নামে পরিচিত ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পের নাম বদলে রাখা হচ্ছে ‘জি রাম জি’ বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)। এর পাশাপাশি, বছরে কাজের দিন ১০০ থেকে বাড়িয়ে ১২৫ করার প্রস্তাব থাকলেও প্রকল্পে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ ৯০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬০ শতাংশে নামানো হচ্ছে। ফলে বাকি ৪০ শতাংশ ব্যয়ভার রাজ্যগুলির ওপর চাপবে। শুধু তাই নয়, এত দিন রাজ্যের চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ হলেও নতুন আইনে কোন রাজ্য কত টাকা পাবে, তা নির্ধারণ করবে কেন্দ্র। বিরোধীদের দাবি, এর ফলে কাজের আইনি নিশ্চয়তা কার্যত দুর্বল হয়ে পড়বে।

কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে তৃণমূল, কংগ্রেস-সহ অন্যান্য বিরোদীদল। এদিন ফের আলোচনা শুরু হতেই উত্তাল হয়ে ওঠে লোকসভা। কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান বক্তব্য রাখতে উঠলে বিরোধীরা ওয়েলে নেমে স্লোগান দিতে থাকেন, বিলের কপি ছেঁড়া হয়। তবে সেই বিক্ষোভ উপেক্ষা করেই সংখ্যার জোরে ধ্বনিভোটে বিলটি পাশ করানো হয়। বিলের বিরুদ্ধে সংসদের বাইরেও সরব হয় বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। আরও পড়ুন: MGNREGA-র নাম বদল নিয়ে কেন্দ্রের তীব্র নিন্দা মুখ্যমন্ত্রীর, গান্ধীজির নামে ‘কর্মশ্রী’ প্রকল্পের নাম

এদিন সকালেই সংসদ চত্বরে মিছিল করেন বিরোধী সাংসদরা। কংগ্রেসের সোনিয়া গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়গে, তৃণমূল সাংসদ- অসিত মাল, মিতালি বাগ, প্রকাশ চিক বারিক-সহ একাধিক দলের সাংসদ সেই মিছিলে অংশ নেন। তাঁদের অভিযোগ, গান্ধীর নাম বাদ দেওয়া মানে জাতির জনকের অপমান।

লোকসভায় বিতর্কে অংশ নিয়ে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা কটাক্ষ করে বলেন, “এই সরকারের নাম বদলানোর এক অদ্ভুত নেশা রয়েছে।” পাল্টা জবাবে শিবরাজ সিং চৌহানের দাবি, ২০০৫ সালে আইনটির নাম ছিল ‘ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট অ্যাক্ট’, পরে ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের কথা ভেবেই গান্ধীর নাম জোড়া হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, মোদি সরকার গান্ধীর আদর্শ মেনেই কাজ করছে।

তবে বিরোধীদের অভিযোগ, গান্ধীর নাম বাদ দেওয়ার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বরাদ্দ কমিয়ে এবং সিদ্ধান্তের ক্ষমতা নিজেদের হাতে রেখে মোদি সরকার ১০০ দিনের কাজ প্রকল্পের মূল কাঠামোকেই দুর্বল করে দিচ্ছে। যথাযথ আলোচনা ছাড়াই তড়িঘড়ি বিল পাশ করানো হয়েছে বলেও অভিযোগ। শুক্রবার শীতকালীন অধিবেশনের শেষ দিন হওয়ায় বিরোধীদের আশঙ্কা, উচ্চকক্ষেও দ্রুত বিলটি পাশ করানোর চেষ্টা করবে সরকার।

 

spot_img

Related articles

দুদিনের সফরে শহরে শাহ: ‘জিতবই’ বার্তা দলীয় কর্মীদের

বাংলায় নির্বাচন শুরুর ঘণ্টা বাজার আগেই রাজনৈতিক ডেইলি প্যাসেঞ্জারিতে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বরা। প্রতি সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী, সভাপতি থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর...

কমিশনের জন্য পেশায় টান: হাই কোর্টের দ্বারস্থ LIC কর্মীরা, ব্যাখ্যা তলব আদালতের

রাজ্যের কর্মীদের পরে এবার কেন্দ্র সরকারের কর্মীরাও এসআইআর-এর অপরিকল্পিত পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন। পর্যবেক্ষক পদে নিযুক্ত এলআইসি (LIC)...

রাজ্য পুলিশের নতুন ডিজি পীযূষ পাণ্ডে, রাজ্যজুড়ে পুলিশ আধিকারিকদের ব্যাপক রদবদল

নির্বাচনের আগে রাজ্য পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ সব পদে রদবদলের ঘোষণা হল শুক্রবার। রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারের অবসরগ্রহণের আগেই...

মাধ্যমিকের আগে অ্যাডমিট বিভ্রাট: কড়া পদক্ষেপ হাইকোর্টের

মাধ্যমিক পরীক্ষার আগে অ্যাডমিট কার্ড নিয়ে বিভ্রাট নতুন নয়। এবছরও তার ব্যতিক্রম হল না। ফের একবার কলকাতা হাই...