নারী উন্নয়নের কথা ভুলতে বসা বিজেপির নেতাদের হঠাৎই বাংলাকে দেখে নারী উন্নয়নের কথা মনে পড়েছিল। কিন্তু বাস্তবে মনের মধ্যে তাঁরা মেয়েদের যে নজরে দেখে, তার বদল যে হওয়ার নয়, ফের প্রমাণ করলেন উত্তরাখণ্ডের (Uttarakhand) বিজেপির নেতা। বিয়ে মানেই পণপ্রথায় (dowry) মেয়েদের কোনও পরিবারে কার্যত বিক্রি করা, গোবলয়ের এই সংস্কৃতি থেকে যে বিজেপির নেতারা বেরিয়ে আসতে পারেন না, তা প্রমাণ করলেন রাজ্যের মন্ত্রীর স্বামী গিরিধারী লাল সাহু (Girdhari Lal Sahu)। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিহারের মেয়েদের (Bihar women) নিয়ে করা তাঁর কুরুচিকর বক্তব্য ভাইরাল হওয়ার পরে নির্লজ্জ বিজেপি নেতা ক্ষমা চাওয়ার ধারে কাছে দিয়ে গেলেন না। পাল্টা বিরোধীদের উপর বক্তব্য বিকৃতির অভিযোগ তুললেন।

উত্তরাখণ্ডে একটি গণবিবাহের আসরে সম্প্রতি পুরুষদের মধ্যে বিয়ের প্রচার নিয়ে বক্তব্য রাখছিলেন মন্ত্রী (Uttarakhand minister) রেখা আর্যর স্বামী গিরিধারী লাল সাহু। সেখানেই তিনি দাবি করেন, বিবাহের যোগ্য মহিলা পাওয়া না গেলে বিহারে যেতে হবে। সেখানে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকায় পাওয়া যায় বিবাহযোগ্য মহিলা।

এই বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পরই সরব হয় বিরোধীরা। সেই সঙ্গে বিহার থেকেও প্রতিবাদের স্বর শোনা যায়। সম্প্রতি এই বিহার থেকে নারীর সম্মান রক্ষার জন্য সরব হয়েছিলেন আরজেডি নেতা লালু প্রসাদ যাদবের কন্যা রোহিনী আচার্য (Rohini Acharya)। নারীর সম্মান রক্ষায় ভাতা দেওয়ার পরিবর্তে তাঁদের নিজেদের বাড়িতে কীভাবে তাঁরা সম্মানের অধিকারী হবেন, তা নিয়ে নীতীশ কুমার (Nitish Kumar) সরকারের কাছে আবেদন করেছিলেন। ফের একবার গোটা দেশে উত্তরাখণ্ডের বিজেপি নেতা কার্যত প্রমাণ করে দিলেন বিহার মহিলাদের দুরবস্থার দিকটি।

স্বাভাবিকভাবেই মহিলাদের প্রতি বিজেপির দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ্যে চলে আসার পরে চাপের মুখে বিজেপি নেতা গিরিধারী লাল। তবে আশ্চর্যজনকভাবে এত বড় নক্কারজনক বক্তব্য় প্রকাশ্যে চলে আসার পরেও একবারও ক্ষমা চাওয়ার ধারে কাছে গেলেন না বিজেপি নেতা গিরিধারী লাল (Girdhari Lal Sahu)। উল্টে দাবি করলেন বোন-মেয়েদের তিনি দেবীর আসন রাখেন তাই প্রতি বছর ১০১ জন কন্যার বিয়ের জন্য গণবিবাহের আসর বসান। তাঁর বক্তব্যকে বিকৃত করে কংগ্রেস প্রচার চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।

আরও পড়ুন : বিজেপি নেতার পর ধর্মগুরু, মুস্তাফিজুর ইস্যুতে ফের রুচিহীন আক্রমণ শাহরুখকে

আদতে যে গণবিবাহের (mass marriage) আসর তিনি বসান, তা নিয়েই এবার প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কার্যত তিনি যে পণপ্রথার সমর্থনে বিহারের মতো দেশের অন্য রাজ্য থেকে মহিলাদের বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন, তা স্পষ্ট। সেখানেই প্রশ্ন উঠেছে, আদতে তিনি যে গণবিবাহের আসর বসান, সেখানেও কী এভাবেই অর্থের বিনিময়ে পাণিগ্রহণ চলে কি না, তা নিয়ে।

–

–

–

–


