Tuesday, March 24, 2026

বেলডাঙায় NIA তদন্ত নিয়ে সুপ্রিম প্রশ্নের মুখে কেন্দ্র, মামলা ফিরল হাইকোর্টে 

Date:

Share post:

বেলডাঙায় অশান্তির ঘটনায় কেন্দ্রীয় এজেন্সির তদন্ত করা নিয়ে হাইকোর্টের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করল না সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। তবে বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের (UAPA) ১৫ নম্বর ধারা প্রয়োগের ব্যাপারে পর্যাপ্ত তথ্য এনআইএ-র কাছে আছে কি, কলকাতা হাইকোর্টকে (Calcutta High Court) এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। এনআইএ তাদের তদন্ত সংক্রান্ত স্ট্যাটাস রিপোর্ট মুখবন্ধ খামে জমা দেবে কলকাতা হাইকোর্টে৷ এদিন বিচারপতি জয়মাল্য ভাবছি স্পষ্ট বলেন কোন আবেগের বহিঃপ্রকাশ মানেই দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়বে এমনটা সব ক্ষেত্রে হয় না। তাছাড়া ২০২৫ সালের এপ্রিলে মুর্শিদাবাদে অশান্তির ঘটনায় হাইকোর্টের তরফে বারবার বলা হলেও NIA মোতায়েন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়নি কেন্দ্র। তাহলে বেলডাঙার ক্ষেত্রে সব তথ্য যাচাই না করে কেন কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে ব্যবহার করা হচ্ছে এ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি বাগচী। দুটি ঘটনার ক্ষেত্রে দু’রকম অবস্থান কেন তার কোনও সদুত্তর দিতে পারিনি কেন্দ্র।

বুধবার সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের সমালোচনার পাশাপাশি নির্দেশ দিয়েছে যে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে রাজ্য সরকার তাদের অভিমত জানাতে পারবে৷ তৃণমূলের তরফে বলা হচ্ছে, নির্বাচন সামনে এসে যাওয়ায় কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে দলীয় সংগঠন হিসেবে ব্যবহার করছে বিজেপি। এটা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর পর্যবেক্ষণের পর এদিনের সুপ্রিম রায় নিয়ে কেন্দ্রের অস্বস্তি বাড়ছে। বার অ্যান্ড বেঞ্চের তরফে এই রায় সংক্রান্ত যে অফিশিয়াল পোস্ট করা হয়েছে তাকে রিটুইট করেছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ।

ঝাড়খণ্ডে পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গত মাসে অশান্ত হয় বেলডাঙা। টানা প্রায় ৩০ ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায়। ভাঙচুর, রেল অবরোধ, জাতীয় সড়কে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে।সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অশান্তির ঘটনায় যুক্ত অভিযুক্তদের গ্রেফতারও করা হয়। তবে হাই কোর্টের নির্দেশের পর এই মামলার তদন্তভার যায় NIA-র হাতে। এরপরই সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য। বুধবার সেই মামলার শুনানিতে ইউএপিএ-র ১৫ নম্বর ধারা প্রয়োগের প্রসঙ্গ ওঠে। সেই সম্পর্কে বিচারপতি বাগচীর বলেন, ‘‘প্রত্যেক আবেগঘন বা উত্তেজিত ঘটনার সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার হুমকি জুড়ে দেওয়া যায় না। যদি বিস্ফোরক ব্যবহার না-হয়ে থাকে এবং দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নষ্ট করার উদ্দেশ্য প্রমাণিত না-হয়, তা হলে ইউএপিএ-র ধারা ১৫ প্রয়োগের প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ, এনআইএ নথিপত্র পুরোপুরি পরীক্ষা না করেই ধারা ১৫ প্রয়োগ করেছে। এই সিদ্ধান্ত সঠিক কি না, তা কলকাতা হাইকোর্টই বিচার করবে।’

 

Related articles

প্রকাশিত হল প্রথম সাপ্লিমেন্টারি ভোটার লিস্ট! কীভাবে দেখবেন? জানুন

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সোমবার রাত বারোটার ঠিক কয়েক মিনিট আগে প্রথম অতিরিক্ত ভোটার তালিকা (সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট) প্রকাশ...

হিংসা ও ভয়মুক্ত ভোট সুনিশ্চিত করতে কড়া নবান্ন, জেলাশাসকদের বিশেষ নির্দেশিকা মুখ্যসচিবের

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন যাতে সম্পূর্ণভাবে অবাধ, শান্তিপূর্ণ এবং ভয়মুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন হয়, তার জন্য এবার কোমর বেঁধে নামল...

ভোটের মুখে মহকুমাশাসক স্তরেও কোপ, রাজ্যে একযোগে ৭৩ জন রিটার্নিং অফিসারকে সরাল কমিশন

বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যে প্রশাসনিক রদবদলে বেনজির সক্রিয়তা দেখাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং জেলাশাসকদের...

ভোট মিটলেই ফের তদন্তের মুখে শুভেন্দু, স্থগিতাদেশ দিলেও ছাড়ল না আদালত

স্বস্তি মিলল, তবে তা নেহাতই সাময়িক। খড়দহ থানার দায়ের করা বিতর্কিত মন্তব্য সংক্রান্ত মামলায় নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের বিজেপি...