বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাংলার উপর কেন্দ্রীয় এজেন্সি দিয়ে চাপ বাড়ানোর কৌশল করছে মোদি সরকার। এবার রাজ্য পুলিশের পরবর্তী ডিজি (DGP) নিয়োগকে কেন্দ্র-রাজ্য প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতা তীব্র আকার ধারণ করেছে। পরবর্তী ডিজিপি-র নাম প্রস্তাব করে রাজ্য সরকারের (State Government) পাঠানো প্যানেল এমপ্যানেলমেন্ট কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছিল, তা ফেরত পাঠিয়েছে ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন। পাশাপাশি UPSC তরফে রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে পাঠানো চিঠিতে ডিজি পদে রাজীব কুমারের নিয়োগ নিয়েও একাধিক প্রশ্ন তোলা হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রের মতে, এই চিঠির পর ফলে শুধু নতুন ডিজিপি নিয়োগ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে তাই নয়, বর্তমান ডিজিপি রাজীব কুমারকে (Rajiv Kumar) বেছে নেওয়ার পুরো প্রক্রিয়াই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কেন্দ্র। এখন সুপ্রিম কোর্টই এর সমাধান করতে পারে বলে ইউপিএসসি তরফে জানানো হয়েছে।

১৬ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল স্পষ্ট জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের DGP পদ শূন্য হয় ২০২৩ সালের ২৭ ডিসেম্বর। পদ্ধতি মেনে ইউপিএসসি-র এমপ্যানেলমেন্ট কমিটির কাছে রাজ্যের প্রস্তাব পাঠানোর কথা ছিল অন্তত তার তিন মাস আগে। কিন্তু তার করা হয়নি। ট্রাইব্যুনাল পর্যবেক্ষণে বলেছে, প্রশাসনিক দেরির কারণে কোনও যোগ্য অফিসারের ডিজি পদে বিবেচিত হওয়ার অধিকার খর্ব করা যায় না। বিশেষ করে যাঁদের অবসর আসন্ন, তাঁদের ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি বলেও মন্তব্য করেছে ট্রাইব্যুনাল। এই কারণেই ইউপিএসসিকে অ্যাটর্নি জেনারেলের মতামত দ্রুত নিয়ে এমপ্যানেলমেন্ট প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটেই দিল্লির সেন্ট্রাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনালের সাম্প্রতিক নির্দেশও সামনে এসেছে।

চিঠিতে কেন্দ্রের তরফে অভিযোগে, ডিজি নিয়োগ সংক্রান্ত প্রস্তাব ও নথিতে বেশ কিছু অসঙ্গতি রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) নির্দেশিকা ও ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশনের নির্ধারিত গাইডলাইন ঠিক ভাবে মানা হয়েছে কি না- সেই বিষয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এই অবস্থায় রাজ্যকে নতুন করে প্রস্তাব পাঠানোর ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, রাজ্য সরকারের তরফে যে ১০ IPS অফিসারের নাম পাঠানো হয়েছিল, সেই তালিকা এবং প্যানেল গঠনের সময়সীমা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ইউপিএসসির গাইডলাইন অনুযায়ী, শূন্যপদ তৈরি হওয়ার অন্তত তিন মাস আগে সম্পূর্ণ প্রস্তাব পাঠানো বাধ্যতামূলক। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে সেই সময়সীমা মানা হয়েছে কি না, তা নিয়েও কেন্দ্রীয় স্তরে আপত্তি উঠেছে।

সব মিলিয়ে, ডিজি নিয়োগ নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রের টানাপোড়েন নতুন মাত্রা পেল বলেই মনে করছেন প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা। একদিকে সিএটি-র নির্দেশ, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে প্যানেল ফেরত পাঠানো- এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে রাজ্য প্রশাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এখন দেখার, রাজ্য সরকার কীভাবে নতুন করে প্রস্তাব পাঠায় এবং সেই প্রক্রিয়ায় বর্তমান ডিজিপি রাজীব কুমারের অবস্থান ঠিক কোন দিকে যায়।

–

–

–

–

–


