বাম-বিজেপি কেউ যা করতে পারেনি, তাই করে দেখালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সরকারি উদ্যোগে মুড়িগঙ্গা নদীর উপরে তৈরি হবে চার লেনের সেতু। সোমবার, গঙ্গাসাগর সেতুর (Gangasagar Bridge) শিলান্যাস করে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী বললেন, ”শুধু মুখে বলি না, কাজে করে দেখাই।”

সোমবার দুপুরে মুড়িগঙ্গা নদীর উপরে চার লেনের ৪.৭৫ কিলোমিটার লম্বা অত্যাধুনিক সেতুর (Gangasagar Bridge) শিলান্যাস করলেন মুখ্যমন্ত্রী। খরচ হবে ১৬৭০ কোটি টাকা। এই সেতু কাকদ্বীপ ও গঙ্গাসাগরের কচুবেড়িয়াকে জুড়বে। প্রান্তিক সাগরের জীবনযাপন পাল্টে দেবে সেতু। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ”কাকদ্বীপের আট নম্বর লট থেকে কচুবেড়িয়াকে যুক্ত করবে গঙ্গাসাগর সেতু। নয়া সেতুর ফলে সাগরদ্বীপে ব্যবসার সুবিধা হবে, কর্মসংস্থান বাড়বে, জিনিসপত্রের দাম কমে যাবে। স্থানীয় কৃষিজাত পণ্যে কম খরচে আনা যাবে। পর্যটন উন্নত হবে। দ্রুত ত্রাণ পৌঁছানো যাবে।” 

রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের কথায়, “আমরা শুধু মুখে বলি না। কাজে করে দেখাই। হাজারও প্রতিকূলতা রয়েছে এখানকার মানুষের। তাই এই সেতু নির্মাণ জরুরি ছিল।” সেতুর শিলান্যাস ছাড়াও স্থানীয় ৯৬টি প্রকল্পের সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। 
উদ্বোধন হল ‘সাগরকন্যা’। ১০০ শয্যা বিশিষ্ট একটি ডরমেটরি উদ্বোধন করা হয়েছে। গঙ্গাসাগরে সারা বছর ধরে বহু পর্যটক আসেন তাই তাঁদের কথা মাথায় রেখেই এই সেতু তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে PWD ও মেসার্স লারসেন অ্যান্ড ট্রুবো লিমিটেডের মধ্যে চুক্তিপত্র বিনিময় হয়ে গেল। সবমিলিয়ে এদিন ৩৯৪ কোটি ৯৩ লক্ষ টাকা খরচে মোট ৯৬টি প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী।
আরও খবর: ব্রিগেডে পরিদর্শনে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে ‘বিজেপির চামচা’ হুমায়ুন

এদিন মঞ্চ থেকে সরকারি পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠানও ছিল। সবুজসাথীর সাইকেল, লক্ষ্মীর ভান্ডারের স্যাংশন পত্র, রূপশ্রী, কন্যাশ্রী, স্বাস্থ্যসাথীর প্রকল্পের স্যাংশান পত্র দেওয়া হয়েছে। সোমবার এই সেতুর শিলন্যাস হলেও দু’বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ৮০ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ হয়ে গিয়েছে। বাকি জমিও খুব তাড়াতাড়ি অধিগ্রহণ করা হবে বলে জানান হয়েছে।

–

–

–

–

–


