রাজ্য বাজেটে লক্ষীর ভাণ্ডার প্রকল্পের ভাতা ৫০০ টাকা বৃদ্ধির ঘোষণার পর জেলায় জেলায় শুরু হয়েছে তৃণমূলের বিজয় উৎসব ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন কর্মসূচি। সেই আবহেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কৃতজ্ঞতা জানাতে পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি দেশপ্রাণ ব্লকের আমতলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় এক বিশাল মিছিল ও পথসভার আয়োজন করল তৃণমূল মহিলা কংগ্রেস।


রবিবার আমতলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান আনসার দপ্তরীর নেতৃত্বে এই কর্মসূচিতে মহিলাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ঘোড়াঘাটা স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি ফুলবাড়ী বাজার পর্যন্ত দীর্ঘ পথ পরিক্রমা করে। মিছিলের অগ্রভাগে থাকা মহিলাদের হাতে ছিল মুখ্যমন্ত্রীর ছবি সংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুন। শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনির মাধ্যমে এলাকা কার্যত উৎসবের মেজাজ নেয়। পদযাত্রা শেষে ফুলবাড়ী বাজারে আয়োজিত পথসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তম বারিক। মঞ্চ থেকে তিনি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে তীব্র আক্রমণ শানান। সম্প্রতি বিধানসভায় শুভেন্দু অধিকারীর ‘এবার জিতবে সনাতন’ মন্তব্যের প্রেক্ষিতে উত্তমবাবু বলেন, “বিরোধী দলনেতা সনাতনী কার্ড খেলে বিভাজনের রাজনীতি করতে চাইছেন। কিন্তু তিনি দেখে নিন, সত্যিকারের সনাতনীরা আজও তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গেই আছেন।” সভাস্থলে উপস্থিত মহিলাদের হাত তুলতে বলে তিনি কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন বিরোধী শিবিরের প্রতি।


এদিনের সভায় উপস্থিত ছিলেন দেশপ্রাণ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি দেবাশীষ ভূঁইয়া, ব্লক যুব সভাপতি শংকর বারিক, পুলীন বিহারী নায়েক, লালমোহন মন্ডল ও গোপাল দাসের মতো নেতৃত্ব। বক্তারা বলেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের এই ভাতা বৃদ্ধি গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং মহিলাদের আত্মনির্ভরশীল হতে সাহায্য করবে। তাঁদের দাবি, কেন্দ্র যখন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের পকেটে টান দিচ্ছে, তখন মুখ্যমন্ত্রী ভাতার পরিমাণ বাড়িয়ে সাধারণ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। পুরো কর্মসূচিটি ঘিরে আমতলিয়া ও ফুলবাড়ী এলাকায় রাজনৈতিক তৎপরতা ছিল তুঙ্গে। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এই জনসমুদ্রই প্রমাণ করে দিচ্ছে যে আগামী দিনেও সাধারণ মানুষ এবং বিশেষ করে মহিলারা তৃণমূলের পাশে অটুট থাকবেন।
আরও পড়ুন- কমিশন যেন ‘যেমন খুশি সাজো’র মঞ্চ, কমিশনার ‘টেলার স্যার’

_

_

_

_

_

_

_

