সিনেমার জন্য আর কণ্ঠ দেবেন না অরিজিৎ সিং (Arijit Singh)। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই রীতিমতো স্তম্ভিত অনুরাগীরা। গোটা বিষয়টাকে বিশ্বাস করে উঠতে পারছে না শিল্পী মহল। যাঁর কন্ঠের জাদুতে সিলভার স্ক্রিনে ফুটে ওঠে শাহরুখ খান (SRK) থেকে রণবীর সিং, বরুণ ধাওয়ানদের সিনেমাটিক ইমোশন, যিনি অনায়াসে দেব (Dev) বা জিতের জন্য উপযুক্ত সুরেলা অভিব্যক্তি ফুটিয়ে তুলতে পারেন, যাঁর কনসার্ট দেখতে ভক্তদের বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাস উৎসাহিত করে সংগীত মহলকে সেই গায়কের তরফে সিনেমার গান না গাওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর অনুরাগীদের পক্ষে সহজে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। তাই প্রত্যাশা মতোই প্রতিক্রিয়ার বন্যা।


সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে নানা মানুষের নানা মত। অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় (Subhashree Gangopadhyay) এখনও বিশ্বাস করে উঠতে পারছেন না।


রাজ চক্রবর্তী (Raj Chakraborty) ভেবেছিলেন, ‘হোক কলরব’ সিনেমার একটি গান অরিজিৎকে দিয়ে গাওয়াবেন। সেটা আর হলো না, আফসোস পরিচালকের। অভিনেতা টোটা রায়চৌধুরীর (Tota Roychowdhury) কথায়, এটা বিনা মেখে বজ্রপাতের মতো। সুরকার ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত (Indradeep Dasgupta) তাঁর প্রতিক্রিয়ায় জানান, ‘এটা অরিজিতের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। যে কোনও শিল্পীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে সম্মান দেওয়া উচিৎ। ও গান গাওয়া আগেও বন্ধ করেছেন। এমনটা একেবারেই নয় যে, ও আগে বন্ধ করেনি। ওঁর অনেক গান গাওয়া আছে। সেগুলো তো এখনও বেরবে। দেখা যাক না, কী হয়!’


বলিউডের মেল প্লেব্যাক ও অরিজিৎ যখন প্রায় সমার্থক হয়ে উঠেছে তখন ৩৮ বছর বয়সী শিল্পীর সিদ্ধান্তে মন খারাপ অজস্র অনুরাগীর।

মিউজিকাল ক্যারিয়ার থামছে না, তাহলে সিনেমায় গান গাওয়া বন্ধ করছেন কেন? অরিজিতের কণ্ঠ আর গানের স্টাইলের অন্যতম ভক্ত সুরকার জিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Jeet Ganguly) বলছেন, “আমাদের দেশে শুধুই তো ছবির গান রয়েছে, এমন নয়। লোকগান, কীর্তন, রাগপ্রধান, গজ়ল— নানা দিক খোঁজার প্রচেষ্টা কমই করি আমরা। একজন শিল্পীর যদি মনে হয়, তিনি ছবির গান গাইবেন না। নন-ফিল্ম মিউজ়িকে মন দেবেন তা, করতেই পারেন। ওটাও আমাদের কাছে বড় পাওনা হবে।ও হয়তো নতুন কিছু খোঁজার চেষ্টা করছে, সেটা পাচ্ছে না। তাই নতুন করে খুঁজতে চাইছে। আমি যতটা চিনি অরিজিৎকে, ও খুবই সৎ এবং স্পষ্টবাদী। তাই ও নতুন কোনও কাজ করতে চাইলে, আমি স্বাগত জানাচ্ছি। ও যা করবে, সেটা ভালই হবে।” ১টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং ৭টি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার জিতেছেন তিনি। গত বছরই পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। ২০০৫ সালে ‘ফেম গুরুকুল’-এর প্রতিযোগী হিসেবেই প্রথম সকলের নজর কাড়েন অরিজিৎ। ‘মার্ডার ২’ সিনেমায় গান গাওয়ার পর থেকে আর ফিরে তাকাতে হয়নি। কিন্তু তিনি আচমকা প্লেব্যাক থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এ যেন ভাবনারও অতীত ছিল।

টলিপাড়ার তরুণ তুর্কি জন ভট্টাচার্য (John Bhattacharya) বলছেন, উনি কেন এরকম সিদ্ধান্ত নিলেন জানিনা কারণ আমরা ওনার গান শুনে বেঁচে আছি। জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত অভিযুক্ত অনন্যা চট্টোপাধ্যায়ের (Ananya Chatterjee) কথায়, “এটা শ্রোতাদের জন্য দুঃসংবাদ।” যদিও আরেক সংগীতশিল্পী ইমন চক্রবর্তী (Imon Chakroborty)অবশ্য অরিজিতের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলছেন,”এই সিদ্ধান্তে খুব অবাক হইনি। কারণ, সঙ্গীত তো শুধু প্লেব্যাক নয়। এর চেয়ে আরও ভালো কিছু হয়তো ওঁর করার আছে। সাধুবাদ জানাই এই সিদ্ধান্তে। যাঁরা স্বাধীনভাবে সঙ্গীত নিয়ে কাজ করেন, তাঁদের হয়তো সাহস আরও বাড়বে। মনের জোর বাড়বে।”


সমাজমাধ্যমে অরিজিতের তরফ থেকে এই সংক্রান্ত পোস্ট ছড়াতেই মনখারাপ শিল্পীর অনুরাগীদের। এ খবর অনভিপ্রেত। তাই তা মেনে নেওয়া সহজ নয়। মুর্শিদাবাদের ছেলেটার গাওয়া গানের কথা ধরেই বলা যায়, ‘তেরে বিনা গুজারা, অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল..’।

–

–

–
–
–
–
–

