বাংলা জুড়ে এসআইআর (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন) সংক্রান্ত শুনানি কার্যত হেনস্থার রূপ নিয়েছে—এই অভিযোগ তুলে শনিবার বিকেলে নির্বাচন কমিশনের সিইও দফতরে বৈঠকে বসেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিরা। শুনানির পরিধি, সময়সীমা ও প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলে কমিশনের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেন তাঁরা।

তৃণমূলের অভিযোগ, শুরুতে জানানো হয়েছিল কেবলমাত্র ‘অ্যানম্যাপড’ ভোটারদেরই শুনানিতে ডাকা হবে। সেই অনুযায়ী সংখ্যাটি ছিল প্রায় ৫৮ লক্ষ। কিন্তু পরে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’-র যুক্তি দেখিয়ে সেই সংখ্যাকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে প্রায় ১ কোটি ৩৪ লক্ষ ভোটারকে শুনানির আওতায় আনা হয়েছে। কমিশনই জানিয়েছে, ৩১ জানুয়ারি এই শুনানির শেষ দিন। অথচ হাতে থাকা সময়ের মধ্যে এত বিপুল সংখ্যক ভোটারের শুনানি আদৌ সম্পন্ন হবে কি না, তা নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছে শাসক দল।

এই প্রেক্ষিতেই শনিবার সিইও দফতরে যান ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, মহুয়া মৈত্র, পার্থ ভৌমিক ও বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়। বৈঠকে তাঁরা প্রশ্ন তোলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি শুনানি শেষ না হয়, তবে কি সংশ্লিষ্ট ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে? কমিশনের সফটওয়্যার বা প্রক্রিয়াগত ত্রুটির দায় কেন সাধারণ ভোটারদের ঘাড়ে চাপানো হবে—এই প্রশ্নও ওঠে বৈঠকে।
বৈঠক শেষে কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানান ফিরহাদ হাকিম। তাঁর বক্তব্য, এসআইআর শুনানি ও তথাকথিত লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি এখন এক প্রহসনে পরিণত হয়েছে। সাধারণ মানুষ কীভাবে হেনস্থার শিকার হচ্ছেন, তা কমিশনের চোখে পড়ছে না বলেই অভিযোগ তাঁর। পাশাপাশি, কমিশনের নির্দেশিকা নিয়ে বিভ্রান্তির কথাও তুলে ধরেন তিনি। অভিযোগ, প্রায় প্রতিদিন হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নতুন নির্দেশ আসছে, আবার পরদিন তা বদলে যাচ্ছে। ফলে বিএলও ও ইআরও স্তরেও কেউ স্পষ্ট করে বুঝতে পারছেন না কী করতে হবে।

সাংসদ মহুয়া মৈত্রও একই সুরে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, প্রথমে বলা হয়েছিল ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকলে কোনও সমস্যা হবে না। এরপর অ্যানম্যাপড ভোটারদের শুনানির কথা বলা হয়। পরে আবার নতুন করে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’র নামে আরও প্রায় দেড় কোটির কাছাকাছি ভোটারকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে। বর্তমান গতিতে আদৌ সবার শুনানি সম্ভব কি না এবং সম্ভব না হলে তার পরিণতি কী হবে—এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর চায় তৃণমূল। সব মিলিয়ে, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে সাধারণ মানুষকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ শাসক দলের। কমিশনের তরফে এখনও এই প্রশ্নগুলির কোনও স্পষ্ট জবাব মেলেনি।

আরও পড়ুন- ডাকটিকিটে দেব! আবেগে আপ্লুত অনুরাগীরা

_

_

_

_
_


