রূপনারায়ণ নদীতে পলি জমে জলপ্রবাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দূর করতে এবং কোলাঘাট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন নির্বিঘ্ন রাখতে বড়সড় ড্রেজিং প্রকল্প হাতে নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। প্রায় ১৯ কোটি ৫৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে দুই বছরের এই প্রকল্পের জন্য ইতিমধ্যেই দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

রাজ্য বিদ্যুৎ উন্নয়ন নিগম সূত্রে খবর, জোয়ারভাটার প্রভাবে বর্ষা ছাড়া বছরের বেশিরভাগ সময় রূপনারায়ণ নদীতে পলি জমে জলবাহি চ্যানেলগুলির গভীরতা কমে যায়। এর ফলে কোলাঘাট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কুলিং ওয়াটার সরবরাহে সমস্যা দেখা দেয় এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলাতেই দীর্ঘমেয়াদি ড্রেজিংয়ের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় নিয়মিত ড্রেজিংয়ের পাশাপাশি নদীর তলদেশের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণের জন্য হাইড্রোগ্রাফিক ও বাথিমেট্রিক সমীক্ষা করা হবে। এছাড়াও ড্রেজারের কর্মক্ষমতা যাচাই, জলজ আগাছা ও ভাসমান আবর্জনা অপসারণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইনটেক পয়েন্টের কাছে প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ নদীচ্যানেলে নির্দিষ্ট গভীরতা ও প্রস্থ বজায় রাখতে অন্তত দুটি আধুনিক কাটার সাকশন ড্রেজার মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি ইনটেক পাম্প হাউসের ডলফিন মাউথ এলাকায় থাকা সংগ্রহকারী পুকুরের রক্ষণাবেক্ষণও করা হবে, যাতে জোয়ারের সময় পলি জমে না যায়।
বিদ্যুৎ দফতরের আধিকারিকদের মতে, এতদিন স্বল্পমেয়াদি ড্রেজিংয়ের উপর নির্ভর করলেও এবার ধারাবাহিক ও দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের দিকেই জোর দেওয়া হচ্ছে। কোলাঘাট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র দক্ষিণবঙ্গের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। তাই নতুন উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যমান পরিকাঠামো সুরক্ষিত রাখাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সূত্রের খবর, দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর চলতি মাসের মধ্যেই কাজ বরাদ্দ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বরাদ্দপত্র জারি হলেই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন- বিদেশে থাকা ভোটারদের জন্য এসআইআরের শুনানিতে ছাড় ঘোষণা কমিশনের

_

_

_

_

_
_


