SIR হয়রানির বিরুদ্ধে এবার আদালতে যাবেন। সোমবার, গঙ্গাসাগর সেতুর (Gangasagar Bridge) শিলান্যাস করে হুঁশিয়ারি দিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এই অভিযোগে রবিবারই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার সরাসরি আদালতে যাওয়ার কথা জানালেন মমতা।

এদিনের অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে SIR নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে (BJP) এক তিরে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ”আমরা আইনের সাহায্য নিচ্ছি। আগামিকাল কোর্ট খুলবে। আইনের পথে যাব। প্রয়োজন পড়লে আমিও সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) মানুষের হয়ে প্লিড করব।” তিনি একজন আইনজীবী তা মনে করিয়ে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান বলেন, ”আইনজীবী হিসেবে নয়, আমি যাব একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে। কথা বলার অনুমতি নেব। গ্রাউন্ড লেভেলে কী চলছে, তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখানোর চেষ্টা করব।”

নাম না করে এ দিনও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকেও কটাক্ষ করেন মমতা (Mamata Banerjee)। তাঁর কথায়, ”মিস্টার ভ্যানিশ কুমার, নো ডিটেনশন ক্যাম্প ইন বেঙ্গল।” SIR-এ পর্যাপ্ত সময় না দেওয়া নিয়েও সুর চড়ান মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, SIR-এ নাম তুলতে সকলেই চান। কিন্তু বছর দু’য়েক সময় নিয়ে হওয়া দরকার ছিল। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, গায়ের জোরে তাড়াহুড়ো করে কাজ করতে গিয়ে বহু মানুষের মৃত্যু ও আত্মহত্যার চেষ্টা হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, “হিয়ারিংয়ের নামে মানুষের হেনস্থা করা হচ্ছে। আপনার মা যদি ৮৫ বছর বয়সে টেনে নিয়ে যায়—তখন কী উত্তর দিতেন?” কটাক্ষ করে মমতা বলেন, “কমিশন এখন নাকি হোয়াটসঅ্যাপে চলছে! হোয়াটসঅ্যাপ কিনে নিয়েছে নাকি—কে জানে! তবে এই জিনিস আমরা বরদাস্ত করব না।” মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ৫৪ লক্ষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, অথচ তাঁদের ৭ নম্বর বা ৮ নম্বর ফর্ম জমা দেওয়ার অধিকার ছিল। এরপরই নিশানা করে মমতার বার্তা, “মানুষের অধিকার ভ্যানিশ করলে—আপনারাও ভ্যানিশ হয়ে যাবেন”।
এদিন সভামঞ্চ থেকে কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও তোপ দাগেন মমতা। অভিযোগ করেন, “দিল্লির এক বড় নেতা বলেছেন—লক্ষীদের ভোটের দিন বেরোতে দেবেন না। এটা কি ক্রিমিনাল অফেন্স নয়?” এর পরেই হুঙ্কার নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি বলি—তুমি বাংলার লক্ষীদের চেনো না। আঘাত করলে পাল্টা প্রত্যাঘাত হবে।”

মুখ্যমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, “ভোটের মুখে বাংলায় অশান্তি পাকানোর ছক হচ্ছে। লুকিয়ে লুকিয়ে দেখা হচ্ছে—কোথাও টুক করে গণ্ডগোল করা যায় কি না। একটু কিছু হলেই চিৎকার শুরু করবে!” প্রতিটি এলাকার মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শও দেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। বলেন, “মনে রাখবেন, ওদের অচল করতে হবে। তাই কোনও প্ররোচনায় পা দেবেন না।”

–

–

–

–

–

