এক হাজারেরও বেশি অনুদানহীন মাদ্রাসাকে (Madrasa Education) স্বীকৃতি দিচ্ছে রাজ্য সরকার (Nabanna)। নতুন স্বীকৃত এই মাদ্রাসাগুলিতে কর্মরত শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারীদের যোগ্যতা যাচাইয়ের কাজ বর্তমানে জেলা স্তরে দ্রুতগতিতে চলছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলেই ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে তাঁদের নিয়মিত মাসিক সাম্মানিক প্রদান শুরু হবে। রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন মাসের বকেয়া সাম্মানিকও পাবেন। এই নতুন পর্যায়ের সাম্মানিক প্রদানের জন্য রাজ্য অর্থ দফতর আগামী এক বছরের জন্য ইতিমধ্যেই ৩৪ কোটি ৪৭ লক্ষ ৭২ হাজার টাকা মঞ্জুর করেছে।

প্রসঙ্গত, মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে সমান্তরাল করে তুলতে রাজ্য সরকার দীর্ঘদিন ধরেই একাধিক সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রথম পর্যায়ে ২৩৫টি অনুদানহীন মাদ্রাসাকে স্বীকৃতি প্রদান করে ২০২১ সাল থেকে সেখানে কর্মরত শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের নিয়মিত সাম্মানিকের আওতায় আনা হয়। একই সঙ্গে ওই মাদ্রাসাগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নে এ পর্যন্ত প্রায় ৩১ কোটি টাকা ব্যয় করেছে রাজ্য সরকার। আরও পড়ুন: ইউনূসের শাসনে বাংলাদেশ জুড়ে বেড়েছে অপরাধ, তথ্য প্রকাশ্যে

স্বীকৃতির পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা বিস্তারের দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে রাজ্যের ৬০০টি মাদ্রাসায় ১,২০০টি স্মার্ট ক্লাস চালু রয়েছে। এছাড়া ১১৫টি মাদ্রাসায় স্থাপন করা হয়েছে কম্পিউটার ল্যাব। গ্রন্থাগার উন্নয়নের লক্ষ্যে বই বিতরণ ও নতুন বই ক্রয়ের জন্য একাধিক আর্থিক বরাদ্দ ঘোষণা করা হয়েছে। বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসারে ৭৬টি মাদ্রাসায় সায়েন্স ল্যাব আধুনিকীকরণের কাজও চলমান। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৯,৮৯০ জন শিক্ষক এবং ৭৭৪ জন অশিক্ষক কর্মচারী নিয়োগ পেয়েছেন। সম্প্রতি সপ্তম এসএলএসটির মাধ্যমে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি গ্রুপ-ডি পদে নিয়োগ প্রক্রিয়াও শেষ হয়েছে। প্রশাসনিক মহলের দাবি, স্বীকৃতি, আর্থিক সুরক্ষা এবং আধুনিক পরিকাঠামোর সমন্বয়ে রাজ্যের মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও সময়োপযোগী করে তুলতেই এই উদ্যোগ।

–

–

–

–

–

–

–


