শুধুমাত্র বাংলার ক্ষমতা দখল করার জন্য নির্বাচন কমিশন কতটা নিচে নামতে পারে, ফের একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। একদিকে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) নির্দেশের পরেও নিত্য নতুন নিয়ম করে বাংলার ভোটার কমিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র। অন্যদিকে, বাংলার যে আধিকারিকরা তথ্যের ভিত্তিতে কাজ করতে চাইছেন, তাঁদের হোয়াটসঅ্যাপে হুমকি দিয়ে নিজেদের কাজ হাসিল করার পন্থা নির্বাচন কমিশনের (Election Commission)। মঙ্গলবার ফের কলকাতার সিইও দফতরে (CEO Office) গিয়ে কমিশনের এই কারচুপি নিয়ে সত্য ফাঁস তৃণমূলের।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে দেখা করে ডেপুটেশন জমা দেয় তৃণমূলের ৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল। ছিলেন সাংসদ দোলা সেন, পার্থ ভৌমিক, মহুয়া মৈত্র, বাপি হালদার এবং রাজ্যের মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা। সেখানেই প্রশ্ন তোলা হয় বাংলায় যে মাইক্রো অবজার্ভার (Micro Observer) নিয়োগ করা হয়েছে তা কোন আইনে স্বীকৃত। রাজ্য সিইও দফতর (CEO Office) দিল্লির নির্বাচন কমিশনের কাছে সুপারিশ করে এই পদ তৈরির আবেদন করেছিল। পরে দিল্লি তাতে সম্মতি দিলে এই পদ তৈরির হয়। অথচ স্ট্যাটুট অনুযায়ী এই পদের কোনও অস্তিত্ব নেই।

বাংলায় এসআইআর পর্ব চলাকালীন এই মাইক্রো অবজার্ভারদের কথাতেই রাজ্যের শীর্ষ পদাধিকারী আধিকারিকদের কাজ করতে হচ্ছে। সেখানেই তৃণমূলের প্রশ্ন, কেন্দ্র সরকারের নিম্নপদস্থ পদাধিকারীদের নির্দেশে কাজ করতে হচ্ছে অতিরিক্ত জেলাশাসক, মহকুমা শাসক পদাধিকারী আধিকারিকদের। এমনকি সেই সব নির্দেশ হুমকি সুরে দেওয়া হচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপে। যেখানে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ করতে তৎপর সুপ্রিম কোর্ট, সেখানে বাংলায় এখনও হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) কারচুপি চালাচ্ছে কমিশন।

লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি (logical discrepancy) নিয়ে যে খেলা নির্বাচন কমিশন এখনও খেলে চলেছে তা নিয়েও সরব হন তৃণমূল প্রতিনিধিদল। স্পষ্ট প্রশ্ন করা হয়, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকার সঙ্গে আনম্যাপড (unmapped) ভোটারদের তালিকা একসঙ্গে প্রকাশ করা হল। সুপ্রিম কোর্ট লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকা প্রকাশেরই নির্দেশ দিয়েছিল।

আরও পড়ুন : বিয়ের দিনে SIR শুনানিতে ডাক! বরযাত্রী নিয়ে হেয়ারিং সেন্টারে হাজির বর

সেই সঙ্গে সাংসদ বাপি হালদার তুলে ধরেন, কীভাবে খসড়া ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও বাংলার লক্ষ লক্ষ মানুষ পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা থেকে বাদ হয়ে যাবেন। খসড়া ভোটার তালিকায় (draft voter list) যাঁদের নাম রয়েছে তাঁরা ম্যাপড ভোটার। তা সত্ত্বেও তাঁদের লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির আওতায় ফেলা হচ্ছে। সেই তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের নথির চাপ এমনভাবে দেওয়া হচ্ছে যে তাঁরা নির্দিষ্ট নথি দিলেও তা গ্রাহ্য হচ্ছে না। তৃণমূল প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেন, শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দলকে সুবিধা পাইয়ে দিতে গোটা প্রক্রিয়ায় এভাবে কারচুপি চালাচ্ছে নির্বাচন কমিশন।

–

–

–

–


