Thursday, January 8, 2026

গায়ের জোরে ‘জি রাম জি’ পাশ, MGNREGA-র হত্যা! সংসদ ভবনের সিঁড়িতে রাতভর ধর্নায় তৃণমূল সাংসদরা

Date:

Share post:

ব্যাপক ঠান্ডা দিল্লিতে (Delhi)। এর মধ্যেই ‘জি রাম জি’ বিলের বিরোধিতায় পুরোনো সংসদ ভবনের সিঁড়িতে রাতভর ধর্নায় তৃণমূল সাংসদরা (TMC MP’s protest)। শুক্রবার সকালেও চলছে প্রতিবাদ। মহাত্মা গান্ধী এবং বাঙালিকে অপমানের প্রতিবাদে আগামী ১২ ঘণ্টা ধর্না দেবেন সাংসদরা। তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে ধর্নায় ছিল কংগ্রেস এবং ডিএমকে-সহ অন্যান্য সাংসদরাও। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং মহাত্মা গান্ধীর ছবির সামনে বসে ধর্নায় সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee), সাগরিকা ঘোষ (Sagarika Ghosh), মমতাবালা ঠাকুর, দোলা সেন (Dola Sen), প্রকাশ চিক বরাইক, নাদিমূল হক, সুস্মিতা দেব (Sushmita Deb), সাকেত গোখলেরা।

ভোর পাঁচটা নাগাদ ধর্নাস্থল থেকে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেন রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ। বলেন, ‘সংসদের সিঁড়িতে আমাদের ধর্না কর্মসূচি চলছে। মহাত্মা গান্ধী এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অপমান আমরা মেনে নেব না।’ ভিডিয়োর শেষে জোর দিয়ে সাগরিকা বলেন, ‘মহাত্মা গান্ধী অমর রহে।’ মোদি সরকার আইন পাস করাতে বুলডোজার কৌশল ব্যাবহার করছে বলেও অভিযোগ করেন সাগরিকা। তাঁর কথায়, ‘বিরোধীদের সঙ্গে কোনও পরামর্শ করা হচ্ছে না। বৈঠকে ডাকা হচ্ছে না। একের পর এক বিল বুলডোজার কায়দার ঠেলে পাস করিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’ তাঁর সাফ কথা, ‘মোদি সরকার দ্বিতীয়বার মহাত্মা গান্ধীকে হত্যা করল।’ বিরোধীদের ব্যাপক হট্টগোলের মধ্যেই বৃহস্পতিবার দুপুরে লোকসভায় পাশ হয় ‘বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’ অর্থাৎ ‘জি রাম জি’ বিল।

বিরোধীদের আপত্তি দু’টি জায়গায়। মনরেগা প্রকল্পের পুরো টাকা কেন্দ্রীয় সরকার দিত। কিন্তু ‘জি রাম জি’ বিলে ৬০:৪০ অনুপাতে প্রকল্পের টাকা দেবে কেন্দ্র। ফলে রাজ্য সরকারগুলির ঘাড়ে বাড়তি বোঝা চাপবে। এর সঙ্গে রয়েছে মহাত্মা গান্ধীর নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ।

বাংলাদেশে ভারতীয় উপদূতাবাসে হামলা! চিন্তা বাড়ছে নয়াদিল্লির 

মঙ্গলবার ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের নাম বদলে বিল পেশ করেন শিবরাজ চৌহান। মনরেগা (Mahatma Gandhi National Rural Employment Guarantee Act)-এর নাম পরিবর্তন করে বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ) বা VB-G RAM-G (সংক্ষেপে জি রাম জি) করার প্রস্তাব দেওয়া হয় ওই বিলে। প্রস্তাবিত বিলে ১০০ দিনের কাজের পরিমাণ ১০০ দিন থেকে বাড়িয়ে ১২৫ দিন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ ৯০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬০ শতাংশ করা হচ্ছে। ফলে রাজ্যগুলির উপর চাপ বাড়ছে। তাছাড়া আগে রাজ্যের চাহিদা অনুযায়ী, এই প্রকল্পে বরাদ্দ করা হত। এবার থেকে কেন্দ্র ঠিক করবে কোন রাজ্যে কত বরাদ্দ করা হবে। ফলে সাধারণ শ্রমিকরা ১০০ দিনের কাজ পাবেনই, তেমন কোনও নিশ্চয়তা থাকছে না। আগে এই বিলে কাজের নিশ্চয়তা ছিল।

spot_img

Related articles

তেল-যুদ্ধে ‘শাস্তি’র মুখে ভারত? পুতিনকে রুখতে এবার শুল্কের ব্রহ্মাস্ত্র ট্রাম্পের!

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আঁচ এবার সরাসরি পড়তে পারে ভারতের গায়ে। ভ্লাদিমির পুতিনকে বাণিজ্যিকভাবে কোণঠাসা করতে এবার ভারত ও চিনের...

অন্যান্য রাজনৈতিক দল বিজেপির সঙ্গে ডিল করেছে, ২০২৯-এ ওদের গল্প শেষ: বিস্ফোরক অভিষেক

“অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলি ডিল করে নিয়েছে বিজেপির সঙ্গে।“ বৃহস্পতিবার, মালদহের (Maldah) সভা থেকে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন তৃণমূলের (TMC)...

সিনেমার চরিত্রের নাম দিয়ে ছেলের নাম রাখলেন ভিকি, শুভেচ্ছা ‘উরি’ পরিচালকের 

বলিউডের তারকা দম্পতি ভিকি কৌশল ও ক্যাটরিনা ক্যাফের (Vicky Kaushal - Katrina Kaif) ছেলের নাম প্রকাশ্যে। গত বছর...

ফিরে যেতে দেব না, কর্মসংস্থান নিয়ে কথা বলব মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে: পরিযায়ী শ্রমিকদের আশ্বাস অভিষেকের, চালু হেল্প লাইন

“কয়েকটা মাস একটু সহ্য করতে হবে। কাউকে ফেরত যেতে দেব না“ বৃহস্পতিবার, মালদহে পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে সভা করে...