বিশ্ব পর্যটন(Tourism)মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গকে (West Bengal)এক অনন্য গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে তিলোত্তমায় অনুষ্ঠিত হলো এক মেগা কনফারেন্স। পার্ক হোটেলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের সূচনা করেন পর্যটন মন্ত্রী(Hon’ble Minister of State Tourism Department ) ইন্দ্রনীল সেন(Indranil Sen )। সঙ্গে ছিলেন বন দফতর মন্ত্রী(Hon’ble Minister of State Forest Department ) বীরবাহা হাঁসদা (Birbaha Hansda )। এই সম্মেলনের মূল মন্ত্র— ‘শেপিং দ্য ফিউচার অফ টুরিজম ইন ওয়েস্ট বেঙ্গল’ (” Shaping the future of tourism in West Bengal”)অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন খাতের কৌশলগত অগ্রাধিকারগুলি নিয়ে আলোচনা করা এবং তা বাস্তবায়িত করা ।

সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তা(Senior government officials), শিল্প নেতৃবৃন্দ(Industry leaders), থেকে শুরু করে বিনিয়োগকারী(Investors), হোটেল ব্যবসায়ী(Hoteliers), ট্যুর অপারেটর(Tour operators), সেক্টরাল অ্যাসোসিয়েশন(Sectoral association) এবং পর্যটন বিশেষজ্ঞরা (tourism experts)একত্রিত হচ্ছেন। লক্ষ্য একটাই, বাংলার পাহাড়-জঙ্গল আর গঙ্গা নদীকে কাজে লাগিয়ে গন্তব্য উন্নয়ন,পর্যটন দক্ষতা ,বিনিয়োগ এবং পিপিপি মডেলের(Public Private Partnership model) সুযোগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও আয়ের নতুন পথ প্রশস্ত করা।

বুধবার এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পর্যটন দফতরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব(Additional Chief secretory, Department of Tourism) বরুণ কুমার রায়(Barun Kumar Ray)। এদিন বক্তারা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, শুধু ভ্রমণ নয়, পর্যটকদের নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা এবং পর্যটকদের আস্থার পরিবেশ তৈরি করাই এখন রাজ্যের প্রধান লক্ষ্য। গঙ্গায় রিভার ক্রুজ(River Cruise) থেকে শুরু করে চা-বাগান (Tea garden)— বাংলাকে এক ‘মার্কেট রেডি’ গ্লোবাল ডেস্টিনেশন(Market ready global destination) হিসেবে তুলে ধরার রূপরেখা তৈরি হয়েছে এদিন।

সম্মেলনে মূলত তিনটি বিশেষ বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে:পর্যটন শিল্পে শুধু হোটেল থাকলেই হবে না, দরকার প্রশিক্ষিত কর্মী। তাই নতুন কাজের সুযোগ ও হসপিটালিটি সেক্টরে পেশাদারিত্ব বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ— যাতায়াত ব্যবস্থা আরও উন্নত করা, এয়ারপোর্ট কানেক্টিভিটি(airport connectivity) এবং টিয়ার-টু(Tire-II) শহরগুলোতে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা নিয়ে দাবি জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।এছাড়া, পরিবেশ রক্ষার্থে কীভাবে ইকো-টুরিজম(Eco- tourism) বাড়ানো যায় এবং চা-বাগান(Tea garden) বা হেরিটেজ ভবনগুলিতে(Heritage buiding) পর্যটকদের টানা যায়, তার নীল নকশা(Blue print) তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি ‘ইজ অফ ডুইং বিজনেস'(ease of doing business)-এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।

রাজ্য সরকারের লক্ষ্য হলো সারা বছর পর্যটকদের আনাগোনা বজায় রাখা। এর জন্য গঙ্গাবক্ষে নৌ-ভ্রমণ (রিভার টুরিজম), বড় বড় কনফারেন্স বা ইভেন্টের জন্য ‘মাইস’ (MICE) টুরিজম(Tourism) এবং ধর্মীয় পর্যটনকে নতুন করে সাজানো হচ্ছে। এমনকি গ্ল্যাম্পিং(Glamping)-এর মতো আধুনিক কনসেপ্টকেও সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমকে (WBTDCL) সামনে রেখে বেসরকারি বিনিয়োগের হাত ধরে বাংলা এখন পর্যটনের এক নতুন দিগন্ত হয়ে ওঠার অপেক্ষায়।

–

–

–

–
–


