বাঙালির পদবি লেখার ধরন কি তার ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার কারণ হতে পারে? নির্বাচন কমিশনের ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা যুক্তিহীন অসঙ্গতির গেরোয় সাধারণ মানুষের হয়রানি নিয়ে এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন বিশিষ্ট কবি জয় গোস্বামী। ‘দেশ বাঁচাও গণমঞ্চ’ নামক একটি সংগঠনের তরফে এই জনস্বার্থ মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের এজলাসে মামলাটির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন জয় গোস্বামীর আইনজীবী।

মামলাকারীর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন বাংলায় ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বৈধ ভোটারদের মারাত্মক হেনস্থা করছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, আধার কার্ডে যে পদবি রয়েছে, ভোটার তালিকায় তার চেয়ে সামান্য আলাদা বানান বা ধরন থাকায় সেটিকে ‘সন্দেহজনক’ তালিকায় ফেলে দেওয়া হচ্ছে। আইনজীবীর যুক্তি, কমিশন মানতে নারাজ যে ‘মুখোপাধ্যায়’ এবং ‘মুখার্জি’ আসলে একই ব্যক্তির পদবি হতে পারে। পদবি লেখার এই ভাষাগত পার্থক্যের কারণে সাধারণ মানুষের পরিচয়পত্র বা আধার কার্ডকেও গুরুত্ব দিচ্ছে না কমিশন।

আদালতে সওয়াল করতে গিয়ে জয় গোস্বামীর আইনজীবী বলেন, কমিশনের এই মনোভাব পুরোপুরি স্বেচ্ছাচারিতার নামান্তর। এর ফলে বাংলার এক বিশাল অংশের মানুষ শুধুমাত্র পদবি সংক্রান্ত জটেই নিজেদের ভোটাধিকার হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত মামলাকারীর সওয়াল শোনার পর জানান, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং গুরুত্ব পাওয়ার যোগ্য। আগামী সোমবার এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে সুপ্রিম কোর্ট।

আরও পড়ুন- ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের জমি হস্তান্তরের নির্দেশ হাই কোর্টের

_

_

_

_

_

_


